শোবিজ

সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী আর নেই

শোবিজ ডেস্ক: বরেণ্য সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী আর বেঁচে নেই। তিনি সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৪টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৬৫ বছর। তার মৃত্যুর খবরে দেশের শোবিজাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকে কাতর সংগীতাঙ্গনে সুবীর নন্দীর সহকর্মী ও ভক্তরা।
১৮ দিন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৩০ এপ্রিল সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় তাকে। সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পর তিনবার হার্ট অ্যাটাক হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও হার্টের অসুখে ভুগছিলেন। আজ বুধবার সকালে তার মরদেহ ঢাকায় আনা হবে। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ আনা হবে তার ঢাকার গ্রিন রোডের বাসায়। সেখান থেকে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বেলা ১১টায় তার মরদেহ নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। এরপর সুবীর নন্দীর মরদেহ নেওয়া হবে রামকৃষ্ণ মিশনে। সবুজবাগে বরদেশ্বরী কালীমন্দির ও শ্মশানে দুপুরে সুবীর নন্দীর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। ১২ এপ্রিল পরিবারের সবাই মিলে মৌলভীবাজারে আত্মীয় বাড়িতে যান। ১৪ এপ্রিল ঢাকায় উদ্দেশে ট্রেনে মৌলভীবাজার থেকে শ্রীমঙ্গলে আসেন তারা। ট্রেনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাত ১১টার দিকে তাকে দ্রুত সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুবীর নন্দীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এ শিল্পীর অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, পাঁচবার জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী কণ্ঠশিল্পী সুবির নন্দী কাজের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে আজীবন বেঁচে থাকবেন। তিনি সুবীর নন্দীর আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, অসংখ্য হৃদয়স্পর্শী গানে কণ্ঠ দিয়ে সুবীর নন্দী কোটি মানুষের অন্তর জয় করেছিলেন। তার মৃত্যুতে বাংলা সংগীতের যে ক্ষতি হলো, তা সহসা পূরণ হওয়ার নয়। শুদ্ধ সংগীতে অসীম কীর্তি রাখায় অমর হয়ে থাকবেন সুবীর নন্দী। সুবীর নন্দীর তুলনা শুধুই তিনি।
তিনি আরও বলেন, তিনি বাঙালিদের ভালোবাসার গানের পাখি ছিলেন। আধুনিক বাংলা গানে সুবীর নন্দী যা দিয়েছেন, তা অসাধারণ। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এরশাদ।
সুবির নন্দী ১৯৫৩ সালের ১৯ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার নন্দীপাড়ার এক কায়স্থ সংগীত পরিবারে। ১৯৬৩ সালে তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নকালেই গান গাওয়া শুরু করেন। ১৯৬৭ সালে সিলেট বেতারে গান করেন। তখন তার গানের ওস্তাদ ছিলেন গুরু বাবর আলী খান। ১৯৭০ সালে ঢাকা রেডিওতে প্রথম গান রেকর্ডিং হয়। প্রথম গান ‘যদি কেউ ধূপ জ্বেলে দেয়…’। গানটি লিখেছেন মোহাম্মদ মুজাক্কের; সুরারোপ করেন ওস্তাদ মীর কাসেম। ১৯৮১ সালে তার প্রথম একক অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম গান করেন ১৯৭৬ সালে। সিনেমাটির নাম ‘সূর্যগ্রহণ’। তিনি ৪০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন রেডিও, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন চারবার। সংগীতে অবদানের জন্য এ বছর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক পান। তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে আমার এ দুটি চোখ, বন্ধু হতে চেয়ে, আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি, চাঁদের কলঙ্ক আছে, দিন যায় কথা থাকে, একটা ছিল সোনার কন্যা, হাজার মনের কাছে, কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো, পাহাড়ের কান্না, বন্ধু হতে চেয়ে তোমার প্রভৃতি।

সর্বশেষ..



/* ]]> */