সারা বাংলা

সভাপতির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিদ্যালয়ের ১২ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে ব্যাংকে বিদ্যালয়ের নামে ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্ট (এফডিআর) করার নামে নিয়মবহির্ভূত, অনৈতিক ও অসচ্ছ প্রক্রিয়ায় ১২ লাখ টাকা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নিয়েছেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি। এসব কাজে সহযোগিতা করেছেন প্রধান শিক্ষক। পরিচালনা পর্যদের তিন সদস্যের প্রতিবাদে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পর্যন্ত গড়িয়েছে। দুদকের তদন্তে নিয়মবহির্ভূত, অনৈতিক ও অসচ্ছ প্রক্রিয়ায় টাকা লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।
জানা গেছে, হাটহাজারী উপজেলার লাঙ্গলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৪ সাল থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে চার লাখ টাকা করে তিন দফায় ১২ লাখ টাকা নিজের ব্যাংক হিসাবে নেন সভাপতি লায়ন নুরুল ইসলাম। এজন্য কমিটির সভায় কোনো প্রস্তাব তোলা হয়নি। রেজুলেশনও হয়নি। কমিটির কয়েকজন সদস্য স্কুল ফান্ডের টাকার হিসাবে গরমিল পেলে অসংগতির নথিপত্র সংগ্রহ করেন। এতে তারা নিশ্চিত হন, ফান্ডের ১২ লাখ টাকা নেই। প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। পরে বিদ্যালয়ে রক্ষিত নথি পর্যালোচনা করে দেখতে পান সঞ্চয়পত্র কেনার নামে ২০১৪ সালে চার লাখ টাকা, ২০১৬ সালে চার লাখ এবং ২০১৭ সালে চার লাখ টাকা এফডিআর করার নামে সভাপতি ব্যক্তিগত হিসাবে নিয়ে যান।
প্রক্রিয়াটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনার পরিপন্থি ও অর্থ আত্মসাৎ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল কমিটির সভা আহ্বান করা হয়। সভায় সরিয়ে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদন হয়। কিন্তু ২০১৮ সালের ২১ জুলাই বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত টাকা ফেরত দেয়নি। অন্যদিকে সভাপতির ছেলে নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট আবেদন করলে নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন আদালত। পরে অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে কমিটির তিন সদস্য দুদক, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেন।
অভিযোগ আমলে নিয়ে দুদক মহাপরিচালক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান এক মাসের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম কার্যালয়ের পরিচালককে অনুরোধ করেন। তিনি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে অবহিত করলে গত ১৭ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিনকে চিঠি দিলে ৬ ফেব্রুয়ারি শুনানি হয়। এতে অসচ্ছ লেনদেনের বিষয়টি উঠে আসে। জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন।
রুহুল আমিন জানান, বিদ্যালয় ফান্ডের ১২ লাখ টাকা তিন দফায় নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিয়েছেন সভাপতি। আইনবহির্ভূত ও অসচ্ছ প্রক্রিয়ায় এ টাকা লেনদেন হয়েছে। তদন্তে এমনটাউ উঠে এসেছে। বিষয়টি স্বীকার করে পরিচালনা পর্ষদের সচিব ও প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আহমদ জানান, আসলে বিদ্যালয়ের নামে এফডিআর করা হয়েছিল। কিন্তু সিস্টেমে হয়নি। সভাপতি টাকাগুলো নিজের অ্যাকাউন্টে নিলেও পরে লভ্যাংশসহ ফেরত দিয়েছেন।

সর্বশেষ..