সারা বাংলা

শেরপুরে নতুন এলাকা প্লাবিত

 

এম এ রফিক, শেরপুর: পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সদর উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে পানি দ্রুত বেগে প্রবেশ করায় চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শেরপুর-জামালপুর সড়কের নন্দীরবাজার পোড়ার দোকান কজওয়ের (ডাইভারশন) ওপর প্রায় দুই ফুট উচ্চতায় বন্যার পানি দ্রুত বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। ওই সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করলেও যেকোনো সময় শেরপুর-জামালপুর হয়ে ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদের পানি শেরপুর ফেরিঘাট পয়েন্টে এক মিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড। এদিকে ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত পাঁচ দিনে বন্যার পানিতে ডুবে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
জেলা ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে সৃষ্ট বন্যায় শেরপুরের পাঁচটি উপজেলার ৩৭টি ইউনিয়নের ১৮৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৬৭ হাজার লোক পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। জেলায় ৫৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ওঠায় ছয় দিন ধরে পাঠদান বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোকসেদুর রহমান।
জেলা প্রশাসন ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় জেলার বিভিন্ন পুকুর, জলাশয় ও খামারের মাছ ভেসে এবং পাড় ভেঙে প্রায় পাঁচ কোটি ১৮ লাখ টাকার মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া জেলায় ১২৫ হেক্টর সবজি ক্ষেত ও ৭৪৭ হেক্টর রোপা আমন ধানের বীজতলা এবং ১৬৫ হেক্টর জমির আউশ ধানের ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। এ পর্যন্ত বন্যাদুর্গতদের মধ্যে ৩৫ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং নতুন করে ঝিনাইগাতী উপজেলার জন্য ১০ টন ও সদর উপজেলার জন্য ১০ টন চাল বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ..



/* ]]> */