শেয়ারদরের উল্লম্ফনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে

অনেক দিন ধরে পুঁজিবাজারে স্বল্পমূলধনি কিছু কোম্পানির শেয়ারদরে ব্যাপক উল্লম্ফন লক্ষ করা যাচ্ছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে একটি শেয়ারের দর চার-পাঁচগুণ বেড়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা যখন ব্যবস্থা নিচ্ছে, ততদিনে শেয়ারটির দর ব্যাপক বেড়ে গেছে। বলা যায়, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ারটিতে প্রবেশের পরই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এতে দুর্ভাগ্যক্রমে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন; কিন্তু যারা শেয়ারটি নিয়ে কারসাজি করছে, তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই শেয়ার থেকে বেরিয়ে গেছে। এ তদন্তটি যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থা শেয়ারদর উল্লম্ফনের দু-তিন দিনের মাথায় করে ফেলত, তাহলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন না। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান ও বালি সিকিউরিটিজ লিমিটেডের পরিচালক সৈয়দ সিরাজ উদ্দৌলা।
মিজানুর রহমান বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা অনেক কম। দেশি ও নামি-দামি কোম্পানিগুলোও পুঁজিবাজারে আসেনি। কিন্তু এসব কোম্পানি যদি তালিকাভুক্ত হতো, তাহলে পুঁজিবাজারের গভীরতা অনেক বেড়ে যেত। তখন যে-ই বাজারে কারসাজি করে, তারা হয়তো আর বিশেষ কিছু কোম্পানিকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারত না। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) যদি প্রকৃতপক্ষেই বড় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনার বিষয়ে উদ্যোগ নিত, তাহলে বাজারের গভীরতা আরও বাড়ত, সঙ্গে বিনিয়োগকারীদেরও আস্থা বাড়ত। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বিশেষ কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে একটি বিশেষ দল কৃত্রিম চাহিদার সৃষ্টি করে। ফলে সরবরাহ সীমিত হয়ে চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। আর চাহিদা বাড়লেই স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ওই শেয়ারটির দর বাড়তে থাকে। এখানে এসইসির একটি রুটিন দায়িত্ব রয়েছে: যখনই শেয়ারটি অযৌক্তিক হারে বেড়ে যাচ্ছে, তখন তাৎক্ষণিকভাবেই সেটির বিষয়ে সজাগ থাকা এবং এটির ব্যাপারে যে নিয়ন্ত্রক দল আছে, তাদের মাধ্যমেই এসইসির জানা দরকার কেন শেয়ারটির দর এভাবে বাড়ছে। একই সঙ্গে শেয়ারটির ব্যাপারে যথার্থ ব্যবস্থা নেওয়া।
সৈয়দ সিরাজ উদ্দৌলা বলেন, অনেক দিন যাবৎ পুঁজিবাজারে স্বল্পমূলধনি কিছু কোম্পানির শেয়ারদরে ব্যাপক উল্লম্ফন লক্ষ করা যাচ্ছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে একটি শেয়ারের দর চার-পাঁচগুণের মতো বেড়ে গেছে। অথচ শেয়ারগুলোর দর বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণই নেই। এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাও ব্যবস্থা নিচ্ছে। দু-চারটি কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করা হয়েছে। কারও আবার ট্রেড স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে এবং আরও কিছু কোম্পানিকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আর এ ব্যবস্থাগুলো অবশ্যই বাজারের জন্য ভালো। কিন্তু কথা হচ্ছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা যখন ব্যবস্থা নিচ্ছে, তখন শেয়ারটির দর ইতোমধ্যেই ব্যাপক বেড়ে গেছে। বলা যায়, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ারটিতে প্রবেশের পরই ব্যবস্থা নিচ্ছে। এতে দুর্ভাগ্যক্রমে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন; কিন্তু যারা শেয়ারটি নিয়ে কারসাজি করছে, তাদের কিছুই হচ্ছে না। কারণ তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই শেয়ার থেকে বেরিয়ে গেছে। তবে এই তদন্তটি যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থা শেয়ারদর উল্লম্ফনের দু-তিন দিনের মাথায় করে ফেলে, তাহলেই কিন্তু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন না। প্রশ্ন হচ্ছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো শুরুতেই কেন এদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যেখানে তারা জানে কোথায় কি হচ্ছে? তারা কি চায়Ñসেটাই আসলে চিন্তার বিষয়।

শ্রুতিলিখন: রাহাতুল ইসলাম