শুকুর মল্লিক মসজিদ

মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর অনেক নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এমনই একটি দর্শনীয় স্থান ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের বারোবাজার। কালের বিবর্তনে টিকে থাকার পাশাপাশি গৌরবভরে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে এখানকার কীর্তিগুলো। এগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি শুকুর মল্লিক মসজিদ। এ বিষয়ে জানাচ্ছেন মো. হাসানুজ্জামান পিয়াস

শুকুর মল্লিক মসজিদটি বারোবাজার ইউনিয়নের হাসিলবাগ গ্রামে। এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ এটি। স্থানীয়দের মধ্যে এটি ‘হাসিলবাগ মসজিদ’ নামেও পরিচিত।

শুকুর মল্লিক মসজিদের আকৃতি বর্গাকার। বারোবাজারে আবিষ্কৃত অন্য এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে ছোট। মসজিদটি দেখতে অনেকটা ঢাকার বিনত বিবির মসজিদের মতো।

১৯৯৬ সালে প্রত্নত্তের সন্ধানে বারোবাজারে খননকাজ হলে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা শুকুর মল্লিক মসজিদটি আবিষ্কৃত হয়। আশেপাশের কৃষিজমির চেয়ে প্রায় তিন ফুট উচ্চতায় আনুমানিক ১২ গুণন ১০ মি. পরিমাপের মৌচাকৃতির ঢিবির ওপর মসজিদটি অবস্থিত। মসজিদের পূর্বদিকে একটি প্রবেশপথ রয়েছে। প্রায় এক দশমিক দুই মিটার পুরু দেয়াল ও অর্ধাবৃত্তাকার আকৃতির একটি মেহরাব রয়েছে। মেহরাবটি মসজিদের কিবলা দেওয়ালে। এর উভয় পাশে একটি করে বন্ধ মেহরাব দেখা যায়। কেন্দ্রীয় মেহরাবটিতে পোড়ামাটির ফলকে ঘণ্টা ও চেইনসহ নানা ধরনের নকশা চোখে পড়ে। মসজিদটি মুসলিম স্থাপত্যের এক নয়নাভিরাম ও অনন্য উদাহরণ।

রাজধানী থেকে খুব সহজে এখানে যাওয়া যায়। যশোর থেকে বারোবাজারের দূরত্ব ১৭ কিলোমিটার। রাজধানী থেকে বিভিন্ন পরিবহনের এসি ও নন-এসি বাসে চড়ে সরাসরি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় পৌঁছানো সম্ভব। ঝিনাইদহ হয়ে কালীগঞ্জ যাওয়ার দূরপাল্লার বাসের মধ্যে রয়েছে ঝিনাইদহ লাইন, দর্শনা ডিলাক্স, চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স, রয়েল ও সোনার তরী। চাইলে ট্রেন কিংবা বিমানযোগেও যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে প্রথমে যশোর নামতে হবে। যশোর থেকে সরাসরি বাস বা সিএনজি অটোরিকশায় বারোবাজার যেতে পারেন।