লেনদেন ব্যাপকহারে কমলেও সূচক বেড়েছে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের কারণে

রুবাইয়াত রিক্তা: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন আগের দিন হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছায়। কিন্তু গতকাল এক লাফে ডিএসইর লেনদেন আড়াইশ কোটি টাকা কমে গেছে। লেনদেন ও বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতন সত্ত্বেও ডিএসইর প্রধান সূচক প্রায় চার পয়েন্ট ইতিবাচক ছিল। সূচকবৃদ্ধির নেপথ্যে ছিল বেশিরভাগ ব্যাংক ও আর্থিক খাতের কোম্পানির দরবৃদ্ধি।
খাতভিত্তিক লেনদেনে স্থিতিশীলতা না থাকায় বাজারের গতি কবে কোনদিকে যাবে তা বোঝা অসম্ভব। কারণ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ একদিন ব্যাংক ও আর্থিক খাতে তো পরদিনই জ্বালানি, বস্ত্র কিংবা প্রকৌশল খাতে।
ফলে আগের দিন এক খাত ইতিবাচক হলেও পরদিনই সে খাতে বড় ধরনের পতন হয়। অন্যদিকে দেশের রফতানি খাতকে চাঙা করতে সরকার ওষুধসহ বেশকিছু পণ্যে ভর্তুকি বা নগদ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে পুঁজিবাজারেও ওষুধ খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
গতকাল প্রকৌশল খাতে লেনদেন বেশি হলেও এ খাতে বিক্রির প্রবণতা বেশি ছিল। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ১৬৯ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ২৪ শতাংশ। এ খাতে মাত্র ৪১ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। আরএসআরএম স্টিল দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে অবস্থান করে। এছাড়া বিবিএস কেব্লসের ৪৩ কোটি টাকা, ইফাদ অটোসের ২১ কোটি ও বিএসআরএমের ১৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। জ্বালানি খাতে লেনদেন হয় ১৬ শতাংশ। এ খাতে ৫৮ শতাংশ কোম্পানির দর ইতিবাচক ছিল। এ খাতের খুলনা পাওয়ারের প্রায় ৬১ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে তিন টাকা ৮০ পয়সা। ইউনাইটেড পাওয়ারের ১৪ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। বস্ত্র খাতে ১২ শতাংশ লেনদেন হয়। এ খাতে ৩১ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১২ শতাংশ লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৪৮ শতাংশ কোম্পানির। এ খাতের অ্যাকটিভ ফাইনের ৫১ কোটি টাকার লেনদেন হয়। বিমা খাতে ৫৩ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। এ খাতের ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, তাকাফুল ইন্স্যুরেন্স, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স ও প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে উঠে আসে। ব্যাংক খাতে লেনদেন না বাড়লেও ৬৩ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। শাহজালাল ব্যাংক দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে অবস্থান করে। আর্থিক খাতে ৭৮ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। মাইডাস ফাইন্যান্সের দর সাড়ে তিন শতাংশ বেড়েছে। ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্সের সাড়ে ১৭ কোটি টাকার লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে এক টাকা ৩০ পয়সা।