শেষ কথা

ঢাকার পতিত নগর পরিসরে সহসা রাজধানী জেগে ওঠায় আবাসন ও নির্মাণ খাত হয়ে উঠেছিল অনিবার্য। সেই বাতাবরণে জহুরুল ইসলামের সৃজনী পদক্ষেপ ছিল তুরুপের তাস। ক্ষুদ্র ঠিকাদারি দিয়ে শুরু। দেশের সীমানা মাড়িয়ে বিদেশ-বিভুঁইয়ে তিনি গড়েছেন আকাশচুম্বী অট্টালিকা, সড়ক-মহাসড়ক, কল-কারখানা; এমনকি দেশের আঙিনায় বুলন্দ করেছেন বিদেশি বড়-প্রসিদ্ধ বাণিজ্যিক ও শৌখিন গাড়ির সমৃদ্ধি। রাজধানী ঢাকার নির্মাণ, আবাসন ও বিস্তৃতির বিবর্তনিক ইতিহাসের ধারাক্রমে জহুরুল ইসলাম তাই এক অবিচ্ছেদ্য প্রাসঙ্গিকতা। শেষ পর্ব

মিজানুর রহমান শেলী: কিশোর বয়সে জহুরুল ইসলাম দম্ভ করে বলেছিলেন, চাচার মতো বাড়ি আমি আল্লাহর ইচ্ছায় প্রতি বছর বানাব। জহুরুল ইসলামের সেই প্রতিজ্ঞা আজ ঢাকা শহরের আবাসনের বাস্তবতা। তিনি দেশ-বিদেশে হাজার বাড়ি বানিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিলেন আশাবাদী। গ্যাস, তেল, চামড়া ও শ্রমশক্তি নিয়ে তিনি স্বপ্ন দেখেছেন। এ কয়েকটি সম্পদ দিয়েই তিনি এ দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করতেন।
এই মহৎ পুরুষ জহুরুল ইসলামকে যদি জিজ্ঞাসা করা হতো আপনি সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান কিসে? তিনি বলতেন, ‘যখন কোনো বড় কাজের কন্ট্রাক্ট আমি পাই, সেটিই আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়।’
একসময় এদেশের ঠিকাদারি কাজ করত পশ্চিম পাকিস্তানিরা। জহুরুল ইসলাম ভাবলেন, আমাদের কাজ ওরা কেন করবে? তখন সিঅ্যান্ডবির প্রধান স্থপতি বাঙালি দেশপ্রেমিক মাইনুল ইসলামের সমর্থন পেলেন। তাই সামান্য করণিকের কাজ ছেড়ে ছোটখাটো নির্মাণকাজ দিয়ে শুরু করলেন। ধীরে ধীরে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ল তার নাম-কাজের খ্যাতি। আবাসন ব্যবসার সৃজনী পদক্ষেপ নিলেন। গড়ে তুললেন ইস্টার্ন হাউজিং। পল্লবীতে বাণিজ্যিকভাবে আবাসন গড়ে তুললেন।
এই ইস্টার্ন হাউজিং কোম্পানিই ঢাকায় ‘প্লাজা সংস্কৃতি’ গড়ে তুলেছে। তারাই ঢাকার পুরোনো হাতিরপুল এলাকায় ইস্টার্ন প্লাজা নামের প্রথম শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণ করে। ফলে অন্যরা উৎসাহিত হয়। কেবল ধানমন্ডি আবাসিক এলাকাতে নয়। গুলশান, বনানী, শান্তিনগর, রামপুরা রোড, মৌচাক-মালিবাগ প্রভৃতি এলাকায় তার শপিং প্লাজা গড়ে তোলেন।
একসময় ঢাকার বাড়িগুলো ছিল গ্রামের বাড়ির মতোই। কিন্তু ধীরে ধীরে রাজধানী প্রতিষ্ঠার পরে এতে পরিবর্তন আসতে থাকল। নাগরিক গতি ও অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা তাদের স্থাপত্য কাঠামোতে পরিবর্তন ও সংহতি সৃষ্টি করল। এতে করে আধুনিক বাড়িগুলো হয়েছে বাঙ্ময় ও নয়নাভিরাম। ঢালু ছাদ ও গভীর বারান্দার সঙ্গে সমকালীন নান্দনিকতা যুক্ত হয়েছিল। ফলে ঐতিহ্যবাহী বাড়ি ও বাংলোকেও ছাড়িয়ে গেছে ঐশ্বর্য ও বৈশিষ্ট্যের বিচারে।
