সম্পাদকীয়

শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে প্রাজ্ঞ সিদ্ধান্ত কাম্য

আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাত। এ খাতে অস্থিরতা দেখা দিলে রফতানি বাণিজ্যে ভয়ানক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কিন্তু মজুরি বাড়ানোকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ দিন ধরে পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করতে না পারলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কার শঙ্কা রয়েছে। এ জন্য অসন্তোষের অন্তর্নিহিত কারণ চিহ্নিত করে তা আশু সমাধান করতে হবে।
‘আশ্বাসের পরও রাস্তায় পোশাক শ্রমিকরা, বিজিবি মোতায়েন’ শিরোনামে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে, সেটি পোশাক খাতের জন্য কোনোভাবেই প্রীতিকর নয়। যদিও বাণিজ্যমন্ত্রী (যিনি নিজেও পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র একসময়ের সভাপতি) এক মাসের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। তারপরও অসন্তোষ অব্যাহত থাকা শুভ লক্ষণ নয়।
বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে পোশাক শ্রমিকরা আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তাদের মধ্যে ভীতিও কাজ করতে পারে। মাঠ ছেড়ে দেওয়ার পরও কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারীদের নানা ধরনের হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রাস্তা অবরোধ ও বিক্ষোভ থেকে সরে গেলে পোশাক শ্রমিকরাও একই পরিস্থিতির শিকার হতে পারেন হয়তো এমন ভয় রয়েছে তাদের। শ্রমিকদের নিশ্চিত করতে হবে, কাজে যোগ দিলে তারা কোনো অবিচারের শিকার হবেন না। কেউ যদি শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করে কিংবা ইন্ধন জোগায়, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। ঢালাওভাবে শ্রমিকদের হয়রানি করা উচিত হবে না। বাংলাদেশে আরও অনেক শিল্প আছে, সেগুলোয় কিন্তু এমন অসন্তোষ দৃশ্যমান নয়। ওইসব শিল্পশ্রমিক কেন বিক্ষোভ করেন না, কাজ ছেড়ে রাস্তায় নামেন নাÑসেটিও খুঁজে বের করা জরুরি।
রফতানিমুখী শিল্পে দেশের বৃহত্তম খাত পোশাকশিল্প। রফতানি আয়ের চার-পঞ্চমাংশ আসে এ খাতের মাধ্যমে। রাষ্ট্র বিভিন্নভাবে পোশাক মালিকদের প্রণোদনা, সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। সুবিধা পেয়েও মজুরি কাঠামো নিয়ে পোশাক মালিকরা যদি গড়িমসি করেন, তা দুঃখজনক। মজুরি কাঠামো প্রণয়নে তাদের ভূমিকাই বেশি ছিল। শ্রমিকদের অভিযোগ, ওপরের গ্রেডে মূল মজুরি বৃদ্ধি না পাওয়ায় শ্রমিকদের ওভারটাইমের প্রাপ্য অর্থ বাড়বে না। এমনকি উৎসব ভাতাও বাড়বে না। সবদিক দিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দক্ষ শ্রমিকরা।
আমরা চাই, মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার পরিচয় দেবেন মালিকরা। আর পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে বিভিন্ন থানায় প্রায় হাজার শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে শিল্প পুলিশ। কিন্তু গুলিতে শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনাটির কোনো উল্লেখ নেই। এটি শ্রমিকদের ক্ষোভ বাড়াবে। তাই শ্রমিকদের হয়রানি করা হবে না এবং নিহত শ্রমিকের পরিবারের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও প্রাজ্ঞ বিবেচনা কাম্য।

সর্বশেষ..