প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

শীর্ষ চার সিকিউরিটিজ হাউজের তিনটির আয়-মুনাফা কমেছে

পলাশ শরিফ: পুঁজিবাজারে মন্দাবস্থার কারণে লেনদেনের শীর্ষ চারটি সিকিউরিটিজ হাউজের মধ্যে তিনটির মুনাফা কমেছে। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম শুধু আইসিবি সিকিউরিটিজ। তবে মুনাফা কমলেও ২০১৮ সালে শীর্ষ ছিল আইডিএলসি সিকিউরিটিজ।
এদিকে মুনাফায় ২০১৮ সাল শেষে শীর্ষ অবস্থান থেকে এক ধাপ পিছিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে নেমে গেছে লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ। একইভাবে লেনদেনে শীর্ষস্থান দখলে রাখা ব্র্যাক-ইপিএল স্টক ব্রোকারেজও মুনাফায় তৃতীয় থেকে পিছিয়ে এখন চতুর্থ অবস্থানে। এর বিপরীতে আগের অবস্থান থেকে এক ধাপ এগিয়ে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে আয়ের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ। ওই বছর প্রতিষ্ঠানটির আয় হয় প্রায় ১৯৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। আগের বছরের তুলনায় যা ১২ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ কম। আয় কমার বিপরীতে মার্জিন ঋণের প্রভিশন বাড়ায় মুনাফায় বড় ধস হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। গত বছর লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের কর-পরবর্তী মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৬৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে প্রায় ২৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকায় নেমেছে।
লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এ মুহূর্তে একটি কাজে ব্যস্ত আছি। আপনি প্রশ্ন এসএমএস করে পাঠান, আমি দেখে পরে কল করছি। তবে এসএমএস পাঠানো হলেও দুদিনেও তার কোনো জবাব দেননি তিনি। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
মুনাফা কমায় গত বছর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক-ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ। পুঁজিবাজারে শেয়ার লেনদেনকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালে মোট আয় করেছে প্রায় ৪৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, যা এর আগের আর্থিক বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কম। মূলত পুঁজিবাজারে মন্দাবস্থার কারণেই ওই প্রতিষ্ঠানটির আয় কমেছে। আর আয় কমায় ব্র্যাক-ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের কর-পরবর্তী মুনাফা ৮৮ শতাংশের বেশি কমে ওই আর্থিক বছর শেষে দুই কোটি ৩৯ লাখ টাকায় নেমেছে। যে কারণে আগের অবস্থান থেকে এক ধাপ পিছিয়ে মুনাফার শীর্ষ কোম্পানির মধ্যে এখন চতুর্থ অবস্থানে প্রতিষ্ঠানটি।
পিছিয়ে পড়ার কারণ সম্পর্কে ব্র্যাক-ইপিএল ব্রোকারেজ লিমিটেজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শরীফ এমএ রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমাদের কার্যক্রম পুরোপুরি পুঁজিবাজারনির্ভর। পুঁজি-পরিসরও প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় কম। তাই বাজার পরিস্থিতির ওপর আমাদের আয়-মুনাফা নির্ভর করে। ২০১৮ সালে লেনদেনে এগিয়ে থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আমরাও বিরূপ ব্যবসায়িক পরিস্থিতির মুখে পড়েছি। অন্যদের মতো বিকল্প আয়ের পথ না থাকায় আমাদের মুনাফা কমার হার বেশি। তাই এ বিষয়টি বেশি চোখে পড়ছে।’
এদিকে লেনদেনের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় পিছিয়ে থাকা আইডিএলসি সিকিউরিটিজই এখন মুনাফার অঙ্কে শীর্ষ সিকিউরিটিজ হাউজ। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা। যা এর আগের আর্থিক বছরের তুলনায় প্রায় আট দশমিক ৩২ শতাংশ কম। বিরূপ পরিস্থিতিতে ব্যয় কমানোসহ বেশকিছু পদক্ষেপের পরও আর্থিক বছর শেষে আইডিএলসি সিকিউরিটিজের কর-পরবর্তী মুনাফা সাড়ে তিন শতাংশের বেশি কমেছে। অন্যান্য প্রতিযোগীর তুলনায় আইডিএলসি সিকিউরিটিজ সবচেয়ে বেশি মুনাফা করেছে।
আলাপকালে আইডিএলসি সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুদ্দিন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমাদের আয়-মুনাফা পুঁজিবাজারের লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। পুঁজিবাজারে লেনদেন কমার কারণে গত বছর অনেক হাউজকে সংকটে পড়তে হয়েছে। আমরা সব সময় বিরূপ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই সে অনুযায়ী কাজ করি। মার্জিন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সব সময় সতর্ক থাকি। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মৌলভিত্তি-ব্যবসায়িক সক্ষমতা নিয়ে গবেষণা করে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিই। সে সঙ্গে বাজার পরিস্থিতি মাথায় রেখে আয়-ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে চলার চেষ্টা করি। যা আমাদের বড় ধরনের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। মূলত ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণেই পরিস্থিতি কিছুটা হলেও সামাল দিতে পেরেছি।’
শীর্ষ সিকিউরিটিজ হাউজগুলো মুনাফায় পিছিয়ে পড়লেও আইসিবির সহযোগীর ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র দৃশ্যমান। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটির মোট আয় আগের আর্থিক বছরের তুলনায় ২৮ শতাংশের বেশি কমলেও মার্জিন ঋণের প্রভিশন কমিয়ে ধাক্কা সামাল দিয়েছে আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি। আর্থিক বছর শেষে প্রতিষ্ঠানটির কর-পরবর্তী মুনাফা এর আগের আর্থিক বছরের তুলনায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা বেড়ে সাত কোটি ৭৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বেসরকারি ব্র্যাক-ইপিএল স্টক ব্রোকারেজকে সরিয়ে মুনাফার দিক থেকে এখন তৃতীয় অবস্থানে আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং।
উল্লেখ্য, ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ পাঁচ হাউজের চারটি পুুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে লেনদেনে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক-ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেড। এর পরের অবস্থানে রয়েছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ লিমিটেড। রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সহযোগী আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড এখন তৃতীয় অবস্থানে। তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে অ-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি ফাইন্যান্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি সিকিউরিটিজ লিমিটেড। আর তালিকায় পঞ্চম স্থানে থাকা সিটি ব্রোকারেজ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের সহযোগী নয়। তাই প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

সর্বশেষ..



/* ]]> */