১৯৭১ সালের যুদ্ধ-পরবর্তী দশার কথা। বিধ্বস্ত এই শিশু রাষ্ট্রে তখন স্থাপত্য কাঠামোতে আপন পরিচয় খোঁজার চেয়ে জরুরি অবকাঠামো নির্মাণই অনিবার্য হয়ে পড়ে। ফলে স্থপতিরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে থাকে। ফলে ঢাকা শহরে স্থাপত্য কাঠামো ও তার শৈলীতে আসে আধিক্য ও বৈচিত্র্য। পরের তিন দশক ধরে এই রীতি চলতে থাকে। তাই বাংলাদেশের সমকালীন স্থাপত্য ইমারতে বিভিন্নতা ও বৈচিত্র্যের সমাহার রয়েছে। স্থাপত্য সংরক্ষণ, বাণিজ্যিকভাবে নির্মিত আবাসন, ক্রীড়া ও বিনোদন প্রকল্প ইত্যাদিতে স্থপতিদের পেশাগত অংশগ্রহণ বাংলাদেশে অতি সাম্প্র্রতিক ঘটনা।
তবে এরকম একটি শিশু রাষ্ট্রের উšে§ষ ঘটাতে স্থাপত্যে নিজস্ব পরিচয়ের সঙ্গে অন্যান্য চাহিদা মিটমাটের বিষয়গুলোও সন্নিবেশিত করতে হয়। ঢাকা শহরে এ ঘটনাটাও ঘটেছিল। নতুন বুর্জোয়া শ্রেণির চাহিদাও এখানে মুখ্য হয়ে উঠেছিল। ফলে ইমারতে সহজাত উপকরণগুলো জুড়ে দিয়ে তাকে প্রতিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নাগরিক পরিবেশে একটি গ্রামীণ চিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। নতুন ঢাকায় গড়ে ওঠা আধুনিক সব দালানকোঠায় আবার উত্তর-আধুনিকতার ছোঁয়া স্পষ্ট হয়ে উঠল। একই ইমারতে পোড়ামাটি, অ্যালুমিনিয়াম, রঙিন কাচ, টালি দেওয়া ছাদ এবং নিরাভরণ কংক্রিটের এক অদ্ভুত মিশ্রণ তৈরি হলো।
ষাটের দশকের আগে বাড়িঘর ছিল একঘেয়ে করিডোর দিয়ে যুক্ত সারি সারি ঘরের কোলাহল। এখন আরও বেশি আলো-বাতাসময় পরিসরে পরিব্যাপ্ত হয়েছে। তলা তলায় এর উচ্চতা বেড়ে ওঠায় এর নান্দনিকতায় আকাশের উপস্থিতি যুক্ত হয়েছে। আরও বেশি বিশালতা পেয়েছে। উš§ুক্ত হয়েছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বেশিরভাগ স্থাপত্যে দেশীয় পরিচয় বেশ খানিকটা স্পষ্ট ছিল। কিন্তু নব্য ধনীদের স্থাপত্যে প্রদর্শনমুখী, চাকচিক্যময়, অসংযমী ও উদ্ভট চরিত্রের আখড়া বানিয়েছে। এর বেশিরভাগই উত্তর-আধুনিকতার অসার ভানে পূর্ণ।
এ সময় থেকে অবশ্য বিচিত্র নির্মাণসামগ্রী ও নির্মাণকৌশল বাজারে এসেছে। মার্বেল টাইলস বা অ্যালুমিনিয়াম সেকশন এখানেই তৈরি হচ্ছে। ফলে ব্যবহারে ব্যাপকতা এসেছে। আরও ধনীরা বিভিন্ন পাথর এবং রান্নাঘর ও গোসলখানায় উচ্চমানের দামি সামগ্রী ব্যবহার করছে। শেরেবাংলা নগরের ইমারতগুলোতে উš§ুক্ত লাল ইটের ব্যবহার শুরু হলো। সেই থেকে সত্তর দশকে এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে উঠল।
আশির দশকের কথা। এ সময় হোটেল সোনারগাঁওয়ে জাপানি স্থপতিরা বনটাইল ফিনিস ব্যবহার করে। এরপর থেকে তা লাল ইটের স্থান দখল করে। বর্তমানে আরও অনেক উপকরণ এসেছে। এগুলো জলবায়ু উপযোগী ও সৌন্দর্যগুণসম্পন্ন।
এই আশির দশকেই নগর আবাসনে বহুতল অ্যাপার্টমেন্টের আগমন ঘটে। চারদিকে কংক্রিটের বাড়িঘর যেন জঙ্গলা বাঁধিয়ে দিয়েছে। ঠাঁই নেই। তাই আকাশ দখলের মহড়া। স্থপতিরা আবার নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলো। দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশিয়ে তাকে আকাশ রেখায় গমন করতে হবে।
এই সুউচ্চ বাড়িঘরের প্রথমে দেখা গেল একটির ওপর আরেকটি তলা কেবল চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে বিভিন্ন তলায় গাঠনিক বৈচিত্র্য এলো। উঠানকে কেন্দ্র করে যে বাড়ি বানানোর দেশীয় রীতি ছিল সে রকম রীতিতে কেন্দ্রীয় আঙিনা, সবার ব্যবহারের জন্য খোলা ছাদ ও মাচা-ছাউনির চারদিক দিয়ে ঘরগুলো সজ্জিত হচ্ছে। এক দেয়ালের একটি ফ্ল্যাটের ভেতরে এখন আরাম-আয়েশ ও প্রয়োজন সবই মিটছে।
