সংসার চলে বাঁশ-বেতের কাজ করে

নরসিংদীর বস্ত্রশিল্প বেশ প্রসিদ্ধ। পাশাপাশি কৃষি খাতও সুনাম কুড়িয়েছে। এবার বাঁশ ও বেতের কাজে চমক দেখা যাচ্ছে।
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দুই শতাধিক পরিবারের সদস্যরা বাঁশ ও বেতের কাজ করছে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ আর পর্যাপ্ত মূলধন না থাকলেও এই পেশাটাকে আঁকড়ে রেখেছে শিবপুর উপজেলার খৈনকুন গ্রামের মানুষ।
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের নাম খৈনকুট। গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ্ব মোতালিব মিয়ার কাছে তার এই পেশা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি আগে অন্যত্র তাঁতের কাজ করতাম। তাঁতের কাজ বিলুপ্ত হওয়ার পরে ২০ বছর ধরে এই বাঁশ-বেতের কাজ করে সংসার চালাচ্ছি। এ সময় বিশ্রাম নেওয়ার কথা থাকলেও আমি কাজ চালিয়ে যাচ্ছি অবিরত। এতে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। আমি একটি পর্যায়ের কাজ করে দিলে বাকি কাজ আমার ছেলে করে। এ বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই, পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে দেখে শিখেছি। একই এলাকার মোস্তফা মিয়া জানান, আমরা এই এলাকায় বেলা, পুরা, ঝুড়ি, টুকরিসহ প্রায় চার-পাঁচ ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করে থাকি। পরিবারের বড়দের কাছ থেকে এই কাজ দেখে শিখেছি। তাই আমাদের যদি কোনো সংস্থা থেকে বা সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো তাহলে আমরা উপকৃত হতাম। এছাড়া আমাদের তেমন পুঁজি নেই।
ভৈরবের হাজী আসমত ডিগ্রি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. সোহেল মিয়া জানান, আমি শিবপুরের খৈনকুট এলাকায় মামার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করি। এখানে লেখাপড়ার পাশাপাশি আমি এই বাঁশ-বেতের কাজটি স্বতঃস্ফূর্তভাবেই করে যাচ্ছি। আমার মাসিক আয় কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা। নিজের লেখাপড়ার খরচ নিজেই চালাতে পারি।
শিবপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শিকদার মাহমুদ হোসেন বলেন, এই এলাকার মানুষের জন্য আমরা যুব উন্নয়নের মাধ্যমে কুটিরশিল্প বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার চিন্তা-ভাবনা করছি। শুধু প্রশিক্ষণ নয়, পরিবারভিত্তিক ঋণ দিয়ে এলাকার বেকারত্ব দূর করে এই বাঁশ-বেতের শিল্পটাকে আরও বেগবান করার জন্য চেষ্টা করব।
বিসিক ও কুটিরশিল্পবিষয়ক জেলা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, আমাদের জনবল ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
  এম. লুৎফর রহমান