সবজি চারায় স্বাবলম্বী হারুন

যে কোনো উদ্যোগের শুরুতে আসে অনেক বাধা-বিপত্তি। এসব গায়ে না মেখে লেগে থাকলে সফল হওয়া যায়। যারা সফল হন, তাদের অনুসরণ করলে আরও নতুন উদ্যোগ শুরু হয়। নানা খাতের সেসব সফল উদ্যোক্তাকে নিয়ে ধারাবাহিক আয়োজন

সবজির চারা উৎপাদন করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন জয়পুরহাট সদর উপজেলার গনকবাড়ীর হারুন অর রশিদ। শুরুতে চার শতক জমিতে সবজির চারা উৎপন্ন শুরু করেন। এখন তিন বিঘায় চাষাবাদ করছেন। গড়ে তুলেছেন একটি নার্সারি।

সরেজমিন গনকবাড়ী এলাকায় গিয়ে হারুনের সঙ্গে কথা হলে জানা যায়, আগে ফেরি করে মুরগি ও কলার ব্যবসা করতেন। ২০১০ সালে সবজির চারা উৎপাদনের প্রশিক্ষণ নেন। সেই শুরু। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। চারা উৎপাদন ও বিক্রি করে পরিবারে এনেছেন সচ্ছলতা। এখন তার নার্সারিতে কাজ করছেন ১০ শ্রমিক।

হারুন জানান, আষাঢ় থেকে শুরু হয় বীজতলা তৈরির কাজ। সেখানে বাঁধাকপি, ফুলকপি, মরিচ, টমেটো, বেগুন, পেঁপের বীজ বপন করা হয়। ওই বীজ অঙ্কুরোদ্গমের মাধ্যমে চারা গজালে তা পরিচর্যা করে ২৫ থেকে ৩০ দিন বয়সে তুলে অন্য কৃষকের কাছে বিক্রি করেন।

বাজারে এখন মানভেদে ১০০০ পিস মরিচের চারা চারশ থেকে হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর চারা পাঁচশ থেকে সাতশ, ফুলকপির চারা সাতশ থেকে ৯০০, বাঁধাকপির চারা ছয়শ থেকে আটশ, বেগুন চারা তিনশ থেকে চারশ ও পেঁপের চারা পাঁচশ থেকে ছয়শ টাকা।

জয়পুরহাট ছাড়াও সৈয়দপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলার কৃষক ও সবজি চারার পাইকারি ব্যবসায়ীরা তার নার্সারি থেকে চারা কেনেন। এ বছর সব ক্ষতি পুষিয়ে সাত থেকে আট লাখ টাকা লাভ হবে বলে জানান হারুন অর রশিদ।

চারা উৎপাদনে কৃষি অফিস থেকে কোনো সাহায্য-সহযোগিতা করা হয় না বলে একটু আক্ষেপ রয়েছে তার। এ বিষয়ে জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সুধেন্দ্র নাথ জানান, শুধু হারুন কেন, যে কোনো চারা ব্যবসায়ী আমাদের কৃষি অফিসে এলে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

 

শামীম কাদির, জয়পুরহাট