শোলা সংগ্রহে ব্যস্ত মালীরা

বদ্ধ জলাশয়ে জন্মা নো জলজ উদ্ভিদ শোলার কদর রয়েছে অনেকের কাছে। লোমশ লম্বাটে ফাঁপা পাতলা এই উদ্ভিদটি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার প্রায় সব বদ্ধ জলাশয়ে দেখা যায়। হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা-অর্চনা ও বিয়েতে ব্যবহার হয় এ শোলা। এছাড়া নানা ধরনের খেলনা তৈরিতে উদ্ভিদটির জুড়ি মেলা ভার।
উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া এলাকায় নীলফামারী থেকে আসা মালী দুলাল চন্দ্র জানান, প্রতি বছর শোলা সংগ্রহ করতে আমরা ১০-১২ জনের কয়েকটি দল আসি। বদরগঞ্জ থেকে নীলফামারীর দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। আমরা সবাই বাইসাইকেলে করে এসেছি। জলাশয়ে আসতে গেলে পায়ে হেঁটে অথবা বাইসাইকেলই একমাত্র ভরসা।
শোলা সংগ্রহে ব্যস্ত সুবল দাস জানান, বড় জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় আর আগের মতো শোলা পাওয়া যায় না। তাই আমরা আগে থেকে বিভিন্ন জলাশয় এলাকার খোঁজ-খবর নিই। যেখানে শোলা পাওয়া যায়, সেখানেই চলে যাই। তিনি বলেন, শোলা দিয়ে পূজার সামগ্রী তৈরি করে থাকি। মুকুট ও নানা ধরনের খেলনা তৈরি করি। প্রথমে আমরা শোলা সংগ্রহ করি। পরে সংগৃহীত শোলা শুকিয়ে বাহারি রঙে রাঙিয়ে পণ্যসামগ্রী তৈরি করে পূজার বাজারে বিক্রি করি। প্রতি বছর এই শোলাসামগ্রী বিক্রি করে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করি। এছাড়া পেশাটি আমাদের পূর্বপুরুষের। তাই কষ্ট করে হলেও ধরে রাখার
চেষ্টা করছি।
বদরগঞ্জ বারোয়ারি কালীমন্দিরের পুরোহিত দিনেশ চক্রবর্তী জানান, আমাদের বিয়ের মুকুট, সাজসজ্জা,
দেব-দেবির গলার হার, মনষা ও ছায়া মণ্ডপ তৈরিতে বিভিন্ন রকম ফুল ও পূজার কাজে শোলার ব্যবহার হয়।
বদরগঞ্জ উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) কনক রায় জানান, এক সময় বদরগঞ্জ উপজেলায় প্রচুর পরিমাণ শোলা পাওয়া যেত। এ কারণে বদরগঞ্জের একটি এলাকার নামকরণ হয়েছে শোলাগাড়ি। বর্তমানে শোলা এখন পশুখাদ্য, রান্নার কাজে জ্বালানি ও জৈবসার হিসেবে ব্যবহƒত হচ্ছে। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর চাহিদা বাড়লেও জলজ উদ্ভিদটি হারিয়ে যাচ্ছে।

নুর আলম