সপ্তাহজুড়ে গ্রামীণফোনের ১০০ কোটি টাকা লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিদায়ী সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১০০ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করছে গ্রামীণফোন লিমিটেড। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত সপ্তাহে মোট ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ২৫০টি শেয়ার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ১০০ কোটি ৬৫ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, যা মোট লেনদেনের পাঁচ দশমিক ১০ শতাংশ। শেয়ারদর আগের সপ্তাহের চেয়ে দুই দশমিক ১০ শতাংশ কমেছে।

সর্বশেষ কার্যদিবসে শেয়ারদর দশমিক ৪৮ শতাংশ বা দুই টাকা ৪০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ৫০০ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল ৫০০ টাকা। দিনজুড়ে তিন লাখ ৮৫ হাজার ৭২১টি শেয়ার মোট ৮২২ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ১৯ কোটি ৩০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। দিনজুড়ে শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৪৯৯ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০৪ টাকায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ৩০১ টাকা থেকে ৫১৩ টাকা ১০ পয়সায় ওঠানামা করে।

২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাববছরের গ্রামীণফোন লিমিটেড বিনিয়োগকারীদের ১০০ শতাংশ নগদ চূড়ান্ত লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর আগে ১০৫ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। তাই সদ্য সমাপ্ত হিসাববছরে মোট ২০৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করল। ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) করেছে ২০ টাকা ৩১ পয়সা ও শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) ২৬ টাকা এক পয়সা। এটি আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে ১৬ টাকা ৬৮ পয়সা ও ২৪ টাকা ৮৬ পয়সা। ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য আগামী ১৯ এপ্রিল ২০১৮ সকাল সাড়ে ১০টায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি), হল-১, জোয়ারসাহারা, খিলক্ষেত, ঢাকায় বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ ফেব্রুয়ারি।

‘এ’ ক্যাটেগরির কোম্পানিটি ২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাববছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ১৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৩৫ শতাংশ বেশি। এ সময় কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৬ টাকা ৬৮ পয়সা এবং এনএভি দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ৮৬ পয়সা। আগের বছর একই সময় যার পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১৪ টাকা ৫৯ পয়সা ও ২২ টাকা ৬৮ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে দুই হাজার ২৫২ কোটি ৬৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এটি আগের বছর ছিল এক হাজার ৯৭০ কোটি ৬৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

কোম্পানির চার হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন এক হাজার ৩৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ এক হাজার ২২২ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

কোম্পানিটির তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ইপিএস হয়েছে পাঁচ টাকা ১৬ পয়সা এবং কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল ৬৯৬ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে পাঁচ টাকা ৮৭ পয়সা এবং কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল ৭৯২ কোটি ৪৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যেক্ষেত্রে প্রথম প্রান্তিকে ইপিএস ছিল চার টাকা ৮৬ পয়সা এবং কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল ৬৫৫ কোটি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সবশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারমূল্য আয় (পিই) অনুপাতে ২৯ দশমিক ৯৮ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ২৪ দশমিক ৬২।

কোম্পানিটির মোট ১৩৫ কোটি তিন লাখ ২২টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সবশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৯০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর চার দশমিক ৫৫ শতাংশ, বিদেশি তিন দশমিক ৪২ শতাংশ এবং বাকি দুই দশমিক শূন্য তিন শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে।