লেনদেনে বড় পতন ও সূচকে মিশ্র প্রবণতা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল দর সংশোধন হয়েছে। লেনদেন কমেছে দেড়শ কোটি টাকার বেশি। বেশিরভাগ কোম্পানি দরপতনে ছিল। আর সূচকে ছিল মিশ্র প্রবণতা। গতকাল সূচকের উত্থান দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। প্রথম ঘণ্টায় ডিএসইএক্স সূচকের ৩৮ পয়েন্ট উত্থান হয়। কিন্তু এরপরই বিক্রির চাপ শুরু হলে সূচক নেমে আগের দিনের অবস্থানে চলে যায়। এরপর সামান্য ওঠার চেষ্টা থাকলেও তা সফল হয়নি। শেষ দেড় ঘণ্টায় প্রায় স্থিতিশীল অবস্থানে থেকে আগের দিনের তুলনায় এক পয়েন্ট কমে লেনদেন শেষ হয়। অন্যদিকে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এক দশমিক ১৩ পয়েন্ট বা দশমিক শূন্য দুই শতাংশ কমে পাঁচ হাজার ৪৩৫ দশমিক শূন্য এক পয়েন্টে অবস্থান করে।
ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক আট দশমিক ৭০ পয়েন্ট বা দশমিক ৬৮ শতাংশ কমে এক হাজার ২৬৫ দশমিক ৭৫ পয়েন্টে অবস্থান করে। আর ডিএস৩০ সূচক তিন দশমিক ৩৬ পয়েন্ট বা দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৯২৫ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন কমে তিন লাখ ৯০ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা হয়। ডিএসইতে গতকাল লেনদেন হয় ৬৪৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৮০১ কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসেবে লেনদেন কমেছে ১৫৭ কোটি টাকা। এদিন ১৪ কোটি ৭৫ লাখ ১৯ হাজার ৮৭০টি শেয়ার এক লাখ ৩৩ হাজার ৭১১ বার হাতবদল হয়। লেনদেন হওয়া ৩৩৭ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১১৭টির, কমেছে ১৫৬টির, অপরিবর্তিত ছিল ৬৪টির দর।
গতকাল টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে সামিট পাওয়ার। ৫৯ কোটি ৪০ লাখ টাকায় কোম্পানিটির এক কোটি ১৭ লাখ ৩১ হাজার ৩৪০টি শেয়ার লেনদেন হয়। শেয়ারটির দর এক টাকা ১০ পয়সা বেড়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা খুলনা পাওয়ারের ৫৭ কোটি ৩০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এর পরের অবস্থানগুলোয় ছিল ইউনাইটেড পাওয়ার, বেক্সিমকো লিমিটেড, ড্রাগন সোয়েটার, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, নূরানী ডায়িং, বিবিএস কেব্লস, সিঙ্গার বিডি ও অ্যাকটিভ ফাইন। ৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে পেনিনসুলা চিটাগং। এরপর সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালসের দর ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, এসকে ট্রিমসের আট দশমিক ৫১ শতাংশ, ফাইন ফুডসের সাত দশমিক ৩৮ শতাংশ, মেঘনা সিমেন্টের সাত দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, বেক্সিমকোর ছয় দশমিক ১৯ শতাংশ, নূরানী ডায়িংয়ের পাঁচ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া আইসিবি এএমসিএল ফার্স্ট অগ্রণী ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ডের দর চার দশমিক ৪৭ শতাংশ, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চার দশমিক ৩৯ শতাংশ, সায়হাম কটনের চার দশমিক শূন্য আট শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে আট দশমিক ৯৯ শতাংশ দর কমেছে ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্কের। মুন্নু সিরামিকসের দর আট দশমিক ৭২ শতাংশ কমেছে। এছাড়া লিগ্যাসি ফুটওয়্যার আট দশমিক ৭২ শতাংশ, দুলামিয়া কটন আট দশমিক ৬৫ শতাংশ, ইনটেক অনলাইন আট শতাংশ, লিবরা ইনফিউশনস সাত দশমিক ৪৮ শতাংশ কমেছে। এছাড়া ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টসের ছয় দশমিক শূন্য দুই শতাংশ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল পাঁচ দশমিক ৮৮ শতাংশ, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ পাঁচ দশমিক ৮৩ শতাংশ ও মিথুন নিটিংয়ের দর পাঁচ দশমিক ৭৮ শতাংশ কমেছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল সিএসসিএক্স মূল্যসূচক এক দশমিক ৩৯ পয়েন্ট কমে ১০ হাজার ১৬৪ পয়েন্টে এবং সার্বিক সূচক সিএএসপিআই তিন দশমিক শূন্য পাঁচ পয়েন্ট কমে ১৬ হাজার ৭৭৭ পয়েন্টে অবস্থান করে। তবে সিএসই৫০ সূচক ইতিবাচক অবস্থানে ছিল। গতকাল সর্বমোট ২২৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৯২টির, কমেছে ৯৬টির, অপরিবর্তিত ছিল ৩৭টির দর।
সিএসইতে এদিন ২৯ কোটি আট লাখ ৬৭ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। আগের কার্যদিবসে ৩৫ কোটি ৬২ লাখ ১৬ হাজার ৬৩৮ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এ হিসাবে লেনদেন কমেছে ছয় কোটি ৫৩ লাখ টাকা। সিএসইতে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করে বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানিটির তিন কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এরপর তাকাফুল ইন্স্যুরেন্স দুই কোটি ৫৯ লাখ টাকার, সামিট পাওয়ার দুই কোটি ৫৩ লাখ টাকার, সিলভা ফার্মার এক কোটি ৪২ লাখ টাকার, বিএসআরএম লিমিটেডের এক কোটি শূন্য তিন লাখ টাকার, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল এক কোটি শূন্য এক লাখ টাকার, খুলনা পাওয়ার ৮০ লাখ টাকার, ইনটেক অনলাইন ৭২ লাখ টাকার, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স ৬০ লাখ টাকার এবং সায়হাম টেক্সের ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।