শান্তি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস সম্প্রতি ১৬৩টি দেশের সম্মিলিত যে বৈশ্বিক শান্তি সূচক প্রকাশ করেছে, তাতে বাংলাদেশের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৯৩তম। গত বছর এ দেশের অবস্থান ছিল ৮৪ নম্বরে। অর্থাৎ এক বছরে শান্তি সূচকে আমাদের অবস্থানের অবনতি হয়েছে নয় ধাপ। এটাকে হতাশাব্যঞ্জকই বলতে হবে। যেসব মানদণ্ডের ভিত্তিতে এ সূচকে অবস্থান নির্ণীত হয়, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন থাকলেও বৈশ্বিক পর্যায়ে এর একধরনের গুরুত্ব রয়েছে। দেশের মানুষ বর্তমানে কী পরিস্থিতিতে রয়েছে, সে ব্যাপারে একটা ধারণা পাওয়া যায় এ সূচক থেকে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। কী কারণে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি হলো, সেসব গুরুত্বসহ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সূচকে শিগগির অন্তত আগের অবস্থানে আসতে যেসব মানদণ্ডে অবনতি হয়েছে সেগুলোয় উন্নতি নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেই আশা।
বৈশ্বিক শান্তি সূচকের প্রতিবেদনে স্পষ্টতই উল্লেখ করা হয়েছে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও সন্ত্রাসবাদ দমনে সাম্প্রতিককালে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। তবে অবস্থানের অবনতির অন্যতম কারণ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি। সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা এ দেশে আসায় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে। মনে রাখা দরকার, বাংলাদেশ এক্ষেত্রে পরিস্থিতির শিকার। বিতাড়িত হয়ে এখানে আগত রোহিঙ্গাদের বিধিবদ্ধ উপায়ে ফেরত পাঠানোর জন্য কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কের স্বাভাবিকতা ধরে রাখার জন্যও চূড়ান্ত প্রচেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। এ অবস্থায় সূচকে নিজেদের অবস্থানের উত্তরণে অন্যান্য উপাদানেও যথাযথভাবে দৃষ্টি দেওয়া সুবিবেচনার পরিচয় হবে বলে মনে হয়।
শান্তির সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রার শুধু নয়, অর্থনীতিরও রয়েছে গভীর সম্পর্ক। কোনো অঞ্চলে শান্তি ব্যাহত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় উন্নয়ন। তাতে এর স্বাভাবিক গতি হয় বিনষ্ট। সেজন্য উন্নয়নের যে ধারায় আমরা রয়েছি, তা অক্ষুণœ রাখতেও শান্তি ত্বরান্বিত করা দরকার। এও মনে রাখা চাই, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সামাজিক শান্তির অন্যতম শর্ত। আমাদের দেশে বিশেষত জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদাহরণ রয়েছে। এজন্য আমরা চাইবÑআসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সে ব্যাপারে সচেতন থাকবেন নীতিনির্ধারকসহ দায়িত্বশীল সব মহল। এটি নিশ্চিত করা না গেলে বৈশ্বিক শান্তি সূচকে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স আরও খারাপ হবে বলেই ধারণা। রোহিঙ্গা ইস্যু ও প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সামগ্রিকভাবে জাতীয় উন্নয়নের ধারায় কেমন প্রভাব ফেলছে, তা ভালো জানা নেই। আশা করব, এ সূচকের প্রতিবেদন সামনে রেখে সেটিও নিরূপণের চেষ্টা নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে চালানো হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজে ‘ইতিবাচক শান্তি’র উপাদানগুলোর উপস্থিতি থাকলে জীবনযাত্রার মানও হয় উন্নত। আমরা চাইব, উন্নয়নের গতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি উন্নততর জীবনযাত্রা নিশ্চিতে শান্তি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানে উত্তরণ ঘটাতে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।