সবুজে ঘেরা ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট

কর্মব্যস্ত মানুষ নাগরিক জীবনে হাঁপিয়ে উঠে খোঁজে প্রশান্তির ছোঁয়া। তাই একটু অবসরে দ্রুত প্রকৃতির সান্নিধ্য পেলে মন্দ হয় না। এমন মানুষদের জন্য ঢাকার অদূরে গাজীপুরের প্রত্যন্ত এলাকায় মনোরম গ্রামীণ দৃশ্য ও পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে রিসোর্ট ‘ড্রিম স্কয়ার’। এটি প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভরপুর ও অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র।
গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা থেকে অল্প দূরত্বে চকপাড়ায় ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট অবস্থিত। রিসোর্টটি ২০০ বিঘার ওপর নির্মিত।
প্রকৃতির সৌন্দর্য আমাদের বিমোহিত করে, সহনশীল করে তোলে। এর সঙ্গে যদি যোগ হয় আধুনিকতার এক মিলনক্ষেত্র, তাহলে তো কোনো কথাই নেই। রিসোর্টের সুদৃশ্য গেট পেরোলে সুন্দর এক ভুবনে প্রবেশ করবেন। এর সবকিছুই ছবির মতো সাজানো। গেটের একপাশে গেস্ট হাউজ। এর পরেই সুবিশাল গাড়ি পার্কিং এরিয়া, যেখানে একসঙ্গে রাখা যাবে শতাধিক গাড়ি। কাচে ঘেরা বিশাল অভ্যর্থনা কক্ষ আপনাকে চমৎকৃত করবে।
বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট। এর প্রধান আকর্ষণ বিস্তীর্ণ সবুজের সমারোহ। প্রকৃতির সৌন্দর্যকে এখানে আরও সুবিন্যস্ত করে সাজানো হয়েছে।
দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির বৃক্ষের ফলে সৃষ্টি হয়েছে মায়াময় সবুজ পরিবেশ। ছায়া সুনিবিড় বৃক্ষ কাননে সময়গুলো ভরে উঠবে নির্মল স্নিগ্ধতায়। এই রিসোর্টে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন রকমের ফুল রয়েছে। গাছে গাছে পাখি দেখে মনে হবে যেন এক পাখির অভয়ারণ্য।
রিসোর্টের সুউচ্চ টাওয়ার যোগ করেছে নতুন মাত্রা। টাওয়ারে বসে চারপাশের মোহনীয় সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। টাওয়ারে রয়েছে স্বাচ্ছন্দ্যময় আবাসন ব্যবস্থাও। এর পাশে একটি ছোট্ট টিলার ওপর স্থাপন করা হয়েছে চমৎকার ও বিশালাকৃতির মাছের ভাস্কর্য। শুধু মাছের ভাস্কর্য নয়, রিসোর্টজুড়ে রয়েছে নানা প্রাণীর ভাস্কর্য, যা শিশু থেকে বয়স্ক সবাইকে মুগ্ধ করে। রয়েছে তেলের ঘানি, ডেইরি ফার্ম, মৎস্য হ্যাচারি, কম্পোস্ট সার প্লান্ট ও বায়োগ্যাস প্লান্ট প্রভৃতি।
রিসোর্টটির আরেকটি আকর্ষণ হলো বিশাল তিনটি লেক ও ১৬টি ছোট বড় পুকুর। স্বচ্ছ জলের লেকের পাড়ে রয়েছে নারিকেল গাছের সারি। জলে যখন নারিকেল গাছের ছায়া পড়ে তখন দারুণ এক সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়। লেকে ভ্রমণের জন্য রয়েছে চমৎকার প্যাডেল বোট। সাজানো-গোছানো এক অনবদ্য আয়োজন, যেজন্য লেকের পারে বসে সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি মেতে ওঠা যায় বৈকালিক আড্ডায়। শানবাঁধানো ঘাটে বড়শিতে মাছ ধরে কাটিয়ে দিতে পারেন রোমাঞ্চকর সময়। স্বচ্ছ জলের সুদৃশ্য একটি সুইমিংপুলসহ অত্যাধুনিক সমৃদ্ধ ফিটনেস সেন্টার রয়েছে এখানে।
