সম্পাদকীয়

শুমারিতে উঠে আসুক কৃষির সার্বিক চিত্র

দেশের মোট অর্থনীতিতে কৃষি খাতের আকার ও অবদান নির্ণয়ের মাধ্যমে খাতটির কার্যকর উন্নয়ন সম্ভব। কিন্তু এ যাবৎ পরিচালিত কৃষিশুমারিগুলোয় পুঙ্খানুপুঙ্খ কৃষিচিত্র তুলে আনা সম্ভব হয়নি। কৃষিশুমারিতে শষ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদকে প্রধান খাত বিবেচনা করলেও আগের শুমারিগুলোয় স্থায়ী ফসলের গণনা করা হয়নি। এমনকি গ্রামীণ বাড়ির আঙিনা-কৃষি কিংবা শহুরে বাড়ির ছাদ-কৃষির মতো ক্ষুদ্র চাষাবাদ এ শুমারির বাইরে যেতে পারে না। তাই চলতি বছর শুরু হওয়া শুমারিতে যাতে কৃষি খাতের সার্বিক চিত্র উঠে আসে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।
বর্তমানে শহুরে মানুষের মধ্যে ছাদ-কৃষির প্রবণতা ক্রমবর্ধমান হারে বেড়েই চলেছে। কেবল ছাদেই এবং বাড়ির আঙিনায় বিদেশি প্রজাতির শৌখিন মাছ চাষ করে অনেকেই অর্থ আহরণ করছে। আবার পরিবারের নিত্য শাকসবজির চাহিদা এই ছাদ-কৃষি থেকে মেটানোর চল শুরু হয়েছে। বাণিজ্যিকভিত্তিতে ফুলের চাষ না করলেও শখের বসে সারা দেশে প্রচুর পরিমাণে শৌখিন ফুল ও বাহারি গাছের চাষ হয়ে থাকে টবে ও আঙিনায়। এগুলো অনেক পরিবারের ফুল ও বাহারি গাছের চাহিদা মেটাতে আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করে।
উল্লেখ্য, আঙিনায় চাষ করা শাকসবজির ওপর গ্রামের বেশিরভাগ পরিবার নির্ভর করে এবং অনেকেই তা থেকে বাজারে বিক্রিও করে। এসব ক্ষুদ্র উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকে প্রবল। কিন্তু নিবিড়ভাবে প্রভাবিত করে যাচ্ছে। এগুলো শুমারি থেকে বাদ পড়ার কোনো অবকাশ থাকে না।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এই শুমারিতে আউশ, আমন, বোরো, গম, আলু ও পাটের মতো প্রধান ফসলের পাশাপাশি ১২০টি অপ্রধান ফসলের হিসাব প্রস্তুত করেছে। এমনকি এসব অস্থায়ী ফসলের পাশাপাশি এবারই বনজ ও ফলজ বৃক্ষ এবং এর উৎপাদন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে চলেছে। এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। সিদ্ধান্তসমূহে যথাযথ উপায়ে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও আমরা আশা রাখি।
পল্লি এলাকার ২৪০, পৌর এলাকার ৩০০ ও সিটি করপোরেশনের ৩০০ খানা প্রতি একটি গণনা এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব খানা জরিপে যেসব স্থানীয় লোক কাজ করেন তাদের দায়িত্বহীনতা ও অস্বচ্ছতার নজির রয়েছে। কিন্তু দেশের মোট ভূমির ব্যবহার, চাষযোগ্য ভূমি ও ফসলের প্রকার, কৃষি উপকরণ, সেচ যন্ত্রপাতির সঠিক তথ্য না পাওয়া গেলে কৃষি নীতি ও পরিকল্পনা, কৃষি খানা ও প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। তাই নিয়োগকৃত ৪৪ হাজার ২১১ গণনাকারী ও ২৩ হাজার ১৬৫ জন সুপারভাইজারের কাজকে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে যথাযথ উপায়ে তদারকি ও সমন্বয় করা হবে বলে আমরা বিশ্বাস রাখি।

সর্বশেষ..