সুস্বাস্থ্য

শিশুমনে আত্মকেন্দ্রিকতা দায় বড়দের

পরিবর্তনশীল এ সমাজে বদলে যায় সময়। এর সঙ্গে পরিবর্তন আসে সমাজ, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, জীবনযাপনের ধরনে। জীবনচর্চায় যে পরিবর্তন ঘটে, তার প্রভাব পড়ে শিশুমনে। বিশেষ করে যৌথ পারিবারিক গণ্ডি ছেড়ে একক পরিবারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি আমরা। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিশুর ওপর। তারা বেড়ে উঠছে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে।
যৌথ পরিবারের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসার অন্যতম কারণ অর্থনৈতিক তাগিদ। একই সঙ্গে পারিবারিক মূল্যবোধের ভাঙন কিংবা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবোধের বিকাশও কম দায়ী নয়। ফলে ভেঙে পড়েছে যৌথ পারিবারিক কাঠামো।
বর্তমানে একটি পরিবারে সাধারণত স্বামী, স্ত্রী ও একটি বা দুটি সন্তান দেখা যায়। এই তিন কিংবা চারের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একক পরিবারের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। কখনও কখনও এই ছোট পরিবারগুলোয় বাবা-মায়েরও ঠাঁই হয়। বাড়িতে অতিথি এলে একবেলার পর তাদের বিরক্তিকর মনে করা হয়। এ ধরনের একক পরিবারে বেড়ে উঠতে থাকা ছোটদের কাছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হতে থাকে বড়দের আত্মকেন্দ্রিকতার প্রবণতাগুলো।
একা হওয়া কিংবা একা ভালো থাকার প্রবণতা শিশুদের ওপর ভর করে বড়দের দেখে। এ ধরনের প্রবণতাই চোখে পড়ে তার চার পাশে। অনেক বাবা-মা তাদের কোনো কিছু ভাগাভাগি না করার মন্ত্রণা দেন। ‘কাউকে ক্লাসের আসল নোটটি দেখাবে না’, ‘নিজেরটা নিয়ে থাকো’, ‘অন্যেরটা ভাবার দরকার নেই’ ছোটদের ইত্যকার মন্ত্রণা দেন বড়রা।
আত্মীয়স্বজন কিংবা পাড়া-প্রতিবেশীর বিপদ-আপদেও তারা সন্তানদের না জড়ানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এই নির্লিপ্ততা শিশুমনে প্রভাব ফেলে বৈকি। ধীরে ধীরে বাইরের জগৎ সম্পর্কে নিস্পৃহ হয়ে উঠে সে। ক্রমশ এগুলো তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়। এমন নির্লিপ্ততা ও নিস্পৃহতা জন্ম দেয় এই স্থলভূমের মধ্যে বিচ্ছিন্ন ছোট ছোট দ্বীপে।

সর্বশেষ..