‘সফল মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক হতে হলে পরিশ্রমের বিকল্প নেই’

একটি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন বিভাগ-প্রধানের সাফল্যের ওপর নির্ভর করে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও’র সফলতা। সিইও সফল হলে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা বেশি হয়। খুশি হন শেয়ারহোল্ডাররা। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে সিইও’র সুনাম। প্রতিষ্ঠানের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও), কোম্পানি সচিব, চিফ কমপ্লায়েন্স অফিসার, চিফ মার্কেটিং অফিসারসহ এইচআর প্রধানরা থাকেন পাদপ্রদীপের আড়ালে। টপ ম্যানেজমেন্টের বড় অংশ হলেও তারা আলোচনার বাইরে থাকতে পছন্দ করেন। অন্তর্মুখী এসব কর্মকর্তা সব সময় কেবল প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ব্যস্ত থাকেন। সেসব কর্মকর্তাকে নিয়ে আমাদের নিয়মিত আয়োজন ‘টপ ম্যানেজমেন্ট’। শেয়ার বিজের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এবার মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডায়িং মিলস লিমিটেডের মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগের প্রধান (জিএম, করপোরেট) আতিকুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. হাসানুজ্জামান পিয়াস

আতিকুল ইসলাম মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডায়িং মিলস লিমিটেডের মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগের প্রধান (জিএম, করপোরেট)। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। পরে মানবসম্পদের ওপর স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন

শেয়ার বিজ: ক্যারিয়ারের গল্প দিয়ে শুরু করতে চাই

আতিকুল ইসলাম: পলমল গ্রুপের এইচআর বিভাগে এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে যোগ দিই। পরে পদোন্নতি পেয়ে ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। ওখানে ছয় বছর কাজ করি। এরপর পূর্বাণী গ্রুপে যোগ দিই ডিজিএম হিসেবে। পদোন্নতি পেয়ে জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। এরপর ২০১৬ সাল থেকে মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডায়িং মিলস লিমিটেডের এইচআর বিভাগের দায়িত্ব পালন করছি।

শেয়ার বিজ: পেশা হিসেবে এইচআর এর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ রয়েছে কী?

আতিকুল ইসলাম: মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগেই যে ক্যারিয়ার গড়ব এমন কোনো পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে পড়ালেখা করা ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপকের কাজ হলো মানুষকে জানা, মানুষকে নিয়ে কাজ করা। আমি মানুষকে নিয়ে কাজ করতে, জানতে ও বুঝতে ভালোবাসি। মানুষের সঙ্গে মিশতে ভালোবাসি এবং তা উপভোগ করি। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ এটি। তাছাড়া মানবসম্পদ বিভাগের ভূমিকা ও চ্যালেঞ্জ আমার ভালো লাগে।

শেয়ার বিজ: প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য বাস্তবায়নে দক্ষ এইচআরের ভূমিকা গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে চাই

আতিকুল ইসলাম: প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য বাস্তবায়নে দক্ষ এইচআরের ভূমিকা ও গুরুত্ব অনেক। এক সময় এইচআরের কাজ শুধু কর্মী ছাঁটাই ও বাছাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। সময়ের সঙ্গে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এইচআরদের কর্মপরিধি বেড়ে গেছে। শুধু তা-ই নয়, এইচআরকে এখন ব্যবসার কৌশলগত অংশীদারও বলা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের কর্মীবাহিনীকে সুসংগঠিত করা, কর্মী বাছাই, নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের পর তাদের উন্নত করা এইচআরের অন্যতম কাজ। এছাড়া কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো, সঠিক জায়গায় নিয়োগ দেওয়া মানবসম্পদ বিভাগের কাজ। কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে প্রতিষ্ঠানের আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন দক্ষ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক। বর্তমানে উদ্যোক্তারা বুঝতে পারছেনÑমেশিনই সবকিছু নয়, মেশিনের পেছনে যে মানুষ কাজ করে, তারাই প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সম্পদ। তাদের দক্ষতার ওপর নির্ভর করে ব্যবসার সফলতা। আর এইচআর ম্যানেজার প্রতিষ্ঠানের সেসব কর্মীকে ক্রমাগতভাবে দক্ষতা বৃদ্ধি করে, প্রেষণা দিয়ে, দৈনন্দিন নানা সমস্যার সমাধান করে, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে ধরে রেখে ব্যবসার সফলতার জন্য কাজ করেন।

শেয়ার বিজ: কর্মক্ষেত্রে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপকের জন্য চ্যালেঞ্জিং বিষয় কী?

আতিকুল ইসলাম: কর্মক্ষেত্রে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হয়। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক কর্মী ও মালিকের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন। কর্মী ও মালিক উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপককে এগিয়ে যেতে হয়। অনেক সময় কর্মীদের নানা চাওয়া-পাওয়া থাকে। আবার মালিক পক্ষের নানা প্রতিবন্ধকতাও থাকে। এসব বিষয় মাথায় রেখে কর্মীদের প্রেষণার দিক নিশ্চিত করে এগিয়ে যাওয়াটা অন্যতম চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া একজন ভালো কর্মী বাছাই করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া, কর্মীদের প্রতিষ্ঠানে ধরে রাখা, তাদের সাইকোলজি বোঝা প্রভৃতি চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে।

শেয়ার বিজ: বাংলাদেশের এইচআর প্র্যাকটিস সম্পর্কে বলুন

আতিকুল ইসলাম: বর্তমানে বাংলাদেশে বেশ পরিবর্তন এসেছে। ইতিবাচক পরিবর্তন হচ্ছে। সব প্রতিষ্ঠানে এইচআরের সঠিক চর্চা হচ্ছে, তা বলব না। তবে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোয় সঠিক চর্চা শুরু হয়েছে। আগে হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে এইচআর প্র্যাকটিস ছিল; কিন্তু বর্তমানে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানে এ বিভাগ রয়েছে। ধীরে ধীরে সব প্রতিষ্ঠানে সঠিক মানবসম্পদের সঠিক চর্চা হবে বলে আশা করা যায়।

শেয়ার বিজ: পেশা হিসেবে এইচআর ম্যানেজারকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

আতিকুল ইসলাম: অত্যন্ত সম্মানজনক একটি পেশা। এ পেশার মাধ্যমে ব্যবসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের অন্য সব বিভাগের ভূমিকা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানা যায়।

শেয়ার বিজ: যারা পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের উদ্দেশে কিছু বলুন

আতিকুল ইসলাম: যারা এ পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের স্বাগত জানাই। স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর শেষে এইচআরের ওপর কোনো পেশাগত কোর্স নিলে ভালো হয়। তাছাড়া ভালো নেতৃত্বদানকারী, যোগাযোগে দক্ষ, মিশুক ও প্যাসন নিয়ে কাজ করতে পারবেÑএমন মানুষ এ পেশায় এলে ভালো করতে পারবে।

শেয়ার বিজ: সফল এইচআর ম্যানেজার হতে হলে আপনার পরামর্শ

আতিকুল ইসলাম: সফল হতে হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়ালেখার পাশাপাশি জানতে হবে, জ্ঞানার্জন করতে হবে। সময় ব্যবস্থাপনায় দক্ষ হতে হবে। দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া শিখতে হবে। সৎ ও সময়নিষ্ঠ হতে হবে। শেখার আগ্রহ থাকতে হবে। নিজেকে সব সময় শেখার মধ্যে রাখতে হবে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলি থাকতে হবে। ব্যবসা সম্পর্কে জানতে হবে। ভালো বক্তা হতে হবে। আলাপ-আলোচনা বা আপস-আলোচনায় ভালো হতে হবে। আর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।