নির্মাণ ব্যয়ে ঊর্ধ্বগতি, জমির আয়তন ছোট হয়ে যাওয়া বহুতল ভবন নির্মাণের প্রধান কারণ। আবাসনে দেখা যাচ্ছে, খাবার ঘরের চারধারে অন্যান্য ঘরদোর সাজানো হচ্ছেÑঠিক আদিকালের বাড়ির আঙিনার মতো।
বাংলাদেশে সরকারি খাতের গৃহায়ন তেমন হয়নি। ‘স্টাফ কোয়ার্টার্স’ বা কলোনি নামক সরকারি কর্মচারীদের ফ্ল্যাটবাড়ি কিছু নির্মাণ হয়েছে মাত্র। এর পাশাপাশি আর যা আছে তার মধ্যে সাইটস-অ্যান্ড-সার্ভিস প্রকল্প, কোর হাউজিং, বিক্রির জন্য হায়ার-পারচেজ ফ্ল্যাট এবং বস্তি উন্নয়ন ও পুনর্বাসন প্রকল্প। অর্থাৎ সরকারি কর্মচারী আর বড় লোকদের প্রয়োজনের দিকেই কেবল নজর দেওয়া হয়েছে। সাধারণ জনগণের গৃহায়ন বলতে তেমন কিছুই হচ্ছে না; যা কিছু নতুন প্রকল্প ইদানীং নেওয়া হচ্ছে তা অতীতের অবহেলা মুছে ফেলার দায়সারা গোছের সামান্য প্রকল্প। ব্রিটিশ আমলে এ রকম কিছু প্লটের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো কালক্রমে সংকুচিত হয়ে তলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মূল কারণ জমির দুষ্প্রাপ্যতা। আবার বহুতল ভবনের চাহিদা বাড়ায় নতুন নির্মাণ কৌশল প্রয়োগ শুরু হয়েছে।
সরকারি প্রকল্পের সীমাবদ্ধতা আর একটি নতুন রাষ্ট্রের উত্থান ও অগ্রগতির সঙ্গে তাই বেশি বেশি বাণিজ্যিক ভবন প্রয়োজন হয়। এ কারণেই স্থপতিরাও গগনচুম্বী অট্টালিকার পরিকল্পনা নিয়ে থাকেন। বড় বড় শহরে নতুন গজিয়ে ওঠা বহুতল বাণিজ্যিক ভবনগুলো দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক কাঠামোকে নির্দেশ দেয়।
ব্রিটিশরা তাই এদেশ থেকে চলে গেলে নতুন শিশু পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রয়োজন হলো বেশি বেশি আবাসন। এই চাহিদা পূরণ করতে সরকারের পাশাপাশি জহুরুল ইসলাম যেভাবে গৃহায়নে হাল ধরেছিলেন তারই পাটাতনের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে আজকের ঢাকার আবাসন। বর্তমানে মধ্য ও নি¤œমধ্যবিত্ত মানুষের রাজধানীতে আবাসনের সুযোগ তৈরি হয়েছে জহুরুল ইসলামের উদ্ভাবনী আবাসন ব্যবসা প্রকল্পের মাধ্যমে।
এ লক্ষ্যেই ১৯৬৪ সালে মিরপুরের পল্লবীতে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এটাই প্রথম বাণিজ্যিক আবাসনের সূত্রপাত। এর পরপরই ফ্রি স্কুল স্ট্রিট প্রপার্টি। এরাও স্বাধীনতার আগ থেকেই আবাসন ব্যবসায় নামেন। বহুতল আবাসন তারা নির্মাণ করত।
সত্তর দশকের শেষের দিকে কিছু নির্মাতা এই ব্যবসায় ঝুঁকে পড়েন। তৈরি ফ্ল্যাট ব্যবসার দ্রুত বেড়ে ওঠা সম্ভাবনা তাদের চোখে পড়ে। এই পরিস্থিতি দেশের আবাসন সমস্যাকে যেমন মিটমাট করতে শুরু করে, তেমনি একটি নতুন ব্যবসায় কাঠামো দেশের বাজারে পরিচিত হয়ে উঠল। ফলে আকর্ষণীয় স্থানে লোভনীয় সব ফ্ল্যাটবাড়ি গড়ে উঠতে লাগল। এখন ঢাকা শহরে বহুসংখ্যক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে। ফলে ঢাকার পরিধিও দিনে দিনে বেড়েই চলেছে।
