টেলকো টেক

শাওমির সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ফ্ল্যাগশিপ রেডমি কে২০ প্রো

খ্যাতনামা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমি এবার রেডমি কে২০ প্রো নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছে। রেডমি সাব-ব্র্যান্ডের অধীনে প্রথম ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন আনছে প্রতিষ্ঠানটি।
রেডমি কে২০ প্রো সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ডিভাইস হিসেবে ব্যবহারকারীদের হাই-এন্ড এক্সপেরিয়েন্সের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এ ফ্ল্যাগশিপটি ব্যবহারকারীকে সন্তুষ্ট করবে। এটি কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৫৫ চিপসেটের প্রথম রেডমি ফোন। এতে বিশ্বের দ্রুততম প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। ট্রাই-ক্লাস্টার আর্কিটেকচার (১ এক্স প্রাইম কোর, ৩ এক্স গোল্ড কোরস ও ৪ এক্স সিলভার কোরস) ও ৭ ন্যানো মিটার আর্কিটেকচারের সাহায্যে স্ন্যাপড্রাগন ৮৫৫ রেডমি কে২০ প্রো’কে দিয়েছে অসাধারণ প্রসেসিং পাওয়ার, করে তুলেছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী স্মার্টফোন।
রেডমি কে২০ প্রোতে রয়েছে ১৬.২ সেন্টিমিটার (৬.৩৯ ইঞ্চি) ফুল এইচডি প্লাস অ্যামোলেড হরিজন ডিসপ্লে, যার আসপেক্ট রেশিও ১৯.৫:৯ ও এর চারপাশে বেজেল রাখা হয়েছে খুবই অল্প পরিসরে। এটি ২০ মেগাপিক্সেলের দুটি পপ-আপ সেলফি ক্যামেরার মাধ্যমে ৯১ দশমিক ৯ শতাংশের স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও তৈরি করতে পেরেছে, যা ইন্ডাস্ট্রিতে সর্বোচ্চ স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও-সমৃদ্ধ ফোনগুলোর মধ্যে অন্যতম। হরাইজন ডিসপ্লেতে থাকছে সপ্তম জেনারেশনের
ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার ও এটি কার্ভড কর্নিং গরিলা গ্লাস ৫ দ্বারা সুরক্ষিত।
স্মার্টফোনটির অরা প্রিজম ডিজাইন দেখতে চমৎকার। ডিভাইসের সামনের দিকে ব্যবহার করা থ্রি ডি কার্ভড কর্নিং গরিলা গ্লাস ৫ ডিভাইসকে একটি সহজ হ্যান্ডফিল দিয়েছে এবং দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে। ফোনটি পাওয়া যাবে গ্লেসিয়ার ব্লু, ফ্লেম রেড ও কার্বন ব্ল্যাক রঙে।
রেডমি কে২০ প্রোতে রয়েছে সনি আইএমএক্স৫৮৬ সেন্সরসমৃদ্ধ ৪৮ মেগাপিক্সেলের প্রাইমারি ক্যামেরা। এর একটি ৮ মেগাপিক্সেল ২এক্স টেলিফটো ক্যামেরা ও একটি ১২৪.৮ ফিল্ড অব ভিউ সুবিধা-সংবলিত ১৩ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা। এর নান্দনিক সৌন্দর্য নিশ্চিত করা হয়েছে ক্যামেরা মডিউলের চারপাশে একটি স্টাইলিশ হ্যালো রিং ও পপ-আপ ক্যামেরা মেকানিজমের শীর্ষে নটিফিকেশন এলইডি স্থাপনের মাধ্যমে।
পপ-আপ সেলফি ক্যামেরার চারপাশ এজ-লিট মডিউল-সমৃদ্ধ। পাওয়ার বাটনে গাঢ় লাল রং ব্যবহার করে নজরকাড়া সৌন্দর্য তৈরি করা একমাত্র ফ্ল্যাগশিপ ফোন রেডমি কে২০ প্রো।
স্মার্টফোনটি ৪০০০ এমএএইচ সাইজের শক্তিশালী ব্যাটারি দ্বারা পরিচালিত, যা নিয়মিত ব্যবহারের শর্ত অনুসারে টানা দুই দিন পর্যন্ত ব্যাটারি লাইফ নিশ্চিত করবে। ফোনটিতে আরও রয়েছে ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট, ৩.৫ মিলিমিটার হেডফোন জ্যাক ও ফাস্ট-চার্জ সাপোর্ট। উচ্চমানসম্পন্ন পিটুআই ন্যানো কোটিং দ্বারা ফোনটিকে স্লাশ প্রুফভাবে তৈরি করা হয়েছে। ফোনটির সামনে ও পেছনের গরিলা গ্লাস ৫ ফোনটিকে দীর্ঘস্থায়ী, টেকসই ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ একটি চমৎকার উদ্ভাবন হিসেবে তৈরি করেছে। ফোনটির অন্যান্য কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট বৈশিষ্ট্যের মধ্যে ফল ডিটেকশন বৈশিষ্ট্যটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে দুর্ঘটনাবশত পড়ে গেলে এর পপ-আপ ক্যামেরাকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রক্ষা করবে।
শাওমি ইন্ডিয়ার ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্টের হেড অব ওভারসিজ এক্সপানশন সংকেত আগারওয়াল বলেন, বাংলাদেশে রেডমি কে২০ প্রো নিয়ে আনতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। বাংলাদেশে প্রথম রেডমি ফ্ল্যাগশিপ সিরিজ হিসেবে রেডমি কে২০ প্রো সত্যিই আল্টিমেট ফ্ল্যাগশিপের অভিজ্ঞতা দেবে। অ্যামোলেড স্ক্রিন, পপ-আপ ক্যামেরা ও
ইন-ডিসপ্লে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সরের মতো বৈশিষ্ট্যগুলো এ ফোনটি মি ফ্যানদের জন্য সেরা মানের কাটিং-এজ প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে।
রেডমি কে২০ প্রোতে রয়েছে হাই রেজ্যুলেশনের ডিজিটাল টু অ্যানালগ কনভার্টার, যা ব্যবহারকারীকে লসলেস অডিওর (২৪ বিট পর্যন্ত, ১৯২ কিলোহার্টজ) অভিজ্ঞতা দেবে। এর ডুয়েল জিপিএস অ্যান্টেনাস পিনপয়েন্ট জিপিএস অ্যাকিউরেসি নিশ্চিত করবে। এছাড়া রেডমি কে২০ প্রো ২৭ ওয়াটের ‘সনিকচার্জ’ সমর্থন করবে।

