শীতার্তদের জোগাতে হবে দরকারি সহায়তা

উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ। এর মধ্যে ৫০ বছরের ইতিহাসে এখানকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে সোমবার পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। উত্তরাঞ্চলের আরও কয়েকটি স্থানে ভেঙেছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড। এতে ওই এলাকায় মানুষের জীবন ও জীবিকা কী সংকটে পড়েছে, তা সহজেই অনুমেয়। মানুষের মৃত্যুর খবরও এসেছে সংবাদমাধ্যমে। বস্তুত শীতের অভিঘাত সবচেয়ে বেশি পড়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের সহায়তা জোগানোর জোরালো উদ্যোগ দৃশ্যমান হচ্ছে না। এ অবস্থায় প্রশাসনকে দ্রুততম সময়ে শীতার্ত মানুষের পাশে কার্যকরভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাব আমরা। শৈত্যপ্রবাহে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর আকার ছোট নয়। স্বল্প সময়ে এত মানুষকে সহায়তা জোগানো সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষে কঠিন হবে, এটাও সত্য। এজন্য অপেক্ষা করে থাকলে মানুষের কষ্টও বাড়বে। এ অবস্থায় আমরা শীতার্তদের সহায়তা জোগানোর আহ্বান জানাব সমাজের বিভিন্ন মহলের প্রতি। আশা করি, দেশের সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো শীতার্তদের সহায়তা জোগাতে হয়ে উঠবে সক্রিয়। ধনাঢ্য ব্যক্তিরাও পারেন অন্তত নিজ নিজ এলাকায় এ মানবিক কাজে এগিয়ে আসতে।

শীতে বিশেষ কিছু রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন প্রবীণ ও শিশুরা। শীতার্তদের সহায়তা হিসেবে উষ্ণতা জোগানোর মতো কাপড়ই সরবরাহ করতে দেখা যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। এ সময়ে সহায়তা হিসেবে ওষুধপথ্যও তাদের দরকার। কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে কাজের জন্য বাইরে যেতে পারছেন না অনেকে। তাদের একাংশের ঘরে খাবার নেই এখন। এদের সঠিকভাবে শনাক্ত করে খাদ্যসহায়তাও জোগাতে হবে। বস্তুত প্রতি বছর এই সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়। তবে অল্প কিছুদিন স্থায়ী হয় এমন পরিস্থিতি। এ সময়টায় মানুষকে খাদ্য বা অর্থসহায়তা জোগাতে কোনো পরিকল্পনা কি নেওয়া যায় না? আশা করব, বিষয়টি ভেবে দেখবেন নীতিনির্ধারকরা। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে আগামীকাল পর্যন্ত। তবে জানুয়ারিতেই আরও শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস রয়েছে। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, মাঘ শুরু হতে আরও ক’দিন বাকি। শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও মাঘেও শীতের তীব্রতা অনুভূত হবে বিভিন্ন স্থানে। এজন্যও থাকা চাই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি।

শীতে ক্রেতার ভিড় লক্ষ করা যায় বিশেষত কাপড়ের দোকানে। ফুটপাত থেকে বিলাসবহুল বিপণিবিতান, সবখানেই দেখা যায় এমন পরিস্থিতি। শীতের তীব্রতা যত বাড়ে, উষ্ণতা জোগানোর মতো কাপড়ের দামও তত বৃদ্ধি পায়। শুধু চাহিদা বা জোগানের কারণে নয় শীতবস্ত্রের বাজারে এ প্রবণতা লক্ষ করা যায় অতিমুনাফালোভী একশ্রেণির ব্যবসায়ীর কারণেও। এ সময়ে মুনাফা সচেতনতা কিছুটা হলেও পরিত্যাগ করতে পারেন তারা। খাদ্য ও ওষুধ বিক্রেতারাও যদি মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনেন, তাহলে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা কিছুটা হলেও সহজ হবে। দেরিতে পড়া তীব্র শীতে বোরো ও আলুর ফলনে ক্ষতির শঙ্কার কথা বলা হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে। এটা সীমিত পর্যায়ে রাখতে আমরা আশা করব কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা জোগানো হবে।