প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

সনাতন পদ্ধতি থেকে অনলাইনে লন্ড্রি-ড্রাইক্লিনিং সেবা

মানুষের আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাত্রার মানও পরিবর্তিত হচ্ছে। এতে গত কয়েক দশকে দেশে চাহিদা বেড়েছে লন্ড্রি ও ড্রাইক্লিনিং সেবার। ফলে বড় হচ্ছে খাতটির বাজার। এতে পরিবর্তন এসেছে সেবাটির জোগানের ধরনেও। তবে চাহিদা অনুপাতে তৈরি হয়নি সেবার জোগান ব্যবস্থা। ফলে গ্রাহককে নানামুখী ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে এ সেবায়। এ নিয়ে শেয়ার বিজের ধারাবাহিক আয়োজনের আজ ছাপা হচ্ছে শেষ পর্ব

হামিদুর রহমান: প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় দেশের বিভিন্ন সেবাই হচ্ছে অনলাইনভিত্তিক। এতে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে ই-কমার্সে। এরই ধারাবাহিকতায় সনাতন পদ্ধতি থেকে ক্রমশ অনলাইনভিত্তিক হচ্ছে দেশের লন্ড্রি ও ড্রাইক্লিনিং সেবা। বিশেষত ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোয় এ ধরনের সেবার পরিধি বাড়ছে। শ্রম ও সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি ঘরে বা অফিসে বসে হাতের মুঠোয় সেবা পাওয়ায় গ্রাহকের আগ্রহও বাড়ছে এ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে।
সূত্রমতে, প্রাচীনকালে সনাতন পদ্ধতিতে অর্থাৎ কলার খোল পুড়িয়ে পটাশ তৈরি করা হতো এবং তা ব্যবহার করা হতো কাপড় পরিষ্কারের কাজে। সময়ের পরিবর্তনের ফলে কাপড় পরিষ্কারে এখন ব্যবহৃত হচ্ছে সোডা বা ব্লিচিং পাউডার-মিশ্রিত কেমিক্যাল। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ওয়াশ প্লান্টসহ আধুনিক প্রযুক্তি। তবে এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি গ্রাহকের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিতে এখন অনলাইনে যুক্ত হচ্ছে বিভিন্ন অনলাইন লন্ড্রি সার্ভিস ও হোম ডেলিভারি বা ডোর টু ডোর সার্ভিস।
বর্তমানে অনলাইনে লন্ড্রি সার্ভিস দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ওয়াশ আউট লন্ড্রি সার্ভিস, ব্যান্ডবক্সবিডি, ওয়াশবিডি, এক্সপার্ট ক্লিন লন্ড্রি, আরবান লন্ড্রি বেশ সুনাম অর্জন করেছে। এছাড়া ফেসবুকে ব্যক্তি উদ্যোগে বিভিন্ন পেইজ বা গ্রুপের মাধ্যমেই অনলাইনে লন্ড্রি হোম সার্ভিস দেওয়া হচ্ছে।
খাত-সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের সবকিছু এখন অনলাইনভিত্তিক হচ্ছে, যা গ্রাহকের জন্য পজিটিভ। মানুষ অতীতের চেয়ে এখন বেশি কর্মমুখী। ফলে নানামুখী ব্যস্ততার কারণে অনলাইন সেবাগুলো গ্রাহকের মাঝে সাড়া ফেলছে। এছাড়া দৈনন্দিন জীবনে কাপড় কাচা মানুষের জন্য যেমন কষ্টসাধ্য, তেমনি কাপড় ওয়াশ বা লন্ড্রি করাতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা মেনটেইন করাও কঠিন। অন্যদিকে কাপড়ের নির্দিষ্ট তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে কাপরের রঙ উঠে যায় ও ফ্যাব্রিকসের আয়ু কমে যায়। এসব ঝামেলার সমাধান দিতেই একদিকে যেমন যুক্ত হয়েছে উন্নত প্রযুক্তি, অন্যদিকে গ্রাহকের জন্য সেবাগুলোকে আরও সহজ করতে যুক্ত হয়েছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম।
তারা আরও জানান, রাজধানীর বিভিন্ন নতুন আবাসিক এলাকায় লন্ড্রির দোকান নেই। কিছু কিছু এলাকায় থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় কম। ফলে প্রায় সময় লন্ড্রি ও ড্রাইক্লিনিং সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তবে বর্তমান সময়ে অনলাইন সার্ভিস চালু হওয়ায় গ্রাহক চাইলেই সার্ভিসটি নিতে পারছেন।
রাজধানীর আফতাবনগর এলাকার অধিবাসী মাহবুব তালুকদার। চাকরি করেন একটি বেসরকারি ব্যাংকে। তার স্ত্রী জোয়াদা খানম একজন ব্যাংকার। মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘আমি ও আমার স্ত্রী দুজনেই চাকরি করায় সংসার গুছানোর সময় সাধারণত কম। অন্যদিকে আফতাবনগরে বাড়ি করায় এখন এখানেই থাকতে হচ্ছে। এলাকাটি নতুন হওয়ায় প্রথমদিকে জামাকাপড় লন্ড্রি বা ওয়াশ করতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো। লন্ড্রি বা ওয়াশের জন্য পাশের এলাকা বনশ্রীতে যেতে হতো। এখন অনলাইনে হোম ডেলিভারি থাকায় ঝামেলা থেকে বেঁচে গেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাসায় কাজের লোক থাকলেও তাকে দিয়ে সব কাজ করানো হয় না। বাসায় অন্যান্য কাপড় তিনি পরিষ্কার করলেও নিজেদের ব্যবহৃত ভালো কাপড়গুলো সাধারণত লন্ড্রিতেই দিয়ে থাকি। বাসায় কাপড় কাচলে অনেক কিছু মেনটেইন করতে হয়। যেগুলো সব সময় করা সম্ভব নয়। ’
একই ধরনের ভোগান্তির শিকার ধানমন্ডি এলাকার অধিবাসী নাছির হোসেন। চাকরি করেন বিদেশি একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে। তিনি বলেন, ‘ধানমন্ডিতে সাধারণত লন্ড্রির দোকান অন্যান্য এলাকার চেয়ে তুলনামূলক কম। জামাকাপড় লন্ড্রি বা ওয়াশের চার্জ ছাড়াও যাওয়া-আসা রিকশা ভাড়া গুনতে হয় ৬০ টাকা। বর্তমানে অনলাইনে হোম ডেলিভারি থাকায় এখন আর বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না। অন্যদিকে দোকানের চেয়ে অনলাইন সার্ভিসে সুবিধাও বেশি। নির্ধারিত সময়েই কাপড় ডেলিভারি পাওয়া যায়। যেটি দোকানে অনেক সময় পাওয়া যায় না।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, সনাতন পদ্ধতিতে লন্ড্রি করলে কাপড়ের মান নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। বর্তমানে মানুষ ফ্যাশন-সচেতন। কাপড়ের মান নিয়ন্ত্রণে লন্ড্রি ও ড্রাইক্লিনার্সে আধুনিক প্রযুক্তি থাকায় এখন কাপড় ওয়াশে মান নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। বর্তমান সময়ে দেশের সব সেক্টরেই মানুষের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ক্যালকাটা ড্রাইক্লিনার্সের জেনারেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম শেয়ার বিজকে বলেন, ‘প্রতিটি ফ্যাব্রিকস ওয়াশ বা লন্ড্রি করতে তাদের নির্ধারিত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, যা ছোট বা সাধারণ লন্ড্রি দোকানে সম্ভব নয়। আর প্রযুক্তি ছাড়া ওয়াশ করলে কাপড়ের মান নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। কোনো ফ্যাব্রিকস ওয়াশ বা লন্ড্রি করতে তার নির্ধারিত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে সেই ফ্যাব্রিকসের আয়ু কমে যায়, ফ্যাব্রিকস জ্বলে যায় বা কাপড়ের রঙ উঠে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘লন্ড্রি ও ডাইক্লিনার্সে এখন অনেক পরিবর্তন এসেছে। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে অনলাইন সার্ভিসে হোম ডেলিভারিও যুক্ত হচ্ছে। অনেক সময় গ্রাহক লন্ড্রি বা ওয়াশ করতে সময় পেতেন না। এখন আর এসব কাজে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না।’

সর্বশেষ..