বিভিন্ন জায়গায় বিশ্রামের জন্য কক্ষ ও বেঞ্চ রয়েছে। গ্রামীণ কুঁড়েঘর নির্মিত কফিশপটিও মুগ্ধ করার মতো। বিশাল দুটি সবুজ ঘাসের মাঠ রয়েছে। মাঠে ক্রিকেট, ফুটবলসহ নানা খেলায় মেতে উঠতে পারবেন প্রিয়জনদের সঙ্গে। এছাড়া রয়েছে বিলিয়ার্ড, টেনিস কোর্ট, বাস্কেট বল কোর্ট প্রভৃতি। শিশুদের জন্য রয়েছে মিনি পার্ক। দোলনাসহ আরও কিছু রাইড রয়েছে শিশুপার্কে। রয়েছে আরামদায়ক অবকাশযাপন এবং পিকনিক আয়োজনের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা। বিভিন্ন অনুষ্ঠান বিশেষ করে কনফারেন্স, মিটিং, সেমিনার কিংবা অন্য যে কোনো প্রোগ্রাম আয়োজনের জন্য সুসজ্জিত দুটি কনফারেন্স হল ও মাল্টিপারপাস হল রয়েছে। এখানে প্রজেক্টর, সাউন্ড সিস্টেম সুবিধাসহ অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। পিকনিকের রান্নাবান্নার জন্য আনুষঙ্গিক সব উপকরণ রিসোর্ট থেকে সরবরাহ করার ব্যবস্থা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের রেস্টুরেন্ট ও দেশি-বিদেশি মানসম্মত খাবার সুবিধা রয়েছে। এছাড়া করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্ডার অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হয়। সাজানো-গোছানো রেস্টুরেন্টে বসে খাবার খেতে খেতে চারপাশের সবুজ প্রকৃতি উপভোগ করতে পারবেন।
থাকার ব্যবস্থা বেশ আরামদায়ক। টুইন কেবিন, ট্যারেস কেবিন, ডুপ্লেক্স কেবিনÑতিন ক্যাটেগরিতে বিভক্ত আবাসন ব্যবস্থা আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ। পরিচ্ছন্ন ও খোলামেলা প্রতিটি রুম। অবকাশযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। রুমসংলগ্ন ব্যালকনি রুমের সৌন্দর্যে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। ব্যালকনিতে বসে একটি মায়াবী বিকাল কিংবা জ্যোৎস্নার অপূর্ব সৌন্দর্যের সঙ্গে মিতালি হতে পারেন। রুচিশীল আসবাবে সুসজ্জিত রুমগুলোয় টিভি, ফ্রিজ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে ওয়াই-ফাই সুবিধা।
ড্রিম স্কয়ার রিসোর্টটি ইতোমধ্যে অভিজাত রিসোর্ট হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছে। তাই প্রতিদিন নাগরিক কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে রিসোর্টে কাটিয়ে আসতে পারেন পরিবার-পরিজন নিয়ে একান্ত কিছু সময়।

ভাড়া
পিকনিক কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ৫০ জনের জন্য জনপ্রতি তিন হাজার টাকা। ৫০ জনের অধিক হলে তুলনামূলকভাবে জনপ্রতি খরচ কম হয়। ডিলাক্স কটেজ ভাড়া এক লাখ টাকা আর রেগুলার কটেজ ভাড়া সাত হাজার টাকা।

কীভাবে যাবেন
নিজস্ব পরিবহন কিংবা যাত্রীবাহী বাসে ঢাকা থেকে গাজীপুর হয়ে মাওনা যেতে হবে। গুলিস্তান থেকে প্রভাতী-বনশ্রী, মহাখালী থেকে শৌখিন, আলম এশিয়া, শ্যামলী বাংলা, উত্তরার হাউজ বিল্ডিং থেকে এনা প্রভৃতি পরিবহনের বাস চলাচল করে এই রুটে। মাওনা থেকে পশ্চিমের রাস্তা দিয়ে একটু সামনে গিয়ে উত্তরে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার যেতে হবে। সেখানে গেলেই চোখে পড়বে সবুজে ঘেরা ড্রিম স্কয়ার রিসোর্টটি।

শিপন আহমেদ