সারা বাংলা

সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ বানেশ্বর হাট

আসাদুজ্জামান রাসেল, রাজশাহী: অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বেহাল হয়ে পড়েছে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর হাটের সার্বিক পরিবেশ। ড্রেনেজ, অবকাঠামো, স্যানিটেশনসহ উন্নয়নবঞ্চিত এ হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন হাটের সংস্কার না হওয়ায় প্রভাবশালীরা হাটের জায়গা অবৈধভাবে দখল নিয়েছেন।
বানেশ্বর হাট থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি টাকার ওপরে রাজস্ব আদায় করে থাকে। অথচ সে তুলনায় হাটের তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি দীর্ঘদিন। বিভিন্ন জটিলতায় আটকে রয়েছে হাটের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। সংস্কারের অভাবে এ হাটের অবকাঠামো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
পাবলিক টয়লেট, টিউবওয়েল ও গরু কাটার জন্য নির্দিষ্ট কসাইখানা না থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে যেখানে-সেখানে গরু কাটা ও ময়লা ফেলে রাখায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে হাটের অভ্যন্তরে। এতে পথচারীদের চলাচলে ও স্থানীয় দোকানদারদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় একটু বৃষ্টি হলেই হাটের মধ্যে হাঁটু পানি জমে যায়। দোকানগুলোর টিনের চালা নষ্ট হয়ে মালপত্র ভিজে যায়। কয়েক বছর আগে নতুন কলা হাট করে দিলেও জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তার ওপর কলার হাট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ওই সময় থেকে হাটের উন্নয়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ কারণে হাটের অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে স্থানীয় ও বহিরাগত ক্রেতাদের উপস্থিতি দিন দিন কমে যাচ্ছে। এই কারণে প্রতি সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার হাটে অবিক্রীত মালপত্র নষ্ট হচ্ছে। অথচ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি অঞ্চল থেকে ক্রেতারা নিয়মিত পেঁয়াজ, কলা ও আম ক্রয় করতে এই হাটে আসতেন। কিন্তু হাটের অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা এবং পরিবেশ না থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতারা এই হাটে আসতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।
ব্যবসায়ী মকলেছুর রহমান ও বুলবুল জানান, তারা অনেক কষ্ট করে ব্যবসা করছেন। গরু কাটার কারণে দুর্গন্ধ ও বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতায় এখানে ব্যবসা করা মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বানেশ্বর বাজার বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বানেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান গাজী মো. সুলতান জানান, এ হাট থেকে সরকার এ বছর প্রায় কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। কিন্তু হাটে স্যানিটেশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ অবকাঠামোগত কোনো সংস্কার হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরাও তেমন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। উপজেলা প্রশাসনসহ সবাই মিলে হাটের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নতুনভাবে স্থাপন করে হাটের উন্নয়ন করার জন্য কাজ করা হচ্ছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাটের কাজ শুরু হবে।
এ নিয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওলিউজ্জামান জানান, সাত দিনের মধ্যে বানেশ্বর হাট সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে। হাটের উন্নয়নের জন্য পশু জবাইয়ের স্থান আলাদা স্থানে হবে। যাতে দুর্গন্ধ না হয় সে জন্য অন্য স্থানে পশু জবাই করে এখানে শুধু মাংস বিক্রয়ের জন্য স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। এছাড়া কলার হাট ও হাটের বিভিন্ন স্থানে যা যা সংস্থার করা দরকার তাই করা হবে।

সর্বশেষ..



/* ]]> */