শিল্পঋণে খেলাপি বেড়ে ৩৭ হাজার কোটি টাকা

মেহেদী হাসান: ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের বড় অংশই যায় শিল্প খাতে। অন্যান্য খাতের মতো শিল্প খাতের ঋণও খেলাপি হয়ে পড়ছে। চলতি বছরের মার্চ শেষে এ ঋণে খেলাপি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা, গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৭ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে শিল্প খাতে মোট দুই লাখ ৫০ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ছিল দুই লাখ ২২ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৩ শতাংশ। তবে বিতরণ ও আদায়ের তুলনায় বেড়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ, বকেয়া স্থিতি ও শ্রেণিকৃত ঋণ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ সময়ে এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকায়, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫১ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। এ হিসাবে বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। বকেয়া স্থিতি দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৯৩ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা, গত বছরের একই সময়ে যা ছিল তিন লাখ ২৫ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। সে হিসাবে বেড়েছে প্রায় ২১ শতাংশ।
তথ্যমতে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়শেষে শিল্পঋণ হিসেবে মোট বিতরণ করা দুই লাখ ৫০ হাজার ৭৬০ কোটি টাকার মধ্যে চলতি মূলধন ঋণের পরিমাণ দুই লাখ ১৩৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা, যা মোট বিতরণের ৭৯ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং মেয়াদি ঋণ ৫০ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণের ২০ শতাংশ।
আর্থিক খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েক বছর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় ঋণ বিতরণে অনিয়ম হয়েছিল। ওই সময় বিতরণ করা ঋণ এখন খেলাপি হয়ে পড়েছে। এগুলো যতদিন থাকবে, খেলাপি ঋণ ততদিন বাড়তেই থাকবে। এ বিষয়ে সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মেঘনা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, ‘সব খাতে খেলাপি হচ্ছে। তবে শিল্প খাতে একটু বেশি।’ তার মতে, পুনঃতফসিল করা ঋণ আবার খেলাপি হয়ে যাচ্ছে, সে কারণে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গত এক বছরের ব্যবধানে শিল্পঋণে খেলাপি ঋণ প্রায় ৩৩ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে বৃহৎ শিল্প ও ক্ষুদ্র শিল্পে এ বৃদ্ধির হার যথাক্রমে ৩৬ শতাংশ এবং ১১২ শতাংশ। তবে মাঝারি শিল্পে শূন্য দশমিক ৯৩ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে মোট শিল্পঋণ বিতরণের পরিমাণ ১২ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে বৃহদাকার শিল্প, মাঝারি শিল্প ও ক্ষুদ্র শিল্পে এ বৃদ্ধির হার যথাক্রমে ১০ দশমিক ৩৭ শতাংশ, ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং ৪১ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ।
তথ্যমতে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময় শেষে ব্যাংকের ধরনভেদে বকেয়া স্থিতির সঙ্গে শ্রেণিকৃত ঋণের হার রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ৩৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পাঁচ দশমিক ১৬ শতাংশ, বিদেশি ব্যাংকগুলোর দুই দশমিক ৯৮ শতাংশ, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ৪৭ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আট দশমিক ৭৩ শতাংশ।
প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকৃত ঋণের হার পাঁচ শতাংশের নিচে, ২০টি প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকৃত ঋণের হার পাঁচ শতাংশের বেশি কিন্তু ১০ শতাংশের নিচে, পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি কিন্তু ১৫ শতাংশের নিচে এবং ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১৫ শতাংশের বেশি রয়েছে।