শীতকালীন ভ্রমণে যা জানা জরুরি

শীতকাল মনে করিয়ে দেয় ভ্রমণের কথা। অবশ্য এ সময়ে অনেকে অলসতায় দিন গুজরান করে থাকেন। অনেকে কুয়াশাচ্ছন্ন প্রকৃতিকে দেখার জন্য শহরের বাইরে যাওয়ারও মনস্থির করেন। তারা শীত এলেই বেরিয়ে পড়েন ভ্রমণে। তবে শীতের ভ্রমণ যেন অন্য ঋতু থেকে ভিন্ন। চাইলেও সহজভাবে ভ্রমণ করা সম্ভব নয়। কেননা, কনকনে হিমেল হাওয়া প্রকৃতি ও জনমানবকে ঠাণ্ডায় আচ্ছন্ন করে ফেলে। এ কারণে এ সময়ে একটু সতর্ক থাকতে হয়। তা না হলে কাশি, সর্দি ও জ্বর থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ভ্রমণটাই হয়ে যায় মাটি। তবুও ঝুটঝামেলা যা-ই হোক না কেন, শীতের ভ্রমণটা হাতছাড়া করতে চান না কেউই।
শীতের ভ্রমণে নেই যেমন বিরক্তি, তেমনি নানা রঙের ফুলের সাজে সজ্জিত প্রকৃতিটাও ধরা পড়েÑআনন্দে উদ্বেলিত হয় আমাদের মন, ভ্রমণটি হয় সার্থক। তাই আনন্দময় এ ভ্রমণের আগে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। তবেই সুন্দর ও সুস্থভাবে সম্পন্ন হবে শীতকালীন ভ্রমণ।
শীতে ভ্রমণপিপাসুদের যেসব বিষয়ে
জানা দরকার:

শীতকালে ভ্রমণের আগে শীতের পোশাক পরে নিতে হবে। এ সময় পাতলা পোশাক না পরাই ভালো। যতটা সম্ভব উষ্ণ পোশাক পরিধানের চেষ্টা করুন, যাতে কোনোভাবে ঠাণ্ডা না লাগে। ঠাণ্ডা লেগে গেলে ভ্রমণ স্পটে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়বেন। তাহলে সেখানে ঘুরতে যাওয়াটাই বৃথা হয়ে যাবে

বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় শুধু উষ্ণ পোশাক পরলেই হবে না, সে সঙ্গে পা-মোজা, হাত-মোজা, জুতা ও টুপি পরে নিন। মেয়েদের জন্য বর্তমানে বিভিন্ন ডিজাইনের মাফলার পাওয়া যায়, সেগুলোও তারা পরতে পারেন। এতে নাক পর্যন্ত ঢেকে নিতে পারবেন, সঙ্গে কান দুটোও ভালোভাবে ঢেকে নিন, যাতে কনকনে শীতে কোনোভাবে বাইরের ঠাণ্ডা বাতাস না ঢুকতে পারে

মণ ব্যাগে শীতের পোশাক বাড়তি নিয়ে নিন। যেখানে যাচ্ছেন, সেখানে পর্যাপ্ত কাঁথা-কম্বল নাও থাকতে পারে; তাই নিজ দায়িত্বে হালকা ধরনের কাঁথা নিন। আপনারই কাজে লাগবে। মোট কথা, ঠাণ্ডা থেকে যত সম্ভব দূরে থাকার চেষ্টা করুন

যেখানেই ভ্রমণ করুন না কেন, সেই স্থানের আবহাওয়া সম্পর্কে আগে জেনে নিন। কোনো কিছু না জেনে ভ্রমণে যাবেন না। আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে সেরকম প্রস্তুতি নিয়ে যেতে হবে

ভ্রমণে যাওয়ার আগে গরম খাবার খেয়ে বের হওয়াই শ্রেয়। ঠাণ্ডা খাবার খাওয়া উচিত হবে না, এতে দেহের অভ্যন্তরে ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে

নারী কিংবা পুরুষ যে-ই হন না কেন, সঙ্গে শীতের প্রসাধনী, যেমন: পেট্রোলিয়াম জেলি, লোশন, গ্লিসারিন প্রভৃতি নিতে হবে। এছাড়া অল্প পরিমাণে সরষের তেল নিতে পারেন। এর ব্যবহার উষ্ণ রাখতে সাহায্য করবে

শীতকালের ভ্রমণে হোয়াইট চশমা কিংবা সানগ্লাস নিতে পারেন। বাসে ভ্রমণের সময় চোখে বাতাসের ঝাপটা লাগে। চশমা পরলে এ থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। তাছাড়া যেখানে যাচ্ছেন, সেখানে সানগ্লাসের প্রয়োজন হতে পারে

বাস বা ট্রেনে উঠে জানালা বন্ধ করে দেওয়া উত্তম। গাড়ি চলন্ত অবস্থায় যে ঠাণ্ডা বাতাস আসে, সেটা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাছাড়া এ বাতাসে দ্রুত ঠাণ্ডা লেগে যায়। তাই জানালা বন্ধ রাখা উচিত

আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন, তাই প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সঙ্গে নিতে হবে

সঙ্গে রাখুন টর্চলাইট। কেননা, যেখানে যাচ্ছেন, সে স্থানটি শীতের কারণে কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকতে পারে। তাই রাতের সময় এটি কাজে লাগতে পারে

শীতকালে ভ্রমণের আগে স্থান নির্ধারণ করা উচিত। এ সময় সমুদ্র, ঝরনা কিংবা কোনো বিলে না যাওয়াই ভালো। কারণ এ সময় ঠাণ্ডা থাকে, তাই এসব স্থানে না যাওয়াই ভালো। সুতরাং শীতের সময় শুষ্ক জায়গাগুলো পছন্দের তালিকায় রাখা উচিত শীতকালের ভ্রমণে সতর্কতা ও উল্লিখিত কৌশলগুলো অনুসরণ করে ভ্রমণ আনন্দদায়ক করে তুলুন।

কামরুন নাহার ঊষা