সম্পাদকীয়

শিক্ষক সংকট নিরসনে আশু পদক্ষেপ নিন

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে শিক্ষক সংকট বহুদিনের। সুরাহা নেই। শিক্ষার্থীদের বেহাল দশা। ফেনীর পরশুরাম ডিগ্রি কলেজে বাংলা, ইতিহাস ও হিসাববিজ্ঞানে মাত্র চার শিক্ষক রয়েছেন। বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও মানবিক শাখার বাকি ১১ বিষয়ে কোনো শিক্ষক নেই, অধ্যক্ষও নেই। ১৬টি প্রভাষক পদ শূন্য। সারা দেশে অনেক কলেজেই এমন চিত্র বিরাজ করছে। পরশুরাম ডিগ্রি কলেজের মতো বিভিন্ন কলেজে নানা শ্রেণিতে ১২ হাজার ৫১৫টি পদ শূন্য রয়েছে। অধিকন্তু, পদ সোপান তৈরিসহ প্রভাষক থেকে অধ্যাপক পর্যন্ত আরও ১২ হাজার ৫১৯টি পদ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। অনুমোদিত পদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশের বেশি পদে শিক্ষক নেই। শিক্ষক না থাকলেও প্রতিবছর শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে। এই সারশূন্য দশা নিয়েই দেশের শিক্ষার হার বেড়ে চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষক সংকট নিরসনে আশু পদক্ষেপ কাম্য।
দৈনিক শেয়ার বিজে উঠে আসা পরশুরাম ডিগ্রি কলেজের বেহাল দশা সারা দেশের কলেজগুলোর অস্থিরতা ও বিকল দশাকে ইঙ্গিত করে। ঢাকায় দেশের ৩২৯ কলেজের অধ্যক্ষরা বারংবার সম্মেলন করেছেন এ সংকট নিরসনে বারবারই শিক্ষামন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন; কিন্তু ফলাফল শূন্য। টেকসই উন্নয়নে জনশক্তির গুণগত শিক্ষার বিকল্প নেই। কিন্তু দেশে মাঝারি দক্ষতাসম্পন্ন শ্রমিকের হার কমছে। আবার সনদ থাকলেও অনেকে স্বল্পদক্ষ শ্রমিকের কাজ করছে। ফলে বাংলাদেশে এক দশমিক ১৫ শতাংশ স্বল্পদক্ষ শ্রমিক বেড়েছে, যা উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, মাঝারি মানের জনবল কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলো বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভর করছে। বিআইডিএসের তথ্যানুসারে, এ বিদেশি জনবল প্রতিবছর চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে নিয়ে যাচ্ছে। আর দেশের তরুণদের মধ্যে প্রতিবছর ১৮ থেকে ২১ লাখ চাকরিতে প্রবেশ করলেও অর্ধেকের বেশি থাকছে বেকার। উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন জনবলের চাহিদা বাড়লেও বাংলাদেশে তাদের প্রবৃদ্ধির হার আগের চেয়ে ২০ শতাংশ কমেছে। তাছাড়া উচ্চশিক্ষার মান বাড়াতে এবারের বাজেটে শিক্ষক আমদানির সিদ্ধান্ত এসেছে, যা দেশের শিক্ষা বাণিজ্যকে উসকে দেবে নাকি শিক্ষার গুণগত মানকে পল্লবিত করবে, সে বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। প্রশ্নফাঁসসহ পাঠ্যপুস্তক সংস্করণ ও মুদ্রণেও হতচ্ছাড়া তথৈবচ অবস্থা। এভাবে দেশের শিক্ষাকাঠামো রসাতলে গেলে শিক্ষাবিস্তার তথা সার্বিক টেকসই উন্নয়নের চতুর্মুখী তপধ্বনি কেবল আত্মপ্রবঞ্চনা বলেই বিবেচিত হবে।
নীতিনির্ধারকরা শিক্ষা কার্যক্রমের এই সারশূন্য দশার সমাধান না টানলে দেশের উন্নয়ন ক্ষণভঙ্গুর ঠুনকো ভিত্তির ওপর ঠাঁই পাবে। প্রতিশ্রুতির মধ্যে কেবল নয়, সরকার শিক্ষার্থীর অনুপাতে শিক্ষক নিয়োগ করে সার্বিক সংকটের সমাধান দেবে বলে আমরা আশা রাখি।

সর্বশেষ..