লেনদেনে এগিয়ে প্রকৌশল পিছিয়ে ব্যাংক-আর্থিক খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন বছরে পুঁজিবাজারে প্রকৌশল খাতের লেনদেনের হার বাড়ছে। অন্যদিকে আগের চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে গত ডিসেম্বরে হিসাববছর শেষ হওয়া ব্যাংক ও আর্থিক খাত। বাজারের লেনদেন পর্যালোচনায় এ চিত্র দেখা গেছে।

লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে মোট লেনদেনের ১৮ শতাংশ দখলে ছিল প্রকৌশল খাতের। আলোচিত খাতটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৭৬ কোটি টাকা। এ সময়ে মোট লেনদেনে ব্যাংক খাতের দখলে ছিল ১৯ শতাংশ। এ সময় খাতটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৮২ কোটি টাকা। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের অংশগ্রহণ ছিল পাঁচ শতাংশ, এ সময় খাতটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি টাকা। তবে বস্ত্র খাতের লেনদেনে আগের সপ্তাহের চিত্রই লক্ষ করা গেছে। মোট লেনদেনে বস্ত্র খাতের অংশগ্রহণ ছিল ১৬ শতাংশ। এ সময় খাতটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৭১ কোটি টাকা।

এর আগের সপ্তাহে মোট লেনদেন প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল ১৩ শতাংশ। খাতটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৬২ কোটি টাকা। মোট লেনদেনে ব্যাংক খাতের অংশগ্রহণ ছিল ২০ শতাংশ। খাতটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছিল ৯৮ কোটি টাকা। নন-ব্যাংকিং আর্থিক খাতের অংশগ্রহণ ছিল ছয় শতাংশ। ওই সময় খাতটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছিল ২৭ কোটি টাকা।

সপ্তাহের ব্যবধানে প্রকৌশল খাতের লেনদেনের হার বেড়েছে পাঁচ শতাংশ। তবে ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের লেনদেনের হার এক শতাংশ করে কমেছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময় যতই যাচ্ছে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের প্রায় শতাধিক কোম্পানির ডিক্লারেশনের সময় ঘনিয়ে আসছে। কিন্তু এসব খাতের লেনদেনের হার কমছে। অর্থাৎ কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর কমার প্রভাব পড়েছে লেনদেনের ওপর। বাজার মৌসুমি নিয়ম না মেনেই চলছে। আর এ কারণে যখন যে খাতের ডিক্লারেশন হবে, তার দর বা লেনদেন না বেড়ে বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে।

এ সম্পর্কে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘দু-একটি প্রতিষ্ঠানের ডিক্লারেশন শুরু হলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে ডিসেম্বর ক্লোজিং কোম্পানির ওপর। এতে লেনদেনেও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

এদিকে খাতভিত্তিক পিই রেশিও অনুযায়ী, গেল সপ্তাহে ব্যাংক খাতের পিই রেশিও ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। এরপরেই জ্বালানি ও বিমা খাতের অবস্থান। খাত দুটির পিই রেশিও একই চিত্র, যা ১২ দশমিক ৮ শতাংশ। প্রকৌশল খাতের পিই রেশিও ২৫ দশমিক দুই শতাংশ। এছাড়া নন-ব্যাংকিং আর্থিক খাতের পিই রেশিও ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

আগের সপ্তাহে ব্যাংক খাতের পিই রেশিও ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। এরপরেই জ্বালানি ও বিমা খাতের পিই রেশিও। খাত দুটির পিই রেশিও যথাক্রমে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং ১৩ দশমিক শূন্য শতাংশ। প্রকৌশল খাতের পিই রেশিও ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ। এছাড়া নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের পিই রেশিও ছিল ২০ দশমিক ৪ শতাংশ। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্যাংক খাতের পিই রেশিও সামান্য কমেছে। এছাড়া প্রকৌশল খাতের পিই রেশিও অপরিবর্তিত ছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো কোম্পানির দর বাড়াকমার সঙ্গে পিই রেশিও পরিবর্তন হয়। তারা বলছেন, কোনো কোম্পানির পিই রেশিও যতক্ষণ ১৫-এর ঘরে অবস্থান করে, ততক্ষণ বিনিয়োগ নিরাপদ। সে অনুযায়ী বেশ কয়েকটি খাতের পিই রেশিও ১৫-এর নিচে।

উল্লেখ্য, বাজারে ব্যাংক খাতের ৩০টি, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ২৩টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত। এছাড়া প্রকৌশল খাতের ৩৬টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে।