প্রথম পাতা

শিগগির পুঁজিবাজারে আসছে আইসিবির ৭৬০ কোটি টাকা

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: চলমান সংকট তারল্য কাটাতে পুঁজিবাজারে আসছে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ৭৬০ কোটি টাকা। এই অর্থ সরাসরি আইসিবির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হবে। বাকি ৯৬ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর মধ্যে স্বল্প সুদে বিতরণ করা হবে। এরই মধ্যে এই অর্থ আইসিবির অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।
আইসিবি সূত্র জানায়, মূলত পুঁজিবাজারের গতি ফেরাতেই তারা এই অর্থের আবেদন করে। কারণ এই অর্থগুলো বর্তমানে অলস পড়ে রয়েছে। পুঁজিবাজারের স্বার্থের কথা ভেবে ব্যাংলাদেশ ব্যাংকও এই অর্থ ছাড়তে রাজি হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী হলেও তার পর থেকেই ছন্দপতন শুরু হয়, যা একসময় ধসে পরিণত হয়। ফলে গত কয়েক মাস নিন্মমুখী অবস্থায় রয়েছে পুঁজিবাজারের সূচক। পাশাপাশি একই অবস্থায় রয়েছে অধিকাংশ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিটের দর, যে কারণে পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান থেকেই বাজারের গতি ফেরাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে ধসের ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর সহায়তায় ৯০০ কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের ৮৫৬ কোটি টাকা চায় আইসিবি।
বিষয়টি নিয়ে কথা বললে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইসিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এই অর্থ খুব শিগগিরই পুঁজিবাজারে আসবে। তবে ব্যাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত সব অর্থ আইসিবি সরাসরি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবে না। এর মধ্যে থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা স্বল্প সুদে বিনিয়োগকারীদের দেওয়া হবে। সুদের হার হতে পারে চার থেকে পাঁচ শতাংশ।
এর আগে গত ২ মে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংকে দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, চলমান পুঁজিবাজারের লেনদেনে নিন্মগতির ধারা প্রতিরোধে সুদ ও আসল হিসেবে আদায়কৃত ৮৫৬ কোটি টাকা আবর্তনশীল ভিত্তিতে পুনঃব্যবহারের সম্মতি দেওয়া হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর জন্য পুনরর্থায়ন তহবিলের মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এই তহবিলের মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ানো হয়। অর্থাৎ ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর মেয়াদ শেষ হবে এবং শেষ বিতরণ করা ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ৩১ মার্চ এই সময় পর্যন্ত।
বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষায় ২০১২ সালের ৫ মার্চ প্রণোদনা স্কিমের আওতায় ৯০০ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করা হয়, যা ৩ কিস্তিতে ৩০০ কোটি টাকা করে আইসিবির মাধ্যমে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবরের মধ্যে বিতরণ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও আইসিবির সমন্বয়ে গঠিত ‘তদারকি কমিটি’র তত্ত্বাবধানে এই ফান্ড বিতরণ করা হয়, যার মেয়াদ ছিল ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে পুঁজিবাজারবিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, আইসিবির এই অর্থ পুঁজিবাজারে এলে তাতে বাজার উপকৃত হবে। তবে এই অর্থ বাজারের জন্য খুব বেশি নয়। বাজারের গতি ফেরানোর জন্য প্রচুর অর্থের দরকার। সেজন্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসতে হবে। তারা এগিয়ে এলে বাজার আপন গতিতে ফিরবে।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..