সম্পাদকীয়

সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের কার্যকর ভূমিকা কাম্য

দুর্নীতি নিয়ে প্রতি বছর বৈশ্বিক যেসব সূচক প্রকাশ করা হয়, সে তালিকায় শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। নিম্ন পর্যায় থেকে শীর্ষস্থান পর্যন্ত দুর্নীতির নজির এ দেশে রয়েছে। ফলে সাধারণ জনগণের নাভিঃশ্বাস ওঠার জোগাড়। বিশেষত সরকারি যে কোনো ধরনের কাজে অনিয়ম দুর্নীতির কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। যদিও এ ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে কাজ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিছু ক্ষেত্রে তাদের সফলতাও রয়েছে। তবে হতাশাজনক বিষয় হলো আলোচিত ও বড় দুর্নীতির ক্ষেত্রে দুদকের সফলতা খুবই নগণ্য, যা হতাশাজনক।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘দুদকের তদন্ত বা মামলার অধিকাংশই চুনোপুঁটির বিরুদ্ধে: দুদক চেয়ারম্যান’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। দুদক চেয়ারম্যানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে খবরটিতে বলা হয়েছে, দুদক যে তদন্ত করছে তার মধ্যে অধিকাংশই চুনোপুঁটির বিরুদ্ধে, যা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, ছোট গাছ উপড়ে ফেলা যত সহজ, বড় গাছ উপড়ানো তত কঠিন। এ সময় চুনোপুঁটির পাশাপাশি বড় মাছও ধরার কথা বলেছেন তিনি। দেশ যখন দুর্নীতির জালে জড়িয়ে পড়ছে, তখন কারও দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে দুদক বড়-ছোট সব ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।
দেশে যেসব দুর্নীতি হচ্ছে, তার মধ্যে অধিকাংশই সরকারি পর্যায়ে। এছাড়া বেসরকারি এমনকি ব্যক্তি পর্যায়েও অনিয়ম দুর্নীতি ক্রমেই বিস্তৃত লাভ করার খবর পাওয়া যায়। সরকারি পর্যায়ে বিশেষ সুবিধা নিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হতে দেখা গেছে। এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে অগ্রহণযোগ্য বক্তব্যও এসেছে। দুদকের দায়িত্ব ছিল এ ধরনের দুর্নীতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। বিপরীতে ছোট দুর্নীতি রোধে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে সংস্থাটি। খবরেই বলা হয়েছে, দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে এবং দুর্নীতির কারণে তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বাস্তবতা হলো, গ্রামের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাদের কথা বলার জায়গা কম।
অবশ্য বড় দুর্নীতিতে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ থাকে। ফলে নানামুখী চাপের কারণে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। দুদক চেয়ারম্যানও স্বীকার করেছেন, বৈপ্লবিকভাবে কিংবা হুট করে সবকিছু করা সম্ভব হবে না। এজন্য আস্তে আস্তে কাজ করার কথা বলেছেন তিনি। তার কথার সূত্র ধরে আমরা বলতে চাই, ছোট-বড় সব ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদককে কঠোর হতে হবে। বিকল্প না থাকায় দুদকের প্রতিই সাধারণ মানুষের নির্ভরতা বেশি। তাদের কোনো সীমাবদ্ধতা থাকলে দূর করার দায়িত্ব সরকারের। এক্ষেত্রে সাধারণ জনগণের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

 

সর্বশেষ..



/* ]]> */