সফল স্কোয়াশচাষি নাজমুল হুসাইন

কৃষির ওপর উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন নাজমুল হোসাইন। তবে চাকরির আশায় বসে থাকেননি তিনি। বেছে নিয়েছেন চাষাবাদ। হয়েছেন স্বাবলম্বী।
নাজমুল চুয়াডাঙ্গার ফাস্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি থেকে বি.এসসি (এজি) পাস করেন ২০১৭ সালে। ঘরে বসে না থেকে গ্রামে দুই বিঘা জমি ইজারা নেন। সেখানে শুরু করেন চাষাবাদ। অল্প সময়ের মধ্যে সফলতার মুখ দেখেন। এক লাখ টাকার কম খরচ করে আয় করেছেন প্রায় চার লাখ টাকা।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হুসাইন। তিনি বলেন, সদর উপজেলার সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সহযোগিতায় স্কোয়াশ চাষে উদ্বুদ্ধ হই। আরব দেশগুলোয় এটা সবজি হিসেবে খাওয়া হয়।
তিনি দুই বিঘা জমিতে এক কেজি বীজ বপণ করেন। সুপ্রিম বীজ কোম্পানির এক কেজি স্কোয়াশ বীজ কিনতে খরচ হয় ১২ হাজার টাকা। বীজ বপনের ৭৫ দিন পর সেখানে পাঁচ হাজার স্কোয়াশ গাছ জন্মে। তিনি আরও বলেন, স্কোয়াশ চাষ করতে গিয়ে দুই বিঘা জমিতে তার ব্যয় হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। জমির ২৫টি গাছে আট কেজি করে স্কোয়াশ উৎপন্ন হয়েছে।
মিষ্টি কুমড়া, লাউ ও শশার মতো স্বাদের এই সবজি স্কোয়াশ। তিনি প্রতি কেজি স্কোয়াশ সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা কেজি, সর্বনিম্ন ২০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তিনি আর জানান, চাষাবাদের ব্যয় বাদে দুই বিঘা জমিতে তার চার লাখ টাকা লাভ হয়েছে।
জমি থেকে স্কোয়াশ ওঠানোর পর সেগুলো পরিবহনযোগে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় সড়কে যানজটের কারণে স্কোয়াশ পচে যায়। তাছাড়া বাজার ব্যবস্থা খারাপ থাকায় স্কোয়াশ বিক্রির টাকা ওঠানামা করে। এজন্য সরকারি তদারকি থাকা প্রয়োজন।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবাইর মাসরুর বলেন, স্কোয়াশ চাষাবাদ বর্তমানে লাভজনক হয়ে উঠছে। এ কারণে বেলে দোআঁশ উঁচু জমিতে চাষের উপযোগী স্কোয়াশ চাষের ব্যাপারে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কৃষি বিভাগ ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। এছাড়া শিক্ষিত বেকার যুবকদের স্কোয়াশ চাষাবাদে আকৃষ্ট করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এতে করে তারা কৃষিকাজ করে স্বাবলম্বী হবে।

মফিজ জোয়ার্দ্দার