সংসার চলে যার বাঁশি বিক্রি করে

বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশি যুগ যুগ ধরে মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে। এক সময় শহর ও গ্রামের বিভিন্ন স্থানে বাঁশিওয়ালার আনাগোনা দেখা গেলেও দিন দিন তা হারিয়ে যাচ্ছে। তবে নানা প্রতিকূলতার মাঝেও এটি ধরে রেখেছেন লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বড়খেরী ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী গ্রামের মো. জসিম উদ্দিন। সবাই তাকে বাঁশিওয়ালা জসিম নামে চেনেন।
বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তার সংসার। মেয়েকে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম
শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেও অর্থাভাবে বেশিদূর পড়ানোর সৌভাগ্য হয়নি তার। তবে ছেলেকে শিক্ষক বানানোর স্বপ্ন চোখে-মুখে। বর্তমানে তার ছেলে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
রামগতি আহম্মদিয়া কলেজ থেকে ১৯৯০ সালে এইচএসসি পাস করে চাকরি খোঁজার পেছনে অনেকটা সময় ব্যয় করেন জসিম। বেকারত্ব ঘুচাতে তিনি চট্টগ্রামে যান। সেখানে আজমেরী শমসের পাগলা নামের এক বাঁশিওয়ালার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ছোটবেলা থেকে বাঁশির প্রতি তার একটা আলাদা ঝোঁক ছিল। সে সুবাদে তিনি ওই বাঁশিওয়ালার সঙ্গে কুমিল্লায় যান। তার হাত ধরেই বাঁশি বানানোর কাজটি রপ্ত করেন। এর মধ্যে কেটে গেছে প্রায় ২০ বছর। এতদিন ধরে বাংলার ঐতিহ্য এই বাঁশিকে তিনি ধরে রেখেছেন। বাঁশি বিক্রি করে যা পান, তা দিয়ে তার সংসার চলে কোনোমতে। নোয়াখালীর সোনাপুর থেকে ১০০ নলি বাঁশ ৭০০ থেকে এক হাজার টাকা দরে কেনেন। এসব বাঁশ দিয়ে তিনি আড় বাঁশি, মোহন বাঁশি ও বীণ বাঁশি বানান। দৈনিক ছোট, বড় ও মাঝারি বিভিন্ন মাপের প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি বাঁশি বানাতে পারেন। এ কাজে তার স্ত্রী সহযোগিতা করেন। চার-পাঁচ দিন পরপর তিনি ৩০০ থেকে ৩৫০টি বাঁশি বিক্রির জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাঁশিপ্রিয় মানুষের কাছে ছুটে যান। প্রতিটি ছোট আকারের বাঁশি ২০-৪০ টাকা, মাঝারি ৬০-৭০ টাকা এবং বড় ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি করেন।
চাহিদা থাকলেও অর্থের অভাবে তিনি পাইকারিভাবে বিক্রি করতে পারছেন না। বাঁশি বানানোর পাশাপাশি তিনি সুমধুর সুরে বাজাতেও পারেন। আর তাই বাঁশিপ্রিয় মানুষরা আকৃষ্ট হয়ে বিনোদনের জন্য তাকে নিয়ে যান। সংশ্লিষ্টদের পৃষ্ঠপোষকতাই বাঁশিওয়ালা জসিমের এ কাজের প্রসার ঘটাতে পারে।

জুনায়েদ আহম্মেদ