শিক্ষককে আর অপমানিত হতে দেখতে চাই না

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে অপদস্থ করার খবরটি আমাদের ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত করেছে। মাদ্রাসার পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নির্বাচনে হেরে গিয়ে একজন প্রবীণ শিক্ষকের মাথায় মল ঢেলে অপমান করেছে উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের একদল অসভ্য লোক। এ ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেয় যে, দেশের আনাচকানাচেও ক্ষমতার দম্ভ ও বিচারহীনতা মানুষের জীবনকে কতটা দুর্বিষহ করে তুলেছে। যারা এ ধরনের নিচু কাজ করতে পারে তারা যে এলাকায় আরও নানা রকম অনাচার করে অভ্যস্ত, তা সহজেই অনুমেয়। এ থেকে আমরা নিস্তার চাই।
জানা গেছে, অপরাধীদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হলেও অপরাধের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে এখনও কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এর পেছনে কী কারণ থাকতে পারে, তা খতিয়ে দেখতে হবে। একজন বৃদ্ধ শিক্ষকের ওপর এমন বর্বরতা দেখে সরকার চুপ করে থাকবে, এটা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। এমনকি তিনি যদি কোনো অন্যায় করেও থাকেন তাহলে দেশের বিদ্যমান আইনেই তার বিচার হতে পারত। কোনো নাগরিককেই প্রকাশ্যে এভাবে অপমান করার অধিকার কারও নেই। তাই অপরাধীরা যে রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকুক না কেন এ অপকর্মের যথাযথ তদন্ত ও কঠোর বিচার করতে হবে, অন্যথায় সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার দিনে দিনে বাড়তেই থাকবে।
আরেকটি ব্যাপারে আমাদের মনোযোগী হওয়া দরকার। লক্ষ করা যাচ্ছে, দেশে একেক সময় একেক ধরনের অপরাধ প্রবণতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। বেশ কিছুকাল শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এরপর পরিবহনে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় আতঙ্কিত হয়েছে দেশবাসী। এরই মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি স্তম্ভিত করে রেখেছে আমাদের। এদেশে কোনো অপরাধ ঘটার পর গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হয় না। ফলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকে। তাই মাদ্রাসা শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। তা না হলে আশঙ্কা করা যায়, দেশের বিভিন্ন অংশে পেশিশক্তির জোরে কিছু বিবেকহীন লোকের অত্যাচার আরও বাড়বে। জনসাধারণের ওপর চড়াও হতে আরও ইন্ধন পাবে তারা। মানবতার এ চরম অপমান ঠেকাতে একতাবদ্ধ হতে হবে সবাইকে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে সরকারকে হতে হবে আরও প্রতিশ্রুতিশীল।

নমিতা বিশ্বাস
কাজীপাড়া, ঢাকা