সবজি রফতানির ধারা স্বাভাবিক হোক

সহযোগী এক দৈনিকের সবজি রফতানি-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে মান ইস্যুতে কড়াকড়ি আরোপ করায় ইউরোপের বাজারে এর রফতানি কমেছে প্রায় এক-চতুর্থাংশ। তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে অন্যতম গন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যেও হ্রাস পেয়েছে সবজি রফতানি। এতে গত অর্থবছরে এ খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় নেমে এসেছে ২০১৩-১৪ সালের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশে। এ ক্ষতি শুধু কৃষক কিংবা সবজি রফতানিকারকদের নয়, সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতির। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বাস্তবতায় বৈদেশিক মুদ্রা আয় যখন কমে এসেছে, তখন অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যার কারণে সম্ভাবনাময় এ খাত থেকে আয় কমে আসাটাও উদ্বেগের। এতে এ খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যেও বাড়বে হতাশা। আমরা মনে করি, সবজি রফতানির ধারা স্বাভাবিক করতে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এটা করা গেলে রফতানিকে আগের অবস্থায় ফেরানো সম্ভব বলেই মনে হয়।
উল্লেখ্য, ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত হওয়ায় ২০১৩ সালে বাংলাদেশ থেকে পান রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)। এছাড়া রফতানি পণ্যে পোকামাকড়, রোগবালাই ও অতিমাত্রায় কীটনাশকের উপস্থিতির কারণে কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে সবজি রফতানির ওপর নন-কমপ্লায়েন্স নোটিফিকেশন জারি করেছে সংস্থাটি। বস্তুত ইইউ থেকে সতর্কতা জারির পরই মরিচ, বড়ই, চিচিঙ্গা ও করলা রফতানিতে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা দেয় আমাদের কৃষি মন্ত্রণালয়। এর এক নির্দেশনায় বলা হয়, কৃষক চুক্তিবদ্ধ চাষ পদ্ধতি (কনট্রাক্ট ফার্মিং) অনুসরণ না করলে ফাইটোসেনিটারি সনদ (পিসি) দেওয়া হবে না। এরপর থেকেই নাকি সবজি রফতানি হ্রাস পেয়েছে ব্যাপকভাবে। বাস্তবতা হলো, মন্ত্রণালয় থেকে এসব কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে রফতানিকারকদের একাংশের অসচেতনতা ও অসাধুতার কারণে। রফতানিতে অনৈতিকতার চর্চা এড়ানো না গেলে শুধু সংশ্লিষ্ট বাজারই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না; ক্ষুণœ হতে পারে দেশের ভাবমূর্তিও। এজন্য রফতানিকারকদের পর্যাপ্ত সতর্কতা ও নিয়মনীতি পরিপালনের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ আমরা দেখতে চাইব।
মনে রাখা ভালো, মধ্যপ্রাচ্যেও সবজি রফতানিতে বাংলাদেশের প্রতিযোগী বেড়েছে। এমনকি ওইসব দেশের সরকার সংশ্লিষ্টদের জোগাচ্ছে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সহায়তা। বাংলাদেশেও যদি একই রকম সহায়তা জোগানো না হয়, তাহলে আমাদের ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে আসবে সন্দেহ নেই। এজন্য সবজি রফতানি বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিযোগী দেশের মতো আলাদা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে বাংলাদেশে। বিমানবন্দরের কাছাকাছি কোথাও একটি প্যাকেজিং হাউজ প্রতিষ্ঠার দাবি রয়েছে ব্যবসায়ীদের। এটি বাস্তবায়ন করা কঠিন বলে মনে হয় না। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ প্রত্যাশিত। বাস্তবতা হলো, কন্ট্রাক্ট ফার্মিয়ে যে ধরনের আর্থিক সক্ষমতা প্রয়োজন, সেটা আমাদের সবজি রফতানিকারকদের বড় একটি অংশের নেই বলে ধারণা। এজন্য তাদের আর্থিক সহায়তা জোগানোর উদ্যোগও নিতে হবে সরকারকে। সব ধরনের ব্যাংকই কৃষিঋণ বিতরণ করে অপেক্ষাকৃত কম সুদে। মানসম্পন্ন সবজি উৎপাদনে কৃষককে আরও কী উপায়ে উৎসাহ জোগানো যেতে পারে, তা নিয়েও ভাবতে হবে নীতিনির্ধারকদের।