লেনদেন না বাড়লেও ক্রয় প্রবণতা বেড়েছে

রুবাইয়াত রিক্তা: শেষ ঘণ্টার বিক্রির চাপে সূচক নিম্নমুখী হলেও শেষ পর্যন্ত এক পয়েন্ট কমেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক। গতকাল বাজারে শেয়ার কেনা ও বিক্রির চাপ প্রায় সমান সমান ছিল। অর্থাৎ আগের কয়েকদিনের তুলনায় বিক্রির চাপ কমে এসেছে। গতকাল ডিএসইতে মোট লেনদেন না বাড়লেও বিনিয়োগ প্রবণতা বেড়েছে। এদিকে গতকাল চীনা কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে ডিএসইর কৌশলগত অংশীদারের চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় দেশের পুঁজিবাজার বিনিয়োগের নতুন যুগে প্রবেশ করল। কাজেই আগামীতে বাজার ভালো না হওয়ার কোনো কারণ নেই। আর বাজারে ইতিবাচক গতি ফিরলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আর আস্থার ঘাটতি থাকবে না।
গতকাল প্রায় সমানসংখ্যক কোম্পানির দর বেড়েছে ও কমেছে। আর্থিক, ওষুধ ও রসায়ন এবং ব্যাংক খাতে আগ্রহ বাড়াতে এসব খাতে বেশিরভাগ কোম্পানির দর ইতিবাচক ছিল।
গতকালও সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয় প্রকৌশল খাতে। এ খাতে লেনদেন হয় ২১ শতাংশ বা ৬৫ কোটি টাকা। ৩৮ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। রেনউইক যজ্ঞেশ্বর দর বৃদ্ধিতে সপ্তম অবস্থানে উঠে আসে। এ খাতের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের প্রায় ২৪ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়ে শীর্ষে উঠে আসে। তবে শেয়ারটির দর কমেছে এক টাকা ৩০ পয়সা। এছাড়া বিএসআরএমের সাড়ে আট কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় ১৬ শতাংশ। এ খাতে ৩৬ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। ড্রাগন সোয়েটারের ১২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। ব্যাংক খাতে লেনদেন হয় ১২ শতাংশ। এ খাতের ৪৭ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। চলতি আর্থিক বছরের প্রথম প্রান্তিকে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় ২৬ পয়সা বেড়েছে। এ কারণে গতকাল সাড়ে ছয় শতাংশ বেড়ে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে কোম্পানিটি। রূপালী ব্যাংকও দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকায় অবস্থান করে। এছাড়া ব্র্যাক ব্যাংকের সাড়ে ৯ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। জ্বালানি খাতে লেনদেন হয় ১০ শতাংশ। এ খাতে ৩৩ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। ইউনাইটেড পাওয়ারের সাড়ে ১৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হলেও দর কমেছে প্রায় তিন শতাংশ। উল্লেখযোগ্য হারে লেনদেন না হলেও আর্থিক খাতে ৬১ শতাংশ, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৫৫ শতাংশ এবং বিমা খাতে ৪২ শতাংশ, খাদ্য খাতে ৪৪ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। ছোট খাতগুলোর মধ্যে কাগজ ও মুদ্রণ খাতে শত ভাগ, পাট খাতে ৬৭ শতাংশ এবং সিমেন্ট খাতে ৫৭ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে।