প্রচ্ছদ শেষ পাতা

শান্তিরক্ষায় দেশের ৬০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করছে জাতিসংঘ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের পাওনা ৬০ মিলিয়ন ডলার দ্রুত পরিশোধ করছে জাতিসংঘ সদর দফতর। পাওনা পরিশোধের অংশ হিসেবে গত ৮ জুলাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের অনুরোধে জাতিসংঘের অপারেশনাল সাপোর্ট বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল লিসা এম বুটেনহেইম তাৎক্ষণিকভাবে ৩০ মিলিয়ন ডলারের পরিশোধপত্র হস্তান্তর করেন।
বাকি ৩০ মিলিয়ন ডলার অচিরেই পরিশোধ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। গতকাল জাতিসংঘের স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে উল্লেখ করা হয়, জাতিসংঘ সদর দফতরে সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে আন্তরিকতাপূর্ণ এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বকেয়া পরিশোধের প্রতিশ্রুতি ছাড়াও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের সফল অংশগ্রহণের ভূয়সী প্রশংসা করেন জাতিসংঘের এ সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল। একই দিনে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মিলিটারি অ্যাডভাইজর লেফটেন্যান্ট জেনারেল কার্লোস হামবার্টো লয়টে বাংলাদেশ সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। জাতিসংঘের মিলিটারি অ্যাডভাইজর বিশ্ব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ সরকারের স্বতঃস্ফূর্ত ভূমিকা ও ফলপ্রসূ অবদানের উল্লেখসহ বিভিন্ন মিশনে কর্মরত বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, কর্তব্যপরায়ণতা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের উচ্চ প্রশংসা করেন। এ সময় জেনারেল লয়টে বাংলাদেশ সেনাপ্রধানকে জাতিসংঘ সদরদফতরে একজন কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে শান্তিরক্ষা মিশনের ফোর্স জেনারেশন সার্ভিসের প্রধান হিসেবে নিয়োগপত্র হস্তান্তর করেন। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ৩১ বছরে এ প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশকে নির্বাচন করা হলো।
এছাড়া সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ থেকে একজন ফোর্স কমান্ডার নিয়োগের প্রস্তাব দিলে জেনারেল লয়টে তা স্বাগত জানান এবং দ্রুততম সময়ে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করার আশ্বাস দেন। সেনাপ্রধান বাংলাদেশ থেকে আরও ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিক্যাল, স্পেশাল ফোর্স ও দ্রুত মোতায়েনযোগ্য ব্যাটালিয়ন নিয়োগেরও প্রস্তাব দেন। জাতিসংঘের মিলিটারি অ্যাডভাইজর রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের উদারতা এবং মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যে ভূমিকা রেখেছে তা উল্লেখ করেন জেনারেল আজিজ আহমেদ।
এর আগে সেনাপ্রধান জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে পৌঁছালে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন তাকে স্বাগত জানান এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন দিকসহ জাতিসংঘে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের নানা দিক ও ভবিষ্যৎ কর্ম-পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন।
৯ জুলাই সকালে সেনাপ্রধান জাতিসংঘ সদরদফতরে জাতিসংঘের পিস অপারেশন বিভাগের প্রধান আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ পিয়েরে ল্যাক্রুয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠককালে সেনাপ্রধান ফরাসি ভাষাভাষী দেশগুলোতে বাংলাদেশের সেনা মোতায়েনের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন প্রচেষ্টা সম্পর্কে অবহিত করেন। বিশেষ করে, বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে সেনা পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তাৎক্ষণিক প্রস্তুতি রয়েছে বলে জ্যঁ পিয়েরে ল্যাক্রুয়াকে অবহিত করেন বাংলাদেশ সেনাপ্রধান।
জাতিসংঘের উচ্চপদস্থ এসব কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও জানান সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। এসব বৈঠকে সেনাপ্রধানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ডিফেনস অ্যাডভাইজর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খান ফিরোজ আহমেদ ও সেনাপ্রধানের সহকারী একান্ত সচিব কর্নেল কায়সার রশিদ। সেনাপ্রধান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও বৈঠকে অংশ নিতে সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্র অবস্থান করছেন।

সর্বশেষ..