শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দাবি কারখানা বন্ধের হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক: তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য ১৬ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি জুলাই মাসের মধ্যে পূরণ না হলে আগস্টের প্রথম দিন থেকে কারখানা বন্ধ রেখে আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়েছে শ্রমিকদের তিনটি সংগঠন। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশে পোশাকশিল্প শ্রমিক ফেডারেশন, সম্মিলিত গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ মেটাল কেমিক্যাল গার্মেন্ট অ্যান্ড টেইলার্স ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের মানববন্ধন থেকে এ হুশিয়ারি দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ পোশাকশিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি তৌহিদুর রহমান বলেন, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা ঘোষণা করা না হলে ১ আগস্ট থেকে কারখানা বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করা হবে।
পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য গত ১৪ জানুয়ারি স্থায়ী মজুরি বোর্ডের পুনর্গঠন করে সরকার। ওই বোর্ডকে ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। সে সময় এ মাসেই শেষ হচ্ছে।
সম্মিলিত গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার মানববন্ধনে বলেন, শ্রমিকরা মানসম্মত বেতন না পেলে তা মধ্যম আয়ের দেশ গড়ায় অন্তরায় হবে। শ্রমিকদের বেতন কাঠামোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চান তিনি।
এর আগে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বর। তিন হাজার টাকা মূল বেতন ধরে পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি ঠিক করা হয়েছিল তখন। নতুন কাঠামোয় ওই বেতন তারা পাচ্ছেন ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে।
বাংলাদেশের প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাকশিল্পে ৪০ লাখের মতো শ্রমিক জড়িত, যাদের অধিকাংশই নারী। বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশ হলেও মজুরি কাঠামো সব কারখানায় ঠিকমতো অনুসরণ করা হয় না বলেও অভিযোগ উঠেছে কখনও কখনও।
মানববন্ধনে সংগঠনের নেতারা বলেন, জানুয়ারি মাসে মজুরি বোর্ড গঠন হলেও অদৃশ্য কারণে মাত্র দুটি সভা করা হয়েছে। মজুরি বোর্ড গঠনের ছয় মাসের মধ্যে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধির সুপারিশ যাচাই করে নি¤œতম মজুরিসহ সব গ্রেডের মজুরির সুপারিশ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও বোর্ড মালিক তেমন কোনো নীতি অনুসরণ করছেন না। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি যাই বলেন, বর্তমান বোর্ড মালিক তাই করছেন বলে আমাদের মনে হচ্ছে।