শুল্ক নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে আবারও ট্রাম্পের ক্ষোভ প্রকাশ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে ফের ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত এক সপ্তাহের দুবার তিনি বিষয়টি আলোচনায় আনলেন। গত শনিবার লাস ভেগাসে এক সভায় ট্রাম্প বলেন, ভারত কোনো কোনো মার্কিন পণ্যে ১০০ শতাংশেরও বেশি শুল্ক চাপায়। অথচ একই ধরনের পণ্যে আমেরিকা কোনো কর বসায় না। ট্রাম্পের দাবি, এ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। খবর: আনন্দবাজার।
ট্রাম্পের অভিযোগ, অনৈতিক বাণিজ্যের সুবিধা নেয় ভারত। তার দাবি, এ ধরনের ভারসাম্যহীন বাণিজ্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বছরে ৮০ হাজার কোটি ডলার হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি আর বরদাস্ত করা হবে না। এর প্রতিকার হিসেবেই প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে শুল্কের বিষয়টি নিয়ে মার্কিন সেনেটের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সদস্যদেরও তোপ দেখেছেন ট্রাম্প। তার দাবি, সিনেটের বহু সদস্যই চান না যে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তারা মনে করেন এটা অবাধ বাণিজ্যের পরিপন্থি। কিন্তু তার প্রশাসন বাণিজ্যে কোনো ‘কারচুপি’ বরদাস্ত করবে না।
গত ২৪ জানুয়ারি হোয়াইট হাউজে বাণিজ্য নিয়ে নতুন আইন ঘোষণার সময়ে অবশ্য ট্রাম্প নিজেই বলেছিলেন যে, মাত্র দুই মিনিটের কথায় ভারত দামি বিদেশি মোটরসাইকেলের শুল্ক ১০০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫০ শতাংশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দুই দশমিক চার শতাংশের চেয়ে এটি বেশি হলেও, আগের তুলনায় ভালো। বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, গত শনিবার নিজের সমর্থকদের মন জয়ের লক্ষ্যেই ফের ভারতকে নিশানা করলেন তিনি।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের বিরুদ্ধে চড়া শুল্কের অভিযোগ আনছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভারতকে তকমা দিয়েছেন ‘শুল্কের রাজা’ নামে। হার্লে ডেভিডসন বাইক থেকে মার্কিন হুইস্কি-ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এ সব পণ্যে শুল্ক বেশি বলে। গত নভেম্বরে মার্কিন বাজারে অন্তত ৫০টি ভারতীয় সামগ্রীর বিনাশুল্কে বিক্রির সুবিধাও ফিরিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বলেছে ভারতসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে দেওয়া রফতানির সুবিধা (জিএসপি) প্রত্যাহারের কথা। ২০১৭ সাল থেকে ভারত জিএসপির কারণে রফতানি বাণিজ্যে প্রচুর লাভ করে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির শুল্কমুক্ত রফতানির পরিমাণ ৫৭০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়।