জহুরুল ইসলাম পল্লবীতে যে ইস্টার্ন হাউজিং গড়ে তুললেন তাতে নিজস্ব স্থপতিদের নকশা স্থান পেল। হালকা সবুজ রঙ ও বিশেষ ধরনের আভা ছিল ইস্টার্ন হাউজিংয়ের নিজস্ব পরিচিতি। একইভাবে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে স্থপতি বশিরুল ইসলাম লাল ইটের পরিচিতি মূর্ত করে তুললেন।
যাই হোক, ফ্ল্যাটবাড়ি কেনাবেচা ব্যবসায় সংস্কৃতির পুরোধা যে জহুরুল ইসলাম তা এই গবেষণায় স্পষ্ট করে বলা যায়। আর এই মহত সৃজনী আর গুণীজনের হাত ধরেই ঢাকার আবাসন সংকট সমাধান হলো। তাতে করে সরকারের রাষ্ট্রীয় দায় যেমন হালকা হয়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষের আবাসন সংকট মিটমাটে একটি নবযুগের সূচনা হয়েছে।
রাজউকের ‘পূর্বাঞ্চল নিউ টাউন’ নামে নতুন শহর আলোচ্য বিষয়ে উপনীত হয়েছে। পূর্বাচলের ছয় হাজার ১৫০ একরে ৩০টি সেক্টরে এই শহর। পূর্বমুখী সম্প্রসারণের পথ ধরে শীতলক্ষ্যা নদী পর্যন্ত এটি বিস্তৃত। তেজগাঁও বাণিজ্যিক এলাকা ও গুলশান সংযোগ সড়কের পাশের অংশের গুলশান লেকের একটি অংশের নি¤œ ভূভাগে মাটি ভরাট করে ‘নিকেতন’ নামের আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠেছে। নিকেতনের দক্ষিণ-পূর্বে এবং প্রগতি সরণির পূর্বাংশ থেকে রামপুরা পর্যন্ত মাটি ভরাট করে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘বনশ্রী আবাসিক প্রকল্প’টি বাস্তবায়িত হয়েছে। গত ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা ‘বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্প’টি ঢাকার সর্ববৃহৎ আবাসন প্রকল্প। এটি বারিধারার ডিওএইচএস এবং বারিধারার সামান্য উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত।
তবে ঢাকার চারদিকে আজকের এসব আবাসন উন্নয়নের মূল কারিগর রিয়েল এস্টেট ডেভেলপাররা। ঢাকার নির্মাণকাজে তারাই নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করছে। আশির দশকেও ঢাকার এই আমূল পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগেনি। আর এই রিয়েল এস্টেট বা বাণিজ্যিকভাবে আবাসন ব্যবসা শুরু করে গেছেন জহুরুল ইসলাম।
এই মহৎ মানুষটি কেবল ব্যবসায়ী নয়, একজন মানুষ জহুরুল ছিলেন পরবর্তী প্রজšে§র জন্য অনুসরণীয়। তিনি তার জীবনে রেখে গেছেন সৃজনশীলতা, এটা ব্যবসায় স্বপ্নচারী নতুন প্রজšে§র জন্য শিক্ষণীয়। তার বিচিত্র মন ছিল তার অর্জনের একমাত্র পুঁজি। এরা বিরল বটে। বাজারভিত্তিক অর্থনীতিতে তার উদ্যোগ তাকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান। বিশ্ব পরিপ্রেক্ষিতে তিনি তার চিন্তাকে প্রসারিত করেছেন সর্বদা, কিন্তু নিজের দেশের প্রতি সবসময়ই তিনি ছিলেন দায়িত্ববান। এটা তার মহত্ত্বেও একটি প্রকাশ হতে পারে। আবার ব্যবসায় কৌশলও বলা যেতে পারে। কেননা নিজ দেশের ব্যবসায়িক পাটাতনকে জীবিত না রেখে বাইরের দেশে ব্যবসা বিস্তার করা কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কর্তা হিসেবে তিনি প্রশংসিত, চিন্তার জায়গায় তিনি ব্যতিক্রম, আর এই দুইয়ের মিশেলে তিনি হয়েছেন উত্তম পুরুষ। বাংলাদেশের ব্যবসায় জগৎকে তিনি পৌঁছে দিয়েছেন একটি বড় উচ্চতায়।
লেখক: গবেষক, শেয়ার বিজ