শেষ সময়ে ক্রয়চাপে ডিএসইতে সূচকের উত্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা পাঁচ কার্যদিবস ধরে সূচক পতনের পর গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সবকটি সূচক সামান্য ইতিবাচক হয়। তবে লেনদেন ব্যাপকহারে কমেছে। কমেছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর। এদিন সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। কিন্তু আধা ঘণ্টার মধ্যে বিক্রির চাপে সূচকের পতন শুরু হয় এবং তা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এরপর ধীরে ধীরে শেয়ার কেনার চাপ বাড়তে থাকে এবং শেষ সময় পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ছয় পয়েন্ট বেড়ে যায়। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। প্রধান দুটি সূচকই নি¤œমুখী ছিল। কমেছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর ও লেনদেন।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৬ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বা দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ছয় হাজার ১৭৯ দশমিক ৩২ পয়েন্টে অবস্থান করে। ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক তিন দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বা দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৩৯১ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে অবস্থান করে। আর ডিএস৩০ সূচক ৬ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট বা দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে দুই হাজার ২৬০ দশমিক ২৪ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়ে চার লাখ ২০ হাজার ৯১৩ কোটি ১৫ লাখ আট হাজার টাকা হয়।

ডিএসইতে গতকাল লেনদেন হয় ৩৮১ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৩৯ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসাবে লেনদেন কমেছে ৫৭ কোটি টাকা। এদিন ৯ কোটি ২৮ লাখ ১৬ হাজার ১২৬টি শেয়ার ৮৯ হাজার ৪২ বার হাতবদল হয়। লেনদেন হওয়া ৩৩৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০৭টির, কমেছে ১৬৫টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৬২টির দর।

টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে স্কয়ার ফার্মা। ২৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় সাত লাখ ৮০ হাজার ২৫১টি শেয়ার লেনদেন হয়। শেয়ারটির দর ১ টাকা ৯০ পয়সা বেড়েছে। এর পরের অবস্থানে ছিল ইফাদ অটোস, প্যারামাউন্ট টেক্স, আমরা নেট, ন্যাশনাল টিউবস, বিডি থাই, লাফার্জ সুরমা, ইউনাইটেড পাওয়ার, সিটি ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক। সর্বোচ্চ সংখ্যক শেয়ার লেনদেনকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে শীর্ষে উঠে আসে বিডি থাই। কোম্পানিটির ৩১ লাখ ১৫ হাজার ৩৭৭টি শেয়ার ৯ কোটি ৭০ লাখ টাকায় লেনদেন হয়। এর পরের অবস্থানগুলোয় ছিল ড্রাগন সোয়েটার, কেয়া কসমেটিকস, প্যারামাউন্ট টেক্স, এনবিএল, আল-আরাফাহ্ ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, সিমটেক্স ও এবি ব্যাংক।

ছয় দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে বিডি অটোকার। এরপর চার দশমিক ৩১ শতাংশ বাড়ে গ্লোবাল হেভি ক্যামিকেলসের। মতিন স্পিনিংয়ের দর তিন দশমিক ৫৯ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়া তিন দশমিক ৫৯ শতাংশ ও এপেক্স স্পিনিংয়ের দর বেড়েছে দুই দশমিক ৪৩ শতাংশ।

অন্যদিকে চার দশমিক ৭২ শতাংশ দর কমে পতনের শীর্ষে চলে আসে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ। আমরা নেটের দর কমেছে তিন দশমিক ৯৮ শতাংশ। এরপর তিন দশমিক ৮৬ শতাংশ দর কমে আজিজ পাইপসের। হা ওয়েল টেক্সের দর তিন দশমিক ৩৪ শতাংশ কমেছে। বঙ্গজ তিন দশমিক শূন্য তিন শতাংশ কমেছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল সিএসসিএক্স মূল্যসূচক দশমিক ৩৩ পয়েন্ট কমে ১১ হাজার ৫৩৫ পয়েন্টে এবং সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশমিক ৪৭ পয়েন্ট কমে ১৯ হাজার ৯৮ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল সর্বমোট ২৩৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৬৯টির। কমেছে ১২৬টির। অপরিবর্তিত ছিল ৩৯টির দর।

সিএসইতে এদিন ২০ কোটি ৯২ লাখ ২০ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। আগের দিন লেনদেন হয় ৩১ কোটি ৪৭ লাখ চার হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসাবে লেনদেন কমেছে ১০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। লেনদেনের শীর্ষে ছিল লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট।  কোম্পানিটির দুই কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এছাড়া স্কয়ার ফার্মা এক কোটি ৭৬ লাখ টাকার, আমরা নেট ৯৮ লাখ, এনবিএল ৯৪ লাখ, নাহি অ্যালুমিনিয়াম ৮৭ লাখ, বেক্সিমকো ৭৮ লাখ, কেয়া কসমেটিকস ৬৫ লাখ, হামিদ ফ্যাব্রিক্স ৪৬ লাখ, বিডি থাই ৪২ লাখ ও আল-আরাফাহ্ ব্যাংকের ৪০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।