দাম
সাশ্রয়ী দামের রেডমি কে২০ প্রো শিগগির পাওয়া যাবে। ফোনটির ৮ জিবি + ২৫৬ জিবি ভ্যারিয়েন্ট ৪৯ হাজার ৯৯৯ টাকা। পিকাবু ডটকমে ফোনটির প্রি-বুকিং চলছে।

শাওমি করপোরেশন
শাওমি করপোরেশন ২০১০ সালের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৫ সালের ৯ জুলাই হংকং স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান বোর্ডে তালিকাভুক্ত হয়। শাওমি একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। এর স্মার্টফোন ও স্মার্ট হার্ডওয়্যার আইওটি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। শাওমি গুণগত মান ও দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি নিরবচ্ছিন্নভাবে বিশ্বের সেরা সব উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নত জীবন উপভোগ করার জন্য সাশ্রয়ী দামে চমৎকার পণ্য তৈরি করে থাকে।
শাওমি বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম স্মার্টফোনের ব্র্যান্ড ও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভোক্তা আইওটি প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করেছে। এ প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে ১৭১ মিলিয়নেরও বেশি স্মার্ট ডিভাইস (স্মার্টফোন ও ল্যাপটপ বাদে)। বর্তমানে শাওমির পণ্যগুলো বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক বাজারে এটি শীর্ষস্থানে রয়েছে। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। র‌্যাংকিংয়ে প্রতিষ্ঠানটি ৪৬৮তম ও ইন্টারনেট সার্ভিসেস অ্যান্ড রিটেইলিং ক্যাটেগরিতে সপ্তম স্থান অর্জন করেছে।

 

 

 

সর্বশেষ..