প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

লেনদেনের সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে অধিকাংশ শেয়ারদর

শেখ আবু তালেব: একটানা সূচক পতনের বৃত্ত থেকে বেরিয়েছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। গত সপ্তাহে আগের চেয়ে লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে ডিএসইতে। এর প্রভাবে সপ্তাহ শেষে অধিকাংশ সিকিউরিটেজের শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে। সব সূচকই ইতিবাচক প্রবণতায় লেনদেন শেষ করেছে।
ডিএসইর সাপ্তাহিক লেনদেন তথ্য বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে এমন তথ্য। ডিএসইর তথ্য বলছে, এই সময়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের মধ্যে আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলো মিশ্র প্রবণতা দেখায় শেয়ারদর নিয়ে। ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ডগুলো সর্বোচ্চ এক দশমিক ২৮ শতাংশ গেইন করে। এর সঙ্গে দর বৃদ্ধির তালিকায় ছিল সাধারণ বিমা খাত শূন্য দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ। জীবন বিমা খাত এই সময়ে সর্বোচ্চ দুই দশমিক ৭৩ শতাংশ লোকসান গুনে। একইসঙ্গে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ দর হারায় ব্যাংক খাত।
অপরদিকে আর্থিক খাতের বাইরে থাকা সিকিউরিটিজগুলোও মিশ্র প্রবণতায় লেনদেন শেষ করে। গত সপ্তাহে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের শেয়ার সবচেয়ে বেশি গেইনারে ছিল। খাতটি এই সময়ে তিন দশমিক শূন্য দুই শতাংশ গেইনারে ছিল। একইসঙ্গে ইতিবাচক প্রবণতায় লেনদেন শেষ করে প্রকৌশল খাতও। এক দশমিক ৫৬ শতাংশ শেয়ারদর বৃদ্ধি নিয়ে প্রকৌশল খাতের সঙ্গে শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ দর বৃদ্ধিতে ছিল ওষুধ খাত। অপরদিকে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত সবচেয়ে বেশি দুই দশমিক ৯৫ শতাংশ লোকসান গুনেছে। এক দশমিক ৬৯ শতাংশ লোকসান দিয়ে এ তালিকায় ছিল টেলিকম খাতও।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ডিএসইতে ৩৫৩টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে দর বৃদ্ধি পায় ২১৪টির, কমে ১১০টির, অপরিবর্তিত ছিল ২৬টির ও লেনদেন হয়নি তিনটির।
লেনদেনে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আগের চেয়ে ১২ দশমিক ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। লেনদেন ও শেয়ারদরের বৃদ্ধি হলেও ডিএসইর বাজার মূলধন গত সপ্তাহে আগের চেয়ে শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ কমেছে।
ডিএসইর মোট লেনদেন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সপ্তাহ শেষে শেয়ারদর বৃদ্ধিতে শীর্ষে ছিল প্রযুক্তি খাতের কোম্পানি জেনেক্স ইনফোসিস। কোম্পানিটির শেয়ারদর গত সপ্তাহে আগের চেয়ে ২২ দশমিক ৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। গত ৬ ফেব্রুয়ারি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় কোম্পানিটি।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটি কর-পরবর্তী মুনাফা করে দুই কোটি ৮৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৪৭ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল তিন কোটি সাত লাখ ২০ হাজার টাকা ও ৫০ পয়সা। কোম্পানিটির আইপিও পরবর্তীকালীন হিসেবে একই প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ইপিএস হয়েছে ৩৬ পয়সা এবং কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে পাঁচ কোটি ৯৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। দুই প্রান্তিক অর্থাৎ ছয় মাস (জুলাই-ডিসেম্বর) শেষে প্রাথমিক ইপিএস ৯৭ পয়সা এবং কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ছয় কোটি ৮০ হাজার টাকা, যেক্ষেত্রে আগের বছর একই সময়ে প্রাথমিক ইপিএস ছিল ৯৮ পয়সা।
এরপরই কাট্টলি টেক্সটাইলের শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় ১৫ দশমিক ২৯ শতাংশ। শেয়ারদর বৃদ্ধিতে তৃতীয় অবস্থানে ছিলে এডভেন্ট ফার্মা। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় ১৪ দশমিক ৫২ শতাংশ।
অপরদিকে গত সপ্তাহে দরপতনের শীর্ষে ছিল অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটি গত সপ্তাহে আগের চেয়ে শেয়ারদর হারিয়েছে ১৮ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ। এছাড়া ১৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ শেয়ারদর হারিয়ে তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বহুজাতিক কোম্পানি বাটা শু। এছাড়া ১৫ দশমিক ১৪ শতাংশ শেয়ারদর হারিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মালেক স্পিনিং মিলস।

সর্বশেষ..



/* ]]> */