কোম্পানি সংবাদ

সমতার ভিত্তিতে জাতীয় অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: দেশের শিল্প-বাণিজ্য ও পুঁজিবাজারের বিভিন্ন পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ খুবই কম। অথচ নারীদেরও আছে এগিয়ে যাওয়ার যোগ্যতা, আকাক্সক্ষা, সাহস ও মেধা। শুধু পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের কারণে নারীরা অবমূল্যায়িত। এ বাধা কাটাতে প্রথমে নারীকে এগিয়ে আসতে হবে। আর সমতার ভিত্তিতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে জাতীয় অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনার বক্তারা এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি সিএসই সম্মেলন কক্ষে ‘রিং দ্য বেল ফর জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা করে। এতে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার সভাপতিত্ব করেন। একই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য সাবিহা মুসা। অনুষ্ঠানে সরকারি আমলা, শিক্ষাবিদ, নারী উদ্যোক্তা, সংগঠকসহ বিভিন্ন
পেশার শতাধিক প্রতিনিধি মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী বলেন, শিক্ষিত নারীরা অর্থনৈতিক কাজে পিছিয়ে আছে। গ্রামের গরিব নারীরা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পরনির্ভরশীল হলে ক্ষমতায়ন হবে না। গৃহিণীরা নিজেদের ছোট ভাবলে হবে না। তার কাজটা আরেকজন করলে টাকা খরচ হতো। আপনার বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনায় রাষ্ট্রের বিনিয়োগ আছে। তা কাজের মাধ্যমে রিটার্ন দিতে হবে। অথচ আমরা দেখতে পায়, মেয়েরা সৌন্দর্য চর্চা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যায়। অলস বা বেকার সময় পার করে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম বলেন, অনেক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এ জায়গায় এসেছি। এ প্রতিবন্ধকতার বেশিরভাগই মানসিক, যা জয় করে এগিয়ে যেতে হবে। এ জন্য আমাদের মনোজগৎ ও বোধের জায়গা উন্নত করতে হবে। নারীও মানুষ- এ সচেতনতা আনতে হবে। এ চেতনাবোধ উন্নত করার প্রথম ধাপ পরিবার।
এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, সাসটেইনেবল গোলসের অন্যতম হচ্ছে জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি। এর জন্য সচেতনতা তৈরি করতে হবে যার যার অবস্থান থেকে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতৃত্বের সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে জেন্ডার ইক্যুয়েলিটি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। ফলে আজ বিশ্বব্যাপী সব স্টক এক্সচেঞ্জ ‘রিং দ্য বেল ফর জেন্ডার ইক্যুয়েলিটি’ শীর্ষক আলোচনার আয়োজন করছে। তিনি বলেন, নারীরা যাতে ক্যাপিটাল মার্কেটের বিভিন্ন পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায় এ জন্য আমরা রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে কাজ করব। পাশাপাশি আগামী কিছুদিনের মধ্যে স্মল ক্যাপ মার্কেট চালু হবে। এতে নারী উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো সহজে তালিকাভুক্ত করতে পারবেন। এতে ১০ শতাংশ কর অবকাশ সুবিধাসহ আরও বিভিন্ন ধরনের সুযোগ থাকবে। যা ব্যাংক ঋণের উত্তম বিকল্প হবে। বর্তমান ব্যবসার যে অগ্রগতি ও প্রতিযোগিতা তাতে ইনোভেশনের বিকল্প নেই। ব্যবসায় টিকে থাকা ও সার্ভিস প্রোভাইডের মাধ্যমে জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে হবে।

সর্বশেষ..