সম্পাদকীয়

শিক্ষার্থী ঝরেপড়া রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। সবচেয়ে বেশি কথা হয় শিক্ষার মান নিয়ে। এছাড়া শিক্ষা গ্রহণের বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। অর্থাৎ তারা শিক্ষা গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে, যা মোটেও সুখকর নয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের মতো পর্যায় থেকে এভাবে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার মানে হলো তারা উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত থাকছে। অবশ্য কয়েক বছর ধরেই শিক্ষার্থী ঝরেপড়া রোধে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পরিস্থিতির উন্নতিও হয়েছে অনেক। তার পরও শিক্ষার্থী ঝরেপড়ার হার এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে, যা রোধ করা জরুরি।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘মাধ্যমিকে ৩৭.৬২ ও প্রাথমিকে ১৮.৬% শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। জাতীয় সংসদে দেওয়া শিক্ষামন্ত্রীর তথ্যের আলোকে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থী ঝরেপড়ার হার ৩৭ দশমিক ৬২ শতাংশ আর প্রাথমিক স্তরে ওই হার ১৮ দশমিক ছয় শতাংশ। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরে ঝরেপড়ার হার তুলে ধরেন তিনি। ঝরেপড়ার হার ক্রমেই নিন্মগামী হলেও এখনও সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছেনি বলে জানা যাচ্ছে। এছাড়া মেয়েদের ঝরেপড়ার হারও বেশি। অবশ্য তা ক্রমেই কমে আসছে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন।
আমাদের দেশে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার কারণ অনেক। বিশেষত দারিদ্র্য এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। পরিবারের খরচ মেটাতে না পারায় সন্তানকে পড়াশোনা করাতে আগ্রহ দেখান না তারা। অর্থমন্ত্রী নিজেও শিক্ষার্থী ঝরে যাওয়ার কারণ হিসেবে দারিদ্র্য, অভিভাবকের অসচেতনতা, শিশুশ্রম, অশিক্ষা, বাল্যবিয়ে ও দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার মতো ব্যাপারগুলো উল্লেখ করেছেন। শিক্ষার্থী ধরে রাখতে হলে এসব সমস্যা সমাধানের বিকল্প নেই। অবশ্য নানামুখী উদ্যোগের কারণে পরিস্থিতির আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে অনেক। নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে গত কয়েক বছরে।
দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে এবং বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য মানসম্পন্ন ও কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ঝরেপড়াও রোধ করতে হবে। অবকাঠামো ও দক্ষ জনবলের ঘাটতিও বড় সমস্যা। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের আওতাধীন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর আট হাজার ৮৯৩টি পদ শূন্য রয়েছে। দক্ষ জনবলের মাধ্যমে এসব পদ পূরণ এবং সব সমস্যার কার্যকর সমাধান করতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলে আমরা মনে করি।

সর্বশেষ..