শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার রোধে সতর্কতা কাম্য

কাস্টমস আইন অনুসারে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে কেউ কোনো গাড়ি ব্যবহার করলে পরবর্তী সময়ে তার পদবি পরিবর্তন হলে বা অন্য কোনো সংস্থায় যোগদান করলে পুরোনো কাস্টমস পাসবুক জমা দিয়ে তাকে নিতে হবে নতুন পাসবুক। পুরোনো গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার আর ব্যবহার করতে পারবেন না তিনি। এদিকে কাস্টমস আইন ১৯৬৯-এর ৭ ধারা অনুযায়ী, প্রকল্পের কাজ শেষ হলে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা গাড়ির ব্যাপারে অবহিত করতে হয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর); গাড়ি হাতবদল হলে তা সম্পন্ন করতে হয় বিধি মোতাবেক শুল্ক-করাদি পরিশোধপূর্বক। এখন সেই প্রক্রিয়ার যে ব্যত্যয় ঘটে থাকে, তার উদাহরণ হলো গতকালের শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘ডিএফআইডির শুল্কমুক্ত সুবিধার গাড়ি গোপনে বিক্রি’ শিরোনামের খবরটি। অভিযোগ, শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা যুক্তরাজ্যভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ডিএফআইডি) বেশকিছু গাড়ি শুল্ককর পরিশোধ না করেই গোপনে বিক্রির চেষ্টা হয়েছে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহারের ‘শিকার’ এমন ১১টি গাড়ি সম্প্রতি সাভারের সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি) থেকে জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা তদন্ত অধিদফতর। এগুলোর দাম ৩০ কোটি টাকার কম হবে না বলেই অনুমান। প্রথম কথা, ডিএফআইডি ও সিআরপি দুটোই নামকরা প্রতিষ্ঠান। সামান্য অসতর্কতায় যেন তাদের সুনাম ক্ষুন্ন না হয়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদেরই সজাগ থাকা উচিত ছিল আগে। এখন শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃক গাড়ি জব্দের ঘটনায় সংস্থা দুটির সুনাম কিছুটা হলেও ক্ষুন্ন হলো বৈকি। কেউ কেউ অবশ্য বলতে চাইবেন, এত বড় দুটো সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া কঠিন। তাছাড়া উভয় সংস্থারই ট্র্যাক রেকর্ড বলে, নিজ কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় আইনের প্রতি বরাবর শ্রদ্ধাশীল থেকেছে তারা। এ অবস্থায় সংস্থাগুলোর প্রথম কাজ হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পূর্ণ সহযোগিতার পাশাপাশি তাদের ভেতরের কেউ এ দুষ্কর্মে যুক্ত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া।
দ্বিতীয় বিষয় হলো, দেশে কর্মরত বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আনার পর প্রকল্প সমাপান্তে একশ্রেণির স্থানীয় দালাল দ্বারা প্রতারিত হওয়ার নজিরও রয়েছে। কারও কারও পর্যবেক্ষণ এক্ষেত্রে বিদেশিরা যতটা না উৎসাহী, তার চেয়ে বেশি আগ্রহী অন্যরা। এরা এমনকি বিদেশেও এ ধরনের কর সুবিধাপ্রাপ্ত ও ব্যবহৃত গাড়ি কেনার আশায় বসে থাকে দেশে এনে বেশি দামে বিক্রির ধান্ধায়। এ দৈনিকের কাছেও একাধিক ব্যক্তি তথ্য দিয়েছেন, প্রতিটি সংস্থার মধ্যে একটি দালাল চক্র রয়েছে। এটি বিদেশি কোনো সংস্থা গাড়ি বিক্রি করতে চাইলে তা কিনে নেয়। ডিএফআইডি তেমন কোনো চক্রের পাল্লায় পড়া বিচিত্র নয়। এ অবস্থায় শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয় দালাল চক্রগুলোকে চিহ্নিতপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া। আজ হয়তো ডিএফআইডি প্রতারণার শিকার হয়েছে; কিন্তু দালালচক্রগুলোর অপকর্ম অব্যাহত থাকলে কাল অন্য কোনো উন্নয়ন সংস্থা তেমন ঘটনার শিকার হবে না সে নিশ্চয়তা কে দিতে পারে? একই সঙ্গে এসব ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ভালোভাবে সতর্ক করে দেওয়া উচিত, যাতে পরবর্তী সময়ে আলোচ্য ঘটনার মতো অনাকাক্সিক্ষত কিছুর সৃষ্টি না হয়।