সুস্বাস্থ্য

শীতে শিশুর সুস্থতায় তৈরি করুন চ্যাবনপ্রাশ

রাজধানীতে গত দু’দিনের আবহাওয়া জানান দিচ্ছে শীতের আগমনের খবর। এবার যেন একটু তাড়াতাড়িই নামছে শীত। শহরবাসীর গায়ে লেগেছে শীতের ছোঁয়া। শুধু শহরেই নয়, শীত নেমেছে গ্রামগঞ্জেও। এ সময় সর্দি, কাশি, জ্বর নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়াতে পারে। শুধু বড়দের নয়, ছোটদেরকেও ঘিরে থাকতে পারে এসব রোগ।
শীতে অনেক শিশুর অল্প ঠাণ্ডাতেই সর্দি, কাশি, জ্বর লেগে যায়। এ কারণে মা-বাবা চিন্তিত হয়ে পড়েন। আগেকার দিনে শিশুদের সুস্থ রাখতে মা-দাদিরা তুলসী, বাসক পাতা প্রভৃতি দিয়ে এক ধরনের রস তৈরি করে পুরো শীতকালে খাওয়াতেন। এমনকি চ্যাবনপ্রাশ নামে এক ধরনের আয়–র্বেদিক ওষুধ বানিয়েও খাওয়াতেন।
সর্দি-কাশি কিংবা কোনো সংক্রমণ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে এটি ছিল চমৎকার ওষুধ। আজকাল অনেকে দোকান থেকে চ্যাবনপ্রাশ কিনে শিশুদের খাওয়ান। এগুলো অনেক দিন সংরক্ষণ করে রাখা হয়। এতে পটাশিয়াম সরবেট-জাতীয় প্রিজারভেটিভ মেশানো থাকে, যা শিশুর জন্য ক্ষতিকর। তাই প্রক্রিয়াজাত চ্যাবনপ্রাশের পরিবর্তে বাড়িতে নিজ হাতে চ্যাবনপ্রাশ বানিয়ে শিশুকে খাওয়াতে পারেন।

তৈরির ফর্মুলা
উপকরণ: আমলকী ৭০০ গ্রাম, চিনি ৭০০ গ্রাম, মধু ৮০ গ্রাম, ঘি ২০০ গ্রাম, তিলের তেল ৭০ গ্রাম, অল্প পরিমাণ গুঁড়ো পাউডার, এলাচ ২০ গ্রাম, ত্রিফলা ১০ গ্রাম, চন্দন আট গ্রাম, গোলমরিচ আট গ্রাম, আদা আট গ্রাম, দশমূল তিন গ্রাম, তেজপাতা দুটি, জায়ফল তিন গ্রাম, লবঙ্গ তিন গ্রাম ও দারুচিনি তিন গ্রাম।

তৈরি প্রণালি: পাউডারের সঙ্গে বাকি সব গুঁড়ো মসলা ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর আমলকী ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। কাঁটাচামচ দিয়ে আমলকী চিরে প্রেশারকুকারে খুব ভালোভাবে সেদ্ধ করুন। সেদ্ধ হয়ে গেলে আমলকীর বীজ বের করে ভালোভাবে চটকে নিন।
এবার নন-স্টিক প্যানে তিলের তেল ও ঘি গরম করে তাতে চিনি দিন। এরপর চটকানো আমলকী ঢেলে দিন। এ সময় আঁচ একটু কমিয়ে ফেলুন, কিছুক্ষণ নাড়ুন। পানি কিছুটা শুকিয়ে গেলে মিশ্রিত পাউডার ওপরে ছিটিয়ে দিন। এবার হালকা আঁচ চামচ দিয়ে ভালো করে মেশান। কিছুক্ষণ পর নামিয়ে ঠাণ্ডা করে নিন। ঠাণ্ডা হয়ে গেলে এর সঙ্গে মধু মেশান।
এখন একটি পরিষ্কার শুকনো কাঁচের বোতলে ঢেলে রাখুন। সময়মতো বের করে শিশুকে খাওয়ান। শুধু শিশুই নয়, বড়রাও খেতে পারবেন। তবে শীতকালে।

কামরুন নাহার ঊষা

সর্বশেষ..