লেবুচাষে নেশামুক্ত গ্রাম

লেবুতে আছে নানা গুণ। আমাদের শরীরের জন্য এটা উপকারী। লেবু চাষাবাদ করে অনেকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বীও হচ্ছেন। লেবুচাষের মাধ্যমে বদলে যাওয়া একটি গ্রামের চিত্র এখানে তুলে ধরছেন জাহিদ হাসান

পূর্ব বাথুলি গ্রাম …

রাজধানীর উপকণ্ঠে ধামরাই উপজেলা। এ উপজেলার পূর্ব বাথুলি গ্রামে চলছে লেবুচাষ। গ্রামটির কয়েক হাজার পরিবার বাণিজ্যিকভাবে লেবু চাষ করে আর্থিকভাবে সফল হয়েছে।

নেশামুক্ত হলো যেভাবে

দীর্ঘদিন ধরে এলাকার যুবকদের বড় একটি অংশ মাদকদ্রব্যে আসক্ত ছিল। খুন-খারাবি থেকে শুরু করে বখাটেপনা, মাস্তানি, চাঁদাবাজি ছিল তাদের নিত্যদিনের রুটিন ওয়ার্ক। কিন্তু এখন নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এক প্রকার হাওয়া হয়ে গেছে বললেই চলে। মাদকাসক্তদের কবল থেকেও মুক্ত হয়েছে এ গ্রাম। ভাবছেন তাদের হয়তো দূরে কোথাও নির্বাসনে পাঠিয়ে মুক্তি পেয়েছে গ্রামবাসী! না। তারাই ছেড়ে দিয়েছে মাদকের পথ। তাদের সেই আসক্তি ঘুচিয়ে দিয়েছে লেবুচাষ। একই সঙ্গে তাদের দেখে অন্যান্য গ্রামের মানুষও উৎসাহী হয়ে উঠেছে লেবুচাষের প্রতি। পাশের গ্রামগুলোতেও ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে লেবুচাষ। প্রচুর ফলন হয় বলে তৈরি হয়েছে লেবু রফতানির সম্ভাবনাও।

পেছনের গল্প

প্রায় চার দশক আগে ধামরাই উপজেলার পূর্ব বাথুলি গ্রামের শিক্ষক আবদুল গনি মাস্টারের হাত ধরে এখানে লেবুচাষের শুরু। তিনি প্রথমে বাড়ির পাশে অল্প জায়গার ওপর লেবু চাষ করেন। বৃথা যায়নি সে চেষ্টা। শুরুতেই সফল হন। নিজে সফলতা পাওয়ার পর থেকে তিনি গ্রামের অন্যান্য চাষি ও আগ্রহীদের লেবুচাষের পরামর্শ দেওয়া শুরু করেন। ধীরে ধীরে অন্যরাও চাষাবাদ শুরু করে। এখন গ্রামের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ লেবুচাষের সঙ্গে যুক্ত। শিক্ষার্থীসহ সব বয়সের মানুষ এই পেশায় রয়েছেন।

লেবুর মৌসুম

লেবু গাছের কলম কাটার মাধ্যমে আরেকটি গাছ লাগানো হয়। এতে সারা বছর কমবেশি লেবু ধরে। সারা বছর ফলন হলেও চৈত্র মাসকে বলা হয় লেবুর মৌসুম। এখানে উৎপাদিত লেবুর সিংহভাগ চলে যায় দেশের সর্ববৃহৎ কাঁচাবাজার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে। এরপর দেশের চাহিদা মিটিয়ে তা রফতানি হয় মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, দুবাই ও জর্ডানসহ নানা দেশের বাজারে।

রয়েছে বাজারজাতকরণে জটিলতা

লেবুচাষিরা জানান, এত সম্ভাবনার মাঝেও রয়েছে বাজারজাতকরণে জটিলতা। লেবু বিক্রির নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই। তাছাড়া চাষাবাদে পর্যাপ্ত পানির অভাব রয়েছে। আবার লাভের একটা অংশ চলে যায় খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের হাতে। ফলে বিপাকে পড়েন সাধারণ চাষিরা। ধামরাইয়ে মূলত খাচি হিসেবে লেবু বিক্রি হয়। প্রতি খাচির দাম ১২ খেকে ১৩ হাজার টাকা। ফলে লাভ হয় কম।

সম্ভাবনা

তবে বাগান মালিকরা রফতানির সুযোগ পেলে লাভবান হতে পারবেন। স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ প্রদানের ওপরও জোর দিয়েছে অনেক চাষি। ধামরাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা লুৎফর রহমান সিকদার জানান, এখানের লেবু রোগমুক্ত। ফলে লেবুচাষে আগ্রহীর সংখ্যা বাড়ছে। কৃষি কর্র্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে চাষিদের লেবুচাষ করার নানা কলাকৌশল, পরিচর্যার বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।