করপোরেট টক

‘শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতিই আমার প্রেরণা’

মো. আলমগীর হোসেন, একজন শিক্ষানুরাগী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি
সুশিক্ষা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছেন তিনি। প্রাথমিক শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য রাজশাহী বিভাগের শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্য প্রশংসিত হচ্ছেন। সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় তার শৈশব, শিক্ষা ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছেন ফারুক আহমেদ চৌধুরী

প্রাথমিক শিক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য রাজশাহী বিভাগের শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হয়েছেন। এ বিষয়ে আপনার অনুভূতি কী?
আলমগীর হোসেন: সম্মানিত বোধ করছি এ মর্যাদাপূর্ণ প্রাপ্তির জন্য। সত্যি কথা বলতে, যখন কোনো কাজের সঠিক মূল্যায়ন হয়, তখন সেটি প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। আমি মনে করি অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও কাজের প্রতি ভালোবাসাই আমাকে এ অসামান্য স্বীকৃতি পেতে গভীরভাবে সহায়তা করেছে। বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্বের এ স্বীকৃতি আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করবে।

কোন প্রেক্ষাপটে আপনি শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছেন?
আলমগীর হোসেন: প্রাথমিক শিক্ষায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য আমাকে এই গুরুত্বপূর্ণ অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করা হয়েছে। মূলত শিক্ষা খাতে অসামান্য অবদান ও সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পুরস্কার’ প্রসঙ্গে আপনার কোনো মন্তব্য রয়েছে কী?
আলমগীর হোসেন: নিজেকে আমি ধন্য মনে করছি। কাউকে যদি কোনো কর্মপ্রচেষ্টার সঠিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাহলে তিনি দেশের কল্যাণে নিজেকে আরও সম্পৃক্ত করতে পারেন। তেমনি এ সম্মাননা আমাকে চলার পথ আরও সুগম করবে, সামনে এগিয়ে চলার প্রেরণা জোগাবে।

শ্রেষ্ঠত্বের পদমর্যাদা রক্ষা ও সামগ্রিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আপনার চিন্তা জানতে চাই…
আলমগীর হোসেন: এরকম একটি স্বীকৃতি আমার লক্ষ্য অর্জনে আরও শক্তি জোগাবে। এ সম্মাননা আমার অর্জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে; তেমনি দায়িত্বও অর্পণ করেছে। সে দায়িত্ব সমাজের প্রতি, সর্বোপরি দেশ ও জাতির প্রতি। অর্জিত জ্ঞান, মেধা ও মনন দিয়ে দেশমাতৃকার কল্যাণে নিজেকে আরও সম্পৃক্ত করতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করব। এ ধরনের পরিকল্পনা আমি শৈশব থেকে লালন করে আসছি। পরবর্তী ধাপে সামগ্রিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছি। তবে এক্ষেত্রে কাজের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করা সম্ভব।

আপনার প্রথম কর্মজীবন কোথায়?
আলমগীর হোসেন: ২০১০ সালে কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যুক্ত হই। ২০১২ সালে ৩০তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কর্যালয়ে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগ দিই। এরপর রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত ছিলাম। বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছি।

শিক্ষার সামগ্রিক অবস্থা কেমন?
আলমগীর হোসেন: শিক্ষার চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। তাই সবার জন্য শিক্ষা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বর্তমান সরকার শিক্ষা সম্প্রসারণে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। আর্থিভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বৃত্তি কিংবা অনুদান দেওয়া হচ্ছে। সরকারি সহায়তার জন্য নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অসচ্ছল সন্তানরাও পড়ালেখা করছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিয়ে আপনার পরিকল্পনা…
আলমগীর হোসেন: ২০১৭ সালের ৩ অক্টোবর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকে অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছি। শুরু থেকেই উপজেলার শিক্ষা, বেকারত্ব দূরীকরণ, বাল্যবিবাহ রোধ, সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রেখেছি। ঝরে পড়া রোধে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, মিড-ডে মিল কার্যক্রম ও প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে উপজেলা প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ফলে ছাত্রছাত্রী ঝরে পড়ার হার কমেছে এবং শিক্ষার মান আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে। মানসম্পন্ন পাঠদানসহ শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা, অভিভাবকদের সমন্বয়ে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে সবরকম প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। তাছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সন্তানদের শিক্ষার জন্য আলাদা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন চেষ্টার পাশাপাশি সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সর্বশেষ..