সতর্ক হতে হবে দ্রুত দর বাড়তে থাকা শেয়ারে

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে। গত কয়েক দিনের লেনদেনের গতি বলে দিচ্ছে ফের সক্রিয় হয়ে উঠছেন বিনিয়োগকারীরা। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ হিসাববছর শেষ হয়ে যাওয়া কোম্পানিগুলোতে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ডিসেম্বর ক্লোজিং কোম্পানির শেয়ার কিনে রাখছেন। কারণ দীর্ঘদিন ধরে মন্দাবস্থা ও মৌসুম না থাকায় এসব কোম্পানির দর অনেক নিচে নেমে গেছে। আর এই সুযোগ নিচ্ছেন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা, যে কারণে গতকাল ব্যাংক, বিমা, আর্থিক ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক অবস্থানে দেখা যায়। অন্যদিকে একটি চক্র কিছু স্বল্পমূলধনি কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিকহারে বাড়াচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই পাঁচ-ছয়টি বা তার অধিক কোম্পানির শেয়ারে বিক্রেতা না থাকায় হল্টেড হচ্ছে। কারসাজি করে এসব শেয়ারের দর ক্রমাগত বাড়ানো হচ্ছে, যাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এসব শেয়ারে আকৃষ্ট হয়। আর সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ঢুকলেই এসব শেয়ার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে কারসাজি চক্র। ফলে আটকে যাচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থ। তাই খুব দ্রুত দর বাড়তে থাকা কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগের আগে সতর্ক থাকা উচিত।
গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন এক হাজার ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বেড়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ শেয়ারদর। অন্যদিকে কমেছে ৩২ শতাংশের দর। ২০০ কোটি টাকা লেনদেন হয় প্রকৌশল খাতে, যা মোট লেনদেনের ১৯ শতাংশ। কয়েক দিন ধরে দর বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিক্রির প্রবণতায় এ খাতের মাত্র ২২ শতাংশ শেয়ারদর ইতিবাচক ছিল। বেঙ্গল উইন্ডসরের দর প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে। আরএসআরএম স্টিলের ৩২ কোটি টাকার ও বিবিএস কেব্লসের সাড়ে ৩১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় ১৭ শতাংশ। এ খাতে মাত্র ১৮ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। ব্যাংক খাতে মাত্র পাঁচ শতাংশ লেনদেন হলেও দর বেড়েছে ৭৭ শতাংশ কোম্পানির। ব্র্যাক ব্যাংকের প্রায় ১৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। আর্থিক খাতেও মাত্র পাঁচ শতাংশ লেনদেন হয়। কিন্তু ৭৪ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। বিমা খাতে বেড়েছে ৬২ শতাংশ শেয়ারদর। মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৪৬ শতাংশ শেয়ারদর ইতিবাচক ছিল। বিবিধ খাতে লেনদেন হয় ১০ শতাংশ। এ খাতের মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের সাড়ে ৯ শতাংশ দর বাড়ার পাশাপাশি ২৪ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এছাড়া বেক্সিমকোর সাড়ে ৩০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের দি পেনিনসুলার ১০ শতাংশ দর বাড়ার পাশাপাশি ৩৪ কোটি টাকায় সর্বোচ্চ সংখ্যক শেয়ার লেনদেন হয়। ফলে বাজারে নেতৃত্ব দেয় কোম্পানিটি। তবে ডিএসইর অনুসন্ধানে সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির কোনো কারণ জানাতে পারেনি কোম্পানিটি।