সম্পাদকীয়

সন্দেহজনক লেনদেন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

মানি লন্ডারিং বড় ধরনের অপরাধ। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বিদেশে অপরাধটি বেশ আলোচিত। একটি দেশের অর্থনীতিতে মানি লন্ডারিংয়ের প্রভাব মারাত্মক ও সুদূরপ্রসারী। আমাদের দেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশের অর্থনীতি দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। তাই এ অপরাধ আমাদের অর্থনীতিকে কাঠামোগতভাবে ভারসাম্যহীন ও ক্ষতবিক্ষত করার আশঙ্কা বেশি। এর প্রভাবে অর্থনৈতিক ক্ষমতা অপরাধীদের নিকট চলে যেতে থাকে। ফলে সমাজ কলুষিত হয়। বিদেশে অর্থপাচারে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় অবস্থানে এখন বাংলাদেশ। ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি বলছে, কেবল ২০১৫ সালেই বাংলাদেশ থেকে চার প্রক্রিয়ায় পাঁচ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা) পাচার হয়েছে। এ অর্থের বেশিরভাগ বৈদেশিক বাণিজ্যে জালিয়াতির মাধ্যমে পাচার করা হয়। একই পদ্ধতিতে একই বছর দেশে ঢুকেছে ২৩৬ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ। বিদেশে টাকা পাচারে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। এটি আমাদের অর্থনীতির জন্য নিঃসন্দেহে ভালো খবর নয়।
মানি লন্ডারিংয়ের মতো গুরুতর অপরাধ নির্মূল করতে সরকার প্রণয়ন করেছে মানি লন্ডারিং আইন। অনেকেই এ অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে গ্রেফতার ও বিচার শেষে দণ্ডিত হয়েছেন। তা সত্ত্বেও মানি লন্ডারিং কমছে বলে মনে হয় না। বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার প্রতিবেদনেও তা উঠে এসেছে।
মানি লন্ডারিংয়ের প্রাথমিক লক্ষণ হলো সন্দেহজনক লেনদেন বেড়ে যাওয়া। তাই গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘সন্দেহজনক লেনদেন বেড়েছে ৬৫ শতাংশ’ শীর্ষক প্রতিবেদন পড়ে সচেতন নাগরিক মাত্রেই উদ্বিগ্ন হবেন। মানি লন্ডারিং ও সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধকারী জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) ২০১৭-১৮ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মানি রেমিটার ও পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে দুই হাজার ৬৯টি সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন (এসটিআর) এবং এক হাজার ৮০৯টি সন্দেহজনক কার্যক্রম প্রতিবেদন (এসএআর) পেয়েছে সংস্থাটি। এ সংখ্যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের চেয়ে ৬৪ দশমিক পাঁচ শতাংশ বেশি।
সন্দেহজনক লেনদেন বেড়ে যাওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এর সবগুলোয় হয়তো অর্থপাচার হয়নি। তাই কেউ না জেনে এসব লেনদেন করেছেন কি না, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। মানি লন্ডারিং আইনের মাধ্যমে রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। আমরা চাইব, এ আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে প্রকৃত অপরাধীরা পার পেতে পারে এবং নিরীহ লোকজন ও প্রতিষ্ঠান হয়রানির শিকার যেন না হয়, লক্ষ রাখতে হবে সেদিকেও।

সর্বশেষ..