শেয়ার কেনার প্রবণতা বেশি ছিল আর্থিক ও বিমা খাতে

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজারে গতকাল ছিল মিশ্র প্রবণতা। শেয়ার কেনা ও বেচার প্রবণতা দুটোই ছিল, যে কারণে সূচকের গতিবিধিতে ছিল অস্থিরতার ছাপ। তবে বিক্রির চাপ বেশি থাকায় কমেছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর ও সূচক। লেনদেনও আগের দিনের থেকে ৭৫ কোটি টাকার বেশি কমে সাড়ে পাঁচশ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে। তবে গতকাল বিনিয়োগকারীরা বেশি কিনেছেন আর্থিক ও বিমা খাতের শেয়ার। অন্যদিকে শেয়ার বিক্রির চাপ বেশি ছিল জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, বস্ত্র, ওষুধ ও রসায়ন এবং চামড়াশিল্প খাতে।
সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়ে শীর্ষে উঠে আসে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত। এ খাতে লেনদেন হয় মোট লেনদেনের ২১ শতাংশ বা ১১৩ কোটি টাকা। আগের দিনের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১৩ কোটি টাকা বা পাঁচ শতাংশ। এ খাতে ৪২ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। প্রায় ১০ শতাংশ দরবৃদ্ধি ও ৪০ কোটি টাকা লেনদেন হয়ে বাজারে নেতৃত্ব দেয় খুলনা পাওয়ার। ইউনাইটেড পাওয়ারের সাড়ে ৩৪ কোটি টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে ৭০ পয়সা। ১৭ শতাংশ লেনদেন হয় বস্ত্র খাতে। এ খাতে ২৮ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে উঠে আসা স্টাইল ক্রাফটের দর বেড়েছে ছয় শতাংশের বেশি। এছাড়া এসকে ট্রিমসের প্রায় ২৩ কোটি, সায়হাম কটনের প্রায় ২১ কোটি ও শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ১২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১৬ শতাংশ। এ খাতে মাত্র ৩৫ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস ও লিবরা ইনফিউশন দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে। সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালসের সাড়ে ১৫ কোটি টাকা ও ওয়াটা কেমিক্যালের সাড়ে ১৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ১১ শতাংশ। এ খাতে ৩১ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড ও নাহি অ্যালুমিনিয়াম দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে অবস্থান করে। ইফাদ অটোসের ১৬ কোটি এবং বিবিএস কেব্লসের ১১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। মাত্র তিন শতাংশ লেনদেন হলেও আর্থিক খাতে ৬৯ শতাংশ ও বিমা খাতে ৬৮ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। অন্যদিকে ছোট খাতগুলোর মধ্যে চামড়াশিল্প খাতে ৮৩ শতাংশ, বিবিধ খাতে ৫৮ শতাংশ এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ৪৭ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। তবে খাদ্য খাতের ফু-ওয়াং ফুড ও আরডি ফুড দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে উঠে আসে। পাট খাতের সোনালী আঁশের দর প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে।