করপোরেট টক টপ ম্যানেজমেন্ট সাক্ষাৎকার সুশিক্ষা

‘শিক্ষা ও পেশাগত বিভিন্ন কোর্স ক্যারিয়ার গঠনে ভূমিকা রেখেছে’

আতিক উজ জামান খান, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান। এ গ্রুপের প্রায় ৩০ হাজার কর্মচারী-কর্মকর্তা মানবসম্পদ বিভাগের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় এমবিএ, স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা, মাস্টার অব প্রফেশনাল হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্টসহ কয়েকটি পেশাগত কোর্স সম্পন্ন করেছেন।কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকে গিটার বাজাতে ভালোবাসেন। সম্প্রতি এক আলাপনে পেশাগত জীবনে তার সফলতা ও জীবনাচরণের বিভিন্ন দিক জানার চেষ্টা করেছেন হাসানুজ্জামান পিয়াস

ক্যারিয়ারের গল্প দিয়ে শুরু করতে চাই…
আতিক উজ জামান খান: ব্র্যাকের একটি আইটি প্রজেক্টের প্রধান হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু। গ্রামের বিভিন্ন স্কুলে আইটি-বিষয়ক ট্রেনিং ও ট্রেনারদের ট্রেনিং দেওয়া ছাড়াও ট্রেনিং মডিউল করে দেওয়া, রিক্রুটমেন্ট প্রভৃতি দায়িত্বে ছিলাম। প্রায় সাত বছর দায়িত্ব পালনের একপর্যায়ে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় এমবিএ করি। একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা করি। এরপর করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠি। প্রথমে ডরিন গ্রুপ ও পরে বসুন্ধরা গ্রুপে যোগ দিই। এরপর মেঘনা গ্রুপে চলে আসি। বর্তমানে এ গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান (সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

পেশা হিসেবে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে বেছে নেওয়ার কারণ কী?
আতিক উজ জামান: মানবসম্পদ ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব হলো মানুষকে নিয়ে কাজ করা। মানুষের সঙ্গে মেশা, তাদের সাইকোলজি বোঝা ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা। কর্মব্যস্ততার ফাঁকে অতীতে দেশের নামকরা বিভিন্ন মিউজিক ব্যান্ডের সঙ্গে লিড গিটারিস্ট হিসেবে অনুষ্ঠান করাসহ বিভিন্ন সোশ্যাল ওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকায় মানুষের সঙ্গে কথা বলতে ও মিশতে পছন্দ করি। অ্যাকাউন্টস-ফাইন্যান্স বিভাগের কাজ অনেকটা করণিক ধাঁচের এবং একঘেয়েমি হওয়ায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ফাইন্যান্সের ওপর হলেও তাকে পেশা হিসেবে না নিয়ে বরং ব্র্যাকের আইটি প্রজেক্টে যোগ দিই।

এইচআর ম্যানেজারের জন্য চ্যালেঞ্জিং বিষয় কী?
আতিক উজ জামান: মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ তথা মালিকপক্ষ ও কর্মচারীদের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করেন। মালিকপক্ষ ও কর্মচারী উভয়ের নানা চাওয়া কিংবা প্রত্যাশা থাকে। সেসব প্রত্যাশা বুঝে সমন্বয় করতে হয়। এজন্য দক্ষতা যেমন কর্মচারীদের অনুপ্রাণিত করা, কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যয়যোগ্য থাকা, পারসোনাল স্কিল, কমিউনিকেশন স্কিল প্রভৃতি প্রয়োজন। আর মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বরত অনেকে এ পেশার ভূমিকা সম্পর্কে সম্পূর্ণ না জেনে বা না বুঝে আসেন, তাদের জন্য এসব বিষয় অনেক চ্যালেঞ্জিং।

বাংলাদেশের এইচআর প্র্যাকটিস সম্পর্কে বলুন…
আতিক উজ জামান: এইচআর প্র্যাকটিসিংয়ের বড় একটি অংশ হলো কমপ্লায়েন্স। আমাদের দেশে গার্মেন্ট সেক্টরে ক্রেতার দাবিতে প্রতিষ্ঠানগুলো কমপ্লায়েন্স মেনে চলে। কিন্তু অন্য অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এখনও কমপ্লায়েন্সকে তুলনামূলক কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানে কমপ্লায়েন্স কিংবা আধুনিক এইচআর প্র্যাকটিস শুরু হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে এইচআরের অনেক ফাংশন যেমন নির্দিষ্ট কাঠামোগত রিক্রুটমেন্ট পলিসি সেট করা, ট্রেনিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রভৃতি বিষয়ে ভালো চর্চা শুরু হয়েছে। সব প্রতিষ্ঠানে যথাযথ এইচআর প্র্যাকটিসের জন্য অনেক সময়ের প্রয়োজন।

পেশা হিসেবে এটি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
আতিক উজ জামান: এইচআর ম্যানেজাররা প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কাজ করেন, নানা ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেন এবং প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এটি একজন মানবসম্পদ পেশাজীবীর জন্য বিশাল আত্মপ্রেরণামূলক বিষয়। তাছাড়া এ পেশায় চ্যালেঞ্জ যেমন আছে, স্বীকৃতিও রয়েছে।

কর্মজীবনে সফলতায় কোন বিষয়গুলো বিশেষ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন…
আতিক উজ জামান: প্রথমেই বলব নানা ধরনের শিক্ষা, পেশাগত নানা কোর্স ভূমিকা রেখেছে। সহজ ভাষায়, শিক্ষা ও পেশাগত বিভিন্ন কোর্স ক্যারিয়ার গঠনে ভূমিকা রেখেছে। যেমন ফাইন্যান্সে স্নাতকোত্তর, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় এমবিএ ও আইটিতে ডিপ্লোমা। একই সঙ্গে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা (পিজিডিএইচআরএম), মাস্টার অব প্রফেশনাল হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), অ্যাডভান্সড সার্টিফিকেট ইন বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) ও নানা ধরনের পেশাগত ট্রেনিং ভূমিকা রেখেছে নিঃসন্দেহে। এসব বিষয় থেকে যে জ্ঞানার্জন করতে পেরেছি, তার সবই আমার সফলতায় সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। আরেকটি বিষয় হলো, আমি যেসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি, সেসব প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের সমর্থনে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং বিষয় নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, যা আমাকে সফলতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

যারা এ পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে চায়, তাদের উদ্দেশে আপনার পরামর্শ…
আতিক উজ জামান: অন্তর্মুখী মানুষদের এ পেশায় আসা ঠিক হবে না। কারণ, এ পেশায় মানুষের সঙ্গে মিশতে হয়। তাদের নানা সমস্যার কথা শুনতে হয়। ধৈর্য ধরতে হয় এবং সহনশীল হতে হয়। যোগাযোগে দক্ষ হতে হয়। ভালো এইচআর ম্যানেজার হওয়ার জন্য প্রথমে ভালো একজন মানুষ হতে হবে। এইচআর পেশায় ভালো করতে হলে ব্যবসা বুঝতে হবে। কলাকৌশলগত কাজ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করতে হবে। ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কাজের মাধ্যমে ভ্যালু অ্যাড করতে হবে।

কর্মব্যস্ত জীবনের বাইরে কি করতে ভালোবাসেন?
আতিক উজ জামান: ভালোবাসি গিটার বাজাতে। তবে বর্তমানে কর্মব্যস্ততার জন্য তেমন বাজানো হয় না। এক সময় সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় অ্যালবাম ও ব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছি। কুমার বিশ্বজিৎ, তপন চৌধুরী, সাবিনা ইয়াসমিন, শুভ্র দেব, শাকিলা জাফরসহ জনপ্রিয় অনেক সংগীতশিল্পীর একক গানের অনুষ্ঠানে গিটার বাজিয়েছি।

সর্বশেষ..