হোম প্রচ্ছদ লেনদেনের ৩২ শতাংশ ব্যাংক খাতের দখলে

লেনদেনের ৩২ শতাংশ ব্যাংক খাতের দখলে


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে দিন দিন ব্যাংক খাতের শেয়ারের লেনদেন বাড়ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে এ খাতের লেনদেন বেড়েছে পাঁচ শতাংশ। গেল সপ্তাহে মোট লেনদেনের ৩২ শতাংশ ছিল ব্যাংক খাতের অবস্থান। তবে আলোচিত সময়ে লেনদেনে পিছিয়ে পড়েছে প্রকৌশল খাত। এ খাতের লেনদেনে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে পাঁচ শতাংশ।

তথ্যমতে, বাজারে মোট লেনদেনের শীর্ষস্থানে রয়েছে ব্যাংক খাতের কোম্পানি। গেল সপ্তাহে মোট লেনদেনের ৩২ শতাংশ ছিল এ খাতের দখলে। আলোচিত সময়ে ব্যাংক খাতে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১৬ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহের মোট লেনদেনের ২৭ শতাংশ ছিল ব্যাংক খাতের। গেল সপ্তাহে লেনদেনের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রকৌশল খাতের অবস্থান। গেল সপ্তাহে মোট লেনদেনের মধ্যে ১১ শতাংশই ছিল প্রকৌশল খাতের দখলে। খাতটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ১১১ কোটি টাকা। আর লেনদেনের তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রকৌশল খাত। মোট লেনদেনে খাতটি অংশগ্রহণ ১০ শতাংশ এবং দৈনিক গড় লেনদেনে পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৮ কোটি টাকা। অথচ আগের সপ্তাহে এ খাতটি মোট লেনদেনের ১৫ শতাংশ দখলে ছিল এবং দৈনিক গড় লেনদেনে ছিল ১৩৫ কোটি টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে এ খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় এ খাতটি লেনদেনেও পিছিয়ে পড়েছে।

এক সপ্তাহ আগে মোট লেনদেনের ২৭ শতাংশ ছিল ব্যাংক খাতের। ওই সময় ব্যাংক খাত লেনদেনের শীর্ষস্থানে ছিল। পরের অবস্থানে ছিল প্রকৌশল খাত। আর মোট লেনদেনের ১২ শতাংশ অংশগ্রহণে তৃতীয় অবস্থানে ছিল বস্ত্র খাত। খাতটির দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১১০ কোটি টাকা।

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, যত দিন পর্যন্ত পিই রেশিও ১৫-এর নিচে অবস্থান করে তত দিন কোম্পানিগুলোয় বিনিয়োগ অধিক নিরাপদ। সে অনুযায়ী ব্যাংক খাতের পিই রেশিও আগের চেয়ে বাড়লেও তা ১০ দশমিক সাত পয়েন্টে অবস্থান করছে। এরপরেই পিই রেশিও অনুযায়ী জ্বালানি এবং বিমা খাতের অবস্থান। কিন্তু এসব খাতে কোম্পানিগুলোয় ঢিমেতালে বিনিয়োগ করছেন বিনিয়োগকারীরা। এ কারণে এসব খাতের লেনদেনে অংশগ্রহণ যথাক্রমে পাঁচ শতাংশ এবং এক শতাংশ। এদিকে বস্ত্র খাতের পিই রেশিও ২৩ দশমিক আট পয়েন্টে এবং প্রকৌশল খাতের পিই রেশিও ২৬ দশমিক এক পয়েন্টে অবস্থান করছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতের চেয়ে বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সঠিক ভূমিকা পালন করছেন। তারা ব্যাংক খাতের দিকে নজর দেওয়ায় এ খাতের লেনদেন অনেকটা বাড়ছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ব্যাংক খাতের দিকে ঝুঁকছেন। এতে লেনদেনের অংশগ্রহণ বাড়ছে। অন্যদিকে জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর আগেই অনেকটা বেড়েছে। এ কারণে এসব কোম্পানিতে লেনদেনে আগ্রহ কম। তাছাড়া এখনও যেসব খাতের কোম্পানির শেয়ারদর হাতের নাগালে, সেগুলোর লেনদেন বাড়ায় ওই সব খাতের লেনদেনে অনেকটা প্রভাব পড়ে বলে মনে করছেন তারা।

তারা বলছেন, ব্যাংক সেক্টরে বিনিয়োগের আগেও সচেতনতার সঙ্গে বিনিয়োগ করতে হবে। অনেক ব্যাংক খেলাপি ঋণে জর্জরিত। আর সেসব প্রতিষ্ঠান বছর শেষে আশানুরূপ লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়। তাই বুঝেশুনে বিনিয়োগের পরামর্শ দেন তারা।

উল্লেখ্য, পুঁজিাবাজারে ব্যাংক খাতের ৩০টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। বস্ত্র খাতের মোট ৪৮টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এছাড়া প্রকৌশল খাতের ৩৪টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত। ব্যাংক, বিমা এবং নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যান্য খাতের কোম্পানির হিসাববছর জুনে শেষ হয়েছে। তবে জুন ক্লোজিং কোম্পানির শেয়ারের চেয়ে ব্যাংক খাতই এগিয়ে রয়েছে। আর আগের চেয়ে প্রকৌশল এবং বস্ত্র খাত লেনদেনে পিছিয়ে পড